পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি নির্বাচিত হলে টেকসই বায়িং প্র্যাকটিস এবং পণ্যের গবেষণা ও মানোন্নয়নে (আরঅ্যান্ডডি) উন্নতি করতে চান ফোরাম নেতা এ বি এম শামছুদ্দিন।
তিনি মনে করেন, দেশের পোশাক শিল্প যথেষ্ট পরিমাণে টেকসই অবকাঠামো গড়তে পেরেছে। কিন্তু ক্রেতারা সে অনুযায়ী পণ্যের দাম দিচ্ছে না। এ জন্য শিল্পের তেমন একটা উন্নয়ন হচ্ছে না।
শনিবার রাতে ফোরামের প্যানেল লিডার হিসেবে সামছুদ্দিনের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার পর দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
এদিকে প্যানেল নেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে করে শনিবারের ওই অনুষ্ঠান বয়কট করে ফোরামের একটি অংশ।
নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ২ বছর পরপর বিজিএমইএ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনটিতে এতদিন ধরে সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে।
সবশেষ ২০১৩ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়েছিল। এরপর থেকে ফোরাম ও পরিষদ সমঝোতার ভিত্তিতে বিজিএমইএ’র নেতৃত্ব দিচ্ছে।
সমঝোতা অনুযায়ী বর্তমানে বিজিএমইএ’র নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফোরাম থেকে নির্বাচিত ড. রুবানা হকের পর্ষদ। যদিও গত নির্বাচনের আগমুহূর্তে স্বাধীনতা পরিষদ নামের নতুন একটি দলের আবির্ভাব ঘটে। নানামুখী চাপের পরও তাদের নির্বাচন থেকে সরানো না গেলে ফোরাম ও পরিষদ সমঝোতার ভিত্তিতে প্রার্থী দেয়।
ওই নির্বাচনে কারচুপি করে স্বাধীনতা পরিষদের কয়েকজনকে হারানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান বোর্ড ২০১৯ সালের ২০ এপ্রিল থেকে দায়িত্ব পালন শুরু করে। সেই হিসেবে আগামী ১৯ এপ্রিল এই বোর্ডের মেয়াদ শেষ হবে।
আগামী ৪ এপ্রিল বিজিএমইএ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২৫ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র জমা দানের শেষ দিন।
সামছুদ্দিন বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন গ্রিন (পরিবেশবান্ধব) ও সাধারণ মানের পোশাক কারখানা হয়েছে। একটি গ্রিন কারখানা করতে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়। কিন্তু ক্রেতারা উভয় কারখানার ক্ষেত্রেই একই মূল্য দিয়ে থাকেন। এটা তো হতে পারে না। এ জন্য আমাদের ক্রেতাদের সঙ্গে দর-কষাকষিতে দক্ষতা আনা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘পণ্যের ভালো দাম পেতে হলে প্রয়োজন ভালো মানের পণ্য। আরঅ্যান্ডডির জন্য বিজিএমইএ ভবনে আলাদা দুটি ফ্লোর আছে। ভোটাররা আমাকে নির্বাচিত করলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এটিকে চালু করবো। আমার লক্ষ্য থাকবে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি বিশ্বমানের আরঅ্যান্ডডি সেন্টার স্থাপন করা।’
ফোরাম লিডার বলেন, ‘এখানে পণ্যের ডাইভারসিফিকেশন থাকবে। ক্রেতারা এখানে এসে পণ্য পছন্দ করে যেকোনো কারখানা ক্রয়াদেশ দিতে পারবেন। এছাড়া কারখানা মালিকরাও চাইলে তাদের উদ্ভাবিত নতুন পণ্য এখানে রাখতে পারবেন।’
আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি বা তার দু-এক দিন আগে ফোরামের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করা হতে পারে।