এইচএসসি ফলাফল: চট্টগ্রামে মেয়েরাই এগিয়ে

করোনা মহামারি পরিস্থিতে পরীক্ষা ছাড়াই আগের পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে শনিবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে ২০২০ সালে উচ্চ মাধ্যমিকের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে বেড়েছে জিপিএ-৫।

সকালে গণমাধ্যমে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড হতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্র নাথ স্বাক্ষরিত ফলাফলের পরিসংখ্যান পাঠানো হয়। অন্যান্যবার মুরাদপুরে মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ফলাফল প্রকাশ করলেও এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে সেই আয়োজন ছিল না। শিক্ষার্থীরা ফলাফল পেয়েছেন অনলাইনে।

শিক্ষাবোর্ড হতে প্রেরিত ফলাফলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২০ সালে চট্টগ্রামে ২৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯৭ হাজার ৯৬৭ জন পরীক্ষার্থী ছিল উচ্চ মাধ্যমিকে। সবাই পাশ করেছে। এর মধ্যে ছাত্রী পাশ করেছে ৫০ হাজার ৩২ জন এবং ছাত্র ৪৭ হাজার ৯৩৫ জন। এর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১২ হাজার ১৪৩ জন। তার মধ্যে ছাত্রী ৬ হাজার ৩৯৬ এবং ছাত্র ৫ হাজার ৭৪৭ জন।

এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্র নাথ দেশ রূপান্তরকে জানান, সংখ্যা বিবেচনায় ও শতকরা হারে ছাত্রদের চেয়ে ভালো ফল করেছে ছাত্রীরা। করোনার কারণে এবার এইচএসসি পরীক্ষা হয়নি। জেএসসি এবং এসএসসির প্রাপ্ত নম্বরের গড় মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই ফলাফল।

এদিকে, ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে জিপিএ ৫ পেয়েছিল ১ হাজার ৬১৩ জন। এদের মধ্যে ছাত্র ৮৩০ ও ছাত্রী ৭৮৩ জন। এরপর ২০১৯ সালে জিপিএ ৫ পায়, ২ হাজার ৮৬০ জন। এদের মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ৪৪৮ জন এবং ছাত্রী ১ হাজার ৪১২ জন। কিন্তু এবার পরীক্ষাহীন এই গড় ফলাফলে দেখা যায় জিপিএ ৫ এর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ হাজার ১৪৩ জনে। এদের মধ্যে ছাত্রী ৬ হাজার ৩৯৬ এবং ছাত্র ৫ হাজার ৭৪৭ জন।

এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্র নাথ বলেন, গত বছরের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেড়েছে জিপিএ৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা। সাবজেক্ট ম্যাপিং এর কারণে এমনটি হয়েছে।  বিভাগ পরিবর্তনের ফলে একটি বিষয়ের সঙ্গে অন্য বিভাগের বিষয় তুলনা করে সাবজেক্ট ম্যাপিং এর কারণে জিপিএ৫ বেড়েছে এবং ফলাফলও ভালো হয়েছে। ফলাফল প্রস্তুতে পরীক্ষার্থীদের জেএসসি এসএসসিতে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে এবং জেএসসি ও এসএসসির প্রধান বিষয়গুলির ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

এগিয়ে বিজ্ঞানের পরীক্ষার্থীরা

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে ১২ হাজার ১৪৩ জন জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের মধ্যে বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রী ১০ হাজার ৪৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৫ হাজার ৯৩ জন, ছাত্রী ৪ হাজার ৯৫০ জন। ব্যবসায় শিক্ষায় জিপিএ৫ পেয়েছে ১ হাজার ৫৭৫ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ১ হাজার ১২৩ জন, ছাত্র ৪৫২ জন। মানবিক বিভাগে ৫২৫ জন জিপিএ৫ পেয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ২০২ জন, ছাত্রী ৩২৩ জন ।