হাতিয়ায় আমনের বাম্পার ফলনে খুশি কৃষকেরা

হাতিয়ায় এ বছরও আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিক্রির জন্য ধানের বস্তা নিয়ে বড় বড় ব্যবসায়ীদের আড়তে আসছেন। ধানের দাম বেশি তাই বেচাকেনাও হচ্ছে।

ধানের দাম বাড়ায় কৃষক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় ব্যবসায়ীরা খুশি। সরেজমিনে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

হাতিয়ার ধান-চালের বড় পাইকারি বাজার তমরদ্দি বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ধান ব্যবসায়ী আহাম্মদ উল্যাহ খোকন, মফিজ উদ্দিন জুয়েল, আবদুল হাসেম মিয়া ব্যাপারী ও অন্যরা হাজার হাজার বস্তা ধান কেনাবেচা করছেন।

তারা বলেন, আমন ধানের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। ট্রলার সংকটের কারণে মোকামগুলোতে নিয়মিত পাঠতে না পেরে ধান নিয়ে আমরা বিপাকে আছি।

মোকামগুলোতে বেশির ভাগ ধান বিক্রি হয় বাকিতে। তাই বিক্রেতাদের টাকা দিতে দেরি হয়।

তমরদ্দি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, হাজার হাজার বস্তা ধান দোকানে, দোকানঘরের পাশে বাজারের গলিতে ও বাজারঘাটে রাখা হচ্ছে। তমরদ্দি থেকে দৈনিক হাজার হাজার বস্তা ধান নৌ-পথে ট্রলারে চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর সোনাপুর পাঠানো হয়।

তমরদ্দি ইউনিয়নের উত্তর বেজুগালিয়া গ্রামের কৃষক আবদুল করিম ৭০ বস্তা এবং হাতিয়া পৌরসভার খবির মিয়ার বাজারের ক্ষুদ্র ধান ব্যবসায়ী মো. ইউছুফ ১৯ বস্তা ধান বিক্রির জন্য তমরদ্দি বাজারের ধান ব্যবসায়ী মফিজ উদ্দিন জুয়েলের দোকানে আনেন।

হাতিয়া পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের লক্ষীদিয়া গ্রামের বাহার উদ্দিন শতাধিক বস্তা ধান নিয়ে তমরদ্দি বজারের মিয়া ব্যাপারীর দোকানে আসেন।

তারা বলেন, উৎপাদন খরচ ও ভাড়াসহ এক মন ধানের খরচ পড়েছে ৭০০ টাকার বেশি। এক মন ধান বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকায়। ধারদেনা করে জমি চাষ করেছি, দেনা পরিশোধ ও সাংসারিক প্রয়োজনে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। এক মণ ধানে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা লাভ হচ্ছে। তারা বলেন, ধান বিক্রি করতে হচ্ছে বাকিতে। দাম বাড়ায় তবুও আমরা খুশি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম জানান, ‘চলতি অর্থবছরে হাতিয়ায় ৬৭ হাজার ৪৮২ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ৬৭ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়। গত অর্থ বছর (২০১৯-২০) ৬১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষ হয় ৬৮ হাজার ৫০০ হেক্টরে।

তিনি বলেন, সারের সহজলভ্যতা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি, অনুকূল আবহাওয়া ও উফশী জাতের ধান চাষ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হওয়ায় আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে।