ব্রেক্সিট হয়নি খুব বেশিদিন। কিন্তু এর মধ্যেই ব্রেক্সিটের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড প্রটোকল নিয়ে সাংবিধানিক জটিলতা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিশন এক ঘোষণায় বলেছে, তারা নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ওপর আরোপিত রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ শর্ত তুলে নেবে। মূলত ওই ঘোষণা নিয়েই জটিলতার শুরু।
ব্রেক্সিটপরবর্তী বাণিজ্য চুক্তি অনুসারে আর্টিকেল ১৬ অনুসারে যে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ শর্ত রয়েছে তা যুক্তরাজ্যের ওপর আরোপিত হয়। কিন্তু ইইউ নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ওপর থেকে ওই শর্ত তুলে নেওয়ার ফলে মেইনল্যান্ড ব্রিটেনের সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিরোধ শুরু হয়েছে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড কর্র্তৃপক্ষের। আয়ারল্যান্ড থেকে ভ্যাকসিন বের হওয়া এবং ব্রিটেনে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড হয়ে ভ্যাকসিন প্রবেশ নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি। ইউরোপ থেকে ভ্যাকসিন কিনলে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডকে এখন কোনো শুল্ক দিতে হবে না। কিন্তু ওই একই ভ্যাকসিন ব্রিটেন নিলে তাদের শুল্ক দিতে হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়ে ইইউ আসলে যুক্তরাজ্যের ইউনিয়নে ফাটল ধরাতে চাইছে। যেহেতু নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে মেইনল্যান্ড গ্রেট ব্রিটেনের সামুদ্রিক সীমানা আছে, ফলে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডকে ইইউ আলাদা কোনো সুবিধা দিলে তা যুক্তরাজ্যকে প্রভাবিত করবে। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ব্রেক্সিটপন্থি শীর্ষ নেতা ফার্স্ট মিনিস্টার আর্লেন ফস্টার বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে নেওয়া পদক্ষেপ বৈরিতায় পূর্ণ।’ ফস্টারের পার্টি ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি মূলত ব্রিটিশ ও ব্রেক্সিটপন্থি।
ইইউ এবং যুক্তরাজ্য সম্পর্ক নতুন করে কূটনীতিক টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই টানাপড়েনে সংকটে পড়তে যাচ্ছেন নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বন্দর শ্রমিকরা। বন্দরের দেয়ালে ‘অল বর্ডার পোর্ট স্টাফ আর টার্গেটস’ শিরোনামে গ্রাফিটি দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া আছে ‘নো আইরিশ সী বর্ডার’ নামে স্লোগান। এসবই যে ব্রিটিশপন্থি রাজনীতিকরা ছড়াচ্ছেন তা মনে করে প্রদেশটির ইইউপন্থি কর্র্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই প্রদেশের কৃষিমন্ত্রী এডউইন পুটস বন্দর শ্রমিকদের কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। ব্রেক্সিটপরবর্তী চেক পলিসি নিয়ে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের কর্মীদের সঙ্গে এখন কাজ করছে ইইউ কর্র্তৃপক্ষ।