যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে দেশটির সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান পার্টিতে ভাঙন শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান পার্টিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাবের বিরোধিতা করে একদল নেতা নতুন মধ্য-ডানপন্থি একটি রাজনৈতিক দল খুলতে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে মূলত দুই পার্টিই ঘুরেফিরে ক্ষমতায় আসছে। দেশটির রাজনৈতিক অবস্থাই দ্বিদলীয় পার্টি ব্যবস্থাকে সমর্থন দিয়ে আসছে দীর্ঘকাল ধরে। এখন নতুন করে একটি মধ্য-ডানপন্থি পার্টি গঠিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় দেশটির গোটা নীতিনির্ধারণী ব্যবস্থা নড়েচড়ে বসছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি ১২০ জনের বেশি রিপাবলিকান নতুন পার্টি গঠনের ব্যাপারে এক ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। এই রিপাবলিকানদের মধ্যে অনেকেই সাবেক নির্বাচিত প্রতিনিধি, রোনাল্ড রিগ্যান, জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসনে কর্মরত ছিলেন। তবে দুই গুরুত্বপূর্ণ রিপাবলিকান সিনেটর ওয়েমিংয়ের লিজ চেনি এবং ইলিনয়ের অ্যাডাম কিসিঞ্জার পার্টি ভেঙে নতুন পার্টি গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেন সাংবাদিকদের কাছে। ট্রাম্পের সমালোচনাকারী হিসেবে পরিচিত আরও কয়েকজন নেতাও এ বিষয়ে সরাসরি মুখ খোলেননি। নতুন পার্টি খুললে রিপাবলিকানদের ভোট কমে যাবে, যা ডেমোক্র্যাটদের আরও সুবিধা পাইয়ে দেবে বলেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে পার্টি ভেঙে নতুন পার্টি খোলার দৃষ্টান্ত নেই। দলের মধ্যকার এক প্রতিবাদকে রাজনৈতিক বিদ্রোহ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বিদ্রোহ যে শুধু রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে, তা নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্রে চলমান দ্বিদলীয় রাজনৈতিক মতাদর্শের মধ্যকার স্থবিরতা ও একঘেয়েমিতার বিরুদ্ধে ক্রিয়াশীল অংশের পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে তৃতীয় শক্তির উত্থানকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক রাজনৈতিক অবকাঠামো রয়েছে। এর মধ্যে বিপুলসংখ্যক কর্মী, অর্থ, যোগাযোগ এবং ডোনার রয়েছেন। তৃতীয় রাজনৈতিক দল ঘোষিত হলে এই উপকরণগুলো বিভক্ত হয়ে পড়বে।
তবে তৃতীয় এই পার্টির মূল নেতা কে হবেন, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। রিপাবলিকান স্ট্র্যাটেজিস্ট অ্যালেক্স কনান্তের মতে, তৃতীয় রাজনৈতিক দল করতে যে ক্যারিশম্যাটিক নেতার প্রয়োজন তার এখনো দেখা নেই। অ্যালেক্স ছিলেন ফ্লোরিডার সিনেটর মার্কো রুবিওর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘কেউ তৃতীয় পার্টি গঠন করতে চাইলে তা ট্রাম্পকেই শক্তি জোগাবে। এমনও হতে পারে, ওই দলের নেতা হতে পারেন স্বয়ং ট্রাম্প।’
অ্যাডাম কিসিঞ্জার গত ৫ ফেব্রুয়ারির ভার্চুয়াল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ট্রাম্পবিরোধী শক্তির প্রতিনিধি হিসেবে। তিনি তৃতীয় রাজনৈতিক পার্টির বিরুদ্ধে বললেও রিপাবলিকান পার্টির মধ্যে যে সংস্কার প্রয়োজন এমনটাও বলেন তিনি। সাম্প্রতিককালে তিনি নতুন একটি রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি গঠন করেছেন ফ্লোরিডার ম্যাট গায়েটজ ও জর্জিয়ার মার্জোরি টেইলর গ্রিনিকে নিয়ে। এই কমিটি হাউজ রিপাবলিকানে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। নতুন পার্টির উত্থান প্রশ্নে জ্যেষ্ঠ রিপাবলিকানরা এখনো মুখ না খুললেও দলের মধ্যে ট্রাম্পের পক্ষের লোকজন যে ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে তা বলা যায়। দলের মধ্যে মধ্যপন্থি বলে পরিচিতদের সমর্থন আছে ট্রাম্পের প্রতি। ট্রাম্প যদি দ্বিতীয় অভিশংসন প্রক্রিয়া থেকে রেহাই পান, তবে দ্বিতীয়বার নির্বাচনের জন্য তাকে আটকানো যাবে না। আর এমনটা হলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তৃতীয় পার্টির প্রাসঙ্গিকতা থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।