কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে এক কিশোরীকে ‘দলবদ্ধ ধর্ষণে’র পর শ্রমিক নেতাসহ আবার ধর্ষণের সময় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে দুই যুবক। গত ২৮ জানুয়ারি মাইক্রোবাসে ঘুরিয়ে ‘দলবদ্ধ ধর্ষণ’ করার পর ২৯ জানুয়ারি রাতে ওই নেতাকে উপঢৌকন দিতে গিয়ে তারা গ্রেপ্তার হন।
এ ঘটনায় ৩০ জানুয়ারি কক্সবাজারের ঈদগাঁও থানায় মামলা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলো কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের খোদাইবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ও শ্রমিক নেতা জাফর আলম ওরফে খোরশেদ (৫৫) এবং ইসলামাবাদ ইউনিয়নের আওলিয়াবাদ এলাকার আহম্মদ উল্লাহ (২৬)।
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন, ঈদগাঁও ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর মেহেরঘোনা এলাকার জলাল ওরফে টুক্কুইয়া (১৯) এবং ইসলামাবাদ ইউনিয়নের খোদাইবাড়ী এলাকার বাসিন্দা এবং মাইক্রোবাস চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাফর আলম (৪০)।
ভুক্তভোগী কিশোরীর (১৫) বাড়ি মহেশখালী উপজেলায়।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, গত ২৮ জানুয়ারি বিকালে ভুক্তভোগী কিশোরী বান্ধবীর ছোট ভাইয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাড়ি থেকে বের হয়। পথিমধ্যে স্থানীয় ধলঘাট এলাকার স্থানীয় একটি লন্ড্রির দোকানের সামনে পৌঁছালে সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাস তার সামনে এসে দাঁড়ায়। তিনজন লোক ওই কিশোরীর মুখ চেপে ধরে গাড়িতে তুলে নেয়। এসময় সে চিৎকার করার চেষ্টা করলে অপরহণকারীরা মুখে কস্টেপ লাগিয়ে দেয়।
স্থানীয়রা জানান, ওই ঘটনার দিন কিশোরীকে মাইক্রোবাসে চট্টগ্রামের বহদ্দার হাটের মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে নিয়ে আসা হয়। এসময় তার হাত-পা বেঁধে গাড়ির পেছনের সিটে তিনজন মিলে ধর্ষণ করে। পরদিন রাতে একই মাইক্রোবাসে করে ওই কিশোরীকে ঈদগাঁও ফরিদ আহমদ কলেজ মাঠে নিয়ে আসে তারা। সেখানে তারা আবারো তাকে ধর্ষণ করে।
মামলার এজাহার সূত্রে প্রকাশ, ২৯ জানুয়ারি রাতে কিশোরীকে তুলে আনার বিষয়টি অপহরণকারীরা মোবাইল ফোনে জাফর আলম ওরফে খোরশেদকে অবহিত করে। পরে রাতেই তাকে ঈদগাঁও বাজারের ডিসি রোডের মমতাজ মার্কেটের দোতলায় অবস্থিত স্থানীয় মাইক্রোবাস চালক সমিতির অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। কিশোরীকে মার্কেটটির দোতলার আরেকটি কক্ষে ঢোকানোর চেষ্টা করে তারা। কিশোরী চিৎকার করলে স্থানীয় বাজারে দায়িত্বরত প্রহরীরা শুনতে পান।
তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে জাফর আলম ওরফে খোরশেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
জানতে চাইলে ঈদগাঁও থানার ওসি আব্দুল হালিম বলেন, গ্রেপ্তার আসামিসহ ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে ঈদগাঁও থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তার চিকিৎসা ও পরীক্ষার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ-ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে ওই কিশোরীকে কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোন এলাকার একটি বেসরকারি সংস্থার সেফহোমে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় ৩০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কিশোরীর নানা বাদী হয়ে চারজনকে আসামী করে ঈদগাঁও থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন বলে।
ওসি জানান, পরে অভিযান চালিয়ে মাইক্রোবাসটির চালক আহমদ উল্লাহ নামের আরো একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।