চট্টগ্রামে নতুন ধারার সূচনা করতে চান মেয়র রেজাউল

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) নতুনধারা সূচনা করতে চান নবনির্বাচিত মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, ‘চিরজীবন মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করেছি। লোভ, মোহ আমাকে আমার নীতি-আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। মেয়রের চেয়ারে বসেও তা একচুলও বিচ্যুত হব না। তাই সিটি মেয়র হিসেবে আমি মানুষের সেবা করতে চাই’।

রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব বলেন।

রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রাম নিয়ে আমরা গর্ব করি। চট্টগ্রামকে অনেক বিশেষণে ভূষিত করি। কিন্তু আমাদের অবহেলা-গাফিলতি ও সমন্বয়ের অভাবে চট্টগ্রাম আজ বিপন্ন হতে বসেছে। অথচ চট্টগ্রামকে সুন্দর করে সাজানো অসম্ভব ব্যাপার নয়। খাল দখল, খালের পাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ যত সমস্যা আছে, সমাধানে আমি কঠোর পদক্ষেপ নেব। সোজা কথায় বলতে চাই- কারো মুখের দিকে তাকিয়ে আমি দায়িত্ব পালন করব না। আমার ইশতেহারে যা তুলে ধরেছি সেখানে অবাস্তব কিছুই বলিনি। আমি যতটুকু সম্ভব পুরোনো ধারা পরিবর্তন করে নতুন ধারার সূচনা করতে চাই। সবাইকে নিয়ে এ শহর গড়তে চাই। এ শহর যেমন একজন মেয়রের, এ শহর আপনারও, এ শহর সবার। আমার লক্ষ্য, আমার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে সব শ্রেণিপেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমি চট্টগ্রামকে সুন্দর ও পরিকল্পিতভাবে গড়তে চাই’।

নবনির্বাচিত সিটি মেয়র আরো বলেন, ‘মেয়রের চেয়ারে আমি বসেছি, তাই সব দায়িত্ব আমার, এটা ভাবলে ভুল হবে। সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে, না হলে কীভাবে এগিয়ে যাব? আমি সবজান্তা না। অনেকে চেয়ারে বসে নিজেকে সবজান্তা ভাবে, আমি সেটা ভাবি না। প্রত্যেকের মতামত আমি গ্রহণ করতে চাই। সবার মতামত নিয়ে চট্টগ্রামকে পরিকল্পিতভাবে গড়তে চাই। না হলে যত কথার ফুলঝুরি ছড়াই না কেন, চট্টগ্রাম সেই আগের তিমিরেই রয়ে যাবে’।

গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে রেজাউল করিম বলেন, ‘আপনারা সমাজের আয়না। আপনাদের আয়নায় আমরা দেশকে দেখি, সমাজকে দেখি। আপনারা অবশ্যই ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেবেন। অবশ্যই সমালোচনা করবেন, তবে সমাধানের পথও দেখিয়ে দিতে হবে। সমাধানের পথ না দেখিয়ে শুধু সমালোচনা করলে কোনো ফল আসবে না’।

এ সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘সাংবাদিকরা যখন তথ্য তুলে ধরতে পারে না বা তথ্য তুলে ধরে না অথবা সংবাদ প্রকাশ করে না- তখন কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠান নির্জীব হয়ে যায়। একটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে আপনি যতই সমালোচনা করবেন, প্রতিষ্ঠানটি কিন্তু সচল থাকবে। সৎ সাহস নিয়ে যত বেশি তথ্য আপনারা তুলে ধরবেন, ততই প্রতিষ্ঠানটি সচল থাকবে। না হলে মেয়র-কাউন্সিলররা অনেক চেষ্টা করেও সেটিকে সজীব করতে পারবেন না। যে প্রতিষ্ঠান জনগণের অর্থে পরিচালিত, জনগণের স্বার্থেই সেই প্রতিষ্ঠানের সব তথ্য তুলে ধরতে হবে গণমাধ্যমকে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে মাননীয় মেয়র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে পারবেন’।

পাশে বসা নবনির্বাচিত মেয়র রেজাউল করিমকে উদ্দেশ্য করে নওফেল বলেন, ‘মাননীয় মেয়র- আপনাকে বিষয়টি এমনভাবে ধারণ করতে হবে যে, প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা মানে ব্যক্তির সমালোচনা নয়। বরং সেই সমালোচনা আপনাকে শক্তিশালী করবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আমরা প্রতিদিন অনেক বেশি নেতিবাচক সংবাদ দেখি। এটা আমাদের কাজের জন্য অনেক বেশি সহায়ক হয়। সরকারের এত বেশি শক্তি নেই যে সব তথ্য আমরা পাব। কোথায় গ্রামবাংলার কোনো স্কুলে কি হচ্ছে সেটা গণমাধ্যমেই আমরা পাই। সুতরাং জনপ্রতিনিধির কাছে, নগরপিতার কাছে আপনারা সব তথ্য তুলে ধরবেন, আশা করব, তিনি অবশ্যই ব্যবস্থা নেবেন’।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাসের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন মোহাম্মদ রেজা, সাবেক সভাপতি কলিম সরোয়ার, সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, সিইউজে’র সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইলসাম, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন বাবুল, কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সহ সভাপতি স.ম. ইব্রাহিম, অর্থ সম্পাদক রাশেদ মাহমুদ, গ্রন্থাগার সম্পাদক মিন্টু চৌধুরী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলীউর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, মোয়াজ্জেমুল হক, দেবদুলাল ভৌমিক, মঞ্জুর কাদের মঞ্জু, নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, শফিকুল ইসলাম ফারুক, চন্দন ধর, নবনির্বাচিত কাউন্সিলর মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ হোসেন, নিলু নাগ, হুরে আরা বিউটি, তসলিমা নুরজাহান রুবি, আনজুমান আরা, রুমকি সেন গুপ্ত, শাহীন আকতার রোজি প্রমুখ।