সাভারে চাঞ্চল্যকর নীলা রায় (১৪) নামে দশম শ্রেণীর ছাত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় চার মাস পর অভিযুক্ত কিশোর গ্যাং লিডার সাকিবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে মামলার প্রধান আসামি মিজানুর রহমান, তার বাবা-মা ও সেলিম পালোয়ান নামে এক সহযোগীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তার সাকিবকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে সোমবার গভীর রাতে পৌরসভার মধ্যপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার সাকিব হোসেন সাভার পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম শিরুর ছেলে এবং পৌর ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলামের ভাতিজা। সে পরিবারের সঙ্গে পৌরসভার কাজী মুকমাপাড়া এলাকায় বসবাস করতো।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (ইন্টিলিজেন্স) নির্মল কুমার দাস বলেন, নীলা রায় হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা নারায়ণ রায় বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলায় মিজানুর রহমানকে প্রধান করে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত তিন-চারজনকে আসামি করা হয়। পর্যায়ক্রমে মিজানুর, তার বাবা-মা ও সেলিম নামে এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এবং পুলিশী তদন্তের সাকিবের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে নীলা রায় নামে ওই স্কুলছাত্রীকে তার ভাইয়ের কাছে থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা। গুরুতর অবস্থায় সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নীলাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যার পর মিজানুরের বন্ধু কিশোর গ্যাং লিডার সাকিব ও তার ভাই শাকিলের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও ইভটিজিংসহ নানা অভিযোগ তোলেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পৌরসভার ব্যাংক কলোনি মহল্লার মাদকের স্পটগুলো নিয়ন্ত্রণ করত পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরুর ছেলে সাকিব, তার ভাই শাকিলসহ তাদের সহযোগী সাগর, সবুজ, আলামিন, পারভেজ, হানিফ, জয়, রাব্বি, ও যাবেরসহ অনেকে। এসব স্পটে ইয়াবা, হেরোইনসহ মাদক বিক্রি হয়। মিজানুর ও তার বন্ধুরা গ্যাং তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন, মেয়েদের ইভটিজিং, নিরীহ মানুষকে ধরে এনে মারপিট, ব্যবসায়ীদের দোকান ভাঙচুরসহ নানা অপকর্ম করে আসছিল। তাদের ভয়ে স্কুল পড়ুয়া মেয়েরা অন্য এলাকা দিয়ে ঘুরে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করত। এসব কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিত কিশোর গ্যাং লিডার সাকিব ও তার ভাই। তাদের দুই ভাইয়ের ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি এলাকার বাসিন্দারা। ২০১৭ সালে একই স্থানে একজন গানের শিক্ষককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায়ও তাদের আসামি করা হয়েছিল।