অর্থ পাচারের (মানি লন্ডারিং) মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের মামলায় অপ্রতুল সাজা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে উচ্চ আদালত। হাইকোর্ট মনে করে, অর্থ পাচার আইনের মামলার সাজা যাবজ্জীবন কারাদন্ড হওয়া উচিত। চট্টগ্রামে বিসমিল্লাহ গ্রুপের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলায় এক আসামির জামিন শুনানিকালে গতকাল বুধবার এ অভিমত দেয় বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
ব্যাংকিং খাতের বড় কেলেঙ্কারি বিসমিল্লাহ গ্রুপের প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১২ মামলায় ৫৪ জনকে আসামি করে ২০১৩ সালের নভেম্বরে মামলা করে দুদক। দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, বিসমিল্লাহ গ্রুপ ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো মিলে ১ হাজার ১৭৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। এর মধ্যে ফান্ডেড দায় (স্বীকৃত বিলের বিপরীতে) ৯৯০ কোটি ৩ লাখ টাকা এবং নন-ফান্ডেড অর্থের পরিমাণ ১৮৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। ২০১৬ সালে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গঠনের পর বিচার শুরু হয়। অর্থ পাচার মামলায় ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বিসমিল্লাহ গ্রুপের এমডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) খাজা সোলেমান আনোয়ার চৌধুরী, তার স্ত্রী, গ্রুপের চেয়ারম্যান নওরীন হাবিবসহ নয়জনকে ১০ বছর করে কারাদন্ড দেয় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০। পাশাপাশি আসামিদের ৩০ কোটি ৬৭ লাখ ২৩ হাজার ৩৭৩ টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয় রায়ে। দন্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন খাজা সোলেমানের বাবা সফিকুল আনোয়ার চৌধুরী, প্রতিষ্ঠানটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকবর আজিজ মুতাক্কি, মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবুল হোসেন চৌধুরী, ব্যবস্থাপক রিয়াজউদ্দিন আহম্মেদ, নেটওয়ার্ক ফ্রেইট সিস্টেম লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেন এবং জনতা ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা মোস্তাক আহমদ খান এবং এস এম শোয়েব-উল-কবির।
এরই ধারাবাহিকতায় কারাগারে থাকা আসামিরা সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন। আসামি জনতা ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখার সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার এস এম শোয়েব-উল-কবিরের জামিন শুনানি হয় গতকাল। আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. খুরশিদ আলম খান ও ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ারুল ইসলাম।
শুনানিকালে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতির প্রশ্নের জবাবে দুদকের দুই আইনজীবী জানান, এ মামলায় আসামির সাজা হয়েছে ১০ বছর কারাদন্ড। আইনে সর্বোচ্চ সাজা কত জানতে চাইলে তারা জানান, ১২ বছর কারাদন্ড। ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালত এই আইনে সর্বোচ্চ সাজা কত সেটি জানতে চেয়েছিল। এখানে সর্বোচ্চ সাজা ১২ বছর কারাদন্ড। হাইকোর্ট বলেছে, এটি অপ্রতুল। সাজা এত কম কেন। ১২ বছরের সাজা হলেও তো এখানে ১২ বছরই সাজা দেওয়া উচিত। এ ধরনের অপরাধে তো সাজা যাবজ্জীবন হওয়া দরকার। আদালত আসামিকে জামিন না দিয়ে আবেদনটি নথিভুক্ত করেছে এবং আপিল শুনানির জন্য রেখেছে।’