পরীক্ষা ৩৭ লাখ শনাক্ত ৫ লাখ ৩৭ হাজার

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের নতুন রোগী শনাক্ত অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি শনাক্ত অনেক কমে এলেও পরীক্ষার সংখ্যা তেমন কমেনি। প্রতিদিন ১৩-১৫ হাজার মানুষ করোনা সন্দেহে তাদের নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৫ হাজার ২৭৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এসব পরীক্ষায় ৪৮৫ জনের মধ্যে করোনার অস্তিত্ব মিলেছে। এদিন শনাক্তের হার ছিল ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা মিলেছে প্রায় তিনজনের। আগেরদিন বুধবার শনাক্ত হার ৩ শতাংশের নিচে নেমেছিল, যা ছিল গত বছর ৪ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন।

গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর গতকাল ছিল ৩৩৩তম দিন। এদিন নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ৩৭ লাখ ছাড়িয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গতকাল পর্যন্ত ৩৭ লাখ ৮ হাজার ৯০৭টি নমুনা পরীক্ষায় ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ সর্বমোট পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। বাকিদের শরীরে করোনার অস্তিত্ব মেলেনি।

এদিকে শনাক্তের পাশাপাশি দেশে করোনা আক্রান্তদের মৃত্যুর ঘটনাও কমে আসছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১৩ জন করোনা রোগীর মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে অধিদপ্তর। এ নিয়ে গত টানা ১১ দিন দৈনিক মৃত্যু ২০ জনের নিচে রয়েছে। গতকাল মৃতদের মধ্যে ১২ জনই ছিল পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সের এবং ৭ জন ছিল ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা।

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত গতকালের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ২০৬ পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২৮টি জিন-এক্সপার্ট, ৬২টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১১৬টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১৫ হাজার ৩৭২ জনের নমুনা সংগৃহীত হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৫ হাজার ২৭৩ জনের। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৬১১ রোগী সুস্থ হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত করোনায় মারা গেছে ৮ হাজার ১৭৫ এবং সুস্থ হয়েছে ৪ লাখ ৮১ হাজার ৯১৭ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫২ এবং সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৮ ও নারী ৫ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৬ হাজার ১৯৬ পুরুষ ও ১ হাজার ৯৭৯ জন নারী মৃত্যুবরণ করেছে। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৫ দশমিক ৭৯ ও নারী ২৪ দশমিক ২১ শতাংশ।

শেষ ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ৪ এবং রাজশাহী ও সিলেটে ১ জন করে মারা গেছে। এ নিয়ে করোনায় এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫৫৩ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। চট্টগ্রামে ১ হাজার ৫০১, খুলনায় ৫৫৩, রাজশাহীতে ৪৬৭, রংপুরে ৩৫৭, সিলেটে ৩০৭, বরিশালে ২৪৭ এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ১৯০ জন রোগী মারা গেছে। সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ৯, ৫১-৬০ বছরের ৩ এবং ৩১-৪০ বছরের ছিল ১ জন। এদিন সবাই হাসপাতালে মারা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫২ রোগীকে আইসোলেশনে ও ২৭৫ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১০ হাজার ৩৮৬ ও কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩৩ হাজার ৮০৮ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে ১০ হাজার ৩২১টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ১ হাজার ৪৬৮টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এছাড়া ৫৮২টি আইসিইউর মধ্যে রোগী ভর্তি ছিল ১৮১টিতে।