ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় প্রথম নামাজের ছবি

আবুধাবিভিত্তিক আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা ‘ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক মোমেন্টস-২০২০’-এ ১ম স্থান অধিকার করেছে ঘরবন্দি মানুষের নামাজ আদায়ের একটি ছবি। ছবিটি তুলেছেন আমিরাতের আল-আইন প্রদেশের ২৭ বছর বয়সী তরুণ সালেম সারহান। ২৭ হাজার প্রতিযোগীর লক্ষাধিক ছবিকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন সালেম। আমিরাতের ইতিহাসেও প্রথম তিনিই এই পুরস্কার লাভ করেন।  পুরস্কার হিসেবে সালেম স্বর্ণপদক ও ১০ হাজার ডলারের চেক পাবেন এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবিটি ‘ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক আল-আরাবিয়া’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হবে। প্রতিযোগিতার বিচারক প্যানেলে ছিলেন দুবারের পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ফটোগ্রাফার মুহাম্মদ মুহাইসিন এবং বিজ্ঞাপন-সহযোগী প্রতিষ্ঠান আল মারাইয়ের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা হুসাম আবদুল কাদের।

করোনা মহামারীর লকডাউনে সবার মতো সালেমও ছিলেন ঘরবন্দি। অবরুদ্ধ দিনগুলোর দৃশ্য তিনি ক্যামেরায় ধরে রাখতে চাইলেন এবং ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে আশপাশের ছবি তুলতে থাকেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এক বিকেলে আমার মাথায় আসে, সূর্যাস্তের পর আমি ও আমার ভাইদের বাড়ির ছাদে নামাজ পড়ার দৃশ্যটি ড্রোন ক্যামেরায় ধারণ করব। ভাইয়েরা প্রথমে সাড়া না দিলেও পরে আমার দৃঢ়তায় রাজি হন। এবং আমি ওপর থেকে আমাদের মাগরিবের নামাজের দৃশ্য ধারণ করি।’

আইনের ছাত্র সালেম সারহান একজন শৌখিন ফটোগ্রাফার। মাত্র কয়েক বছর আগেই তিনি নিজের ক্যামেরায় ফটোগ্রাফি শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘এটি আমার জীবনের সেরা কাকতালীয় ঘটনা। আমার বন্ধুর ক্যামেরা দিয়েই আমি সর্বপ্রথম ফটোগ্রাফি শুরু করেছিলাম। আমার প্রতিভা দেখে সে আমাকে তার ক্যামেরা উপহার দেয়। এরপর আমি আমার প্রতিভা কাজে লাগাই। অবশ্য, নিজের ক্যামেরা জোগাড় করতে আরও দুবছর সময় লেগেছিল আমার।’

মাত্র ৫ বছরে এমন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়ে বিস্মিত সারহান জানান, ‘আমি এখনো হতবাক। কখনো ভাবিনি প্রথম হব। শখের বশেই প্রতিযোগিতায় অংশ নিই। তবে আরব বিশ্বের বিশেষ করে আরব আমিরাতের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি সাধারণত শহর ও প্রকৃতির ছবি তোলা পছন্দ করি। লকডাউনের সময় আমি বাড়িতেই ছিলাম। এ সময় আমি সূর্যাস্ত এবং মানুষের বাসা-বাড়ির ছাদের ছবি তুলে সময় কাটিয়েছি। এই ছবিটা তখন ওঠানো। প্রতিযোগিতায় আমি মোট আটটি ছবি পাঠিয়েছিলাম।’