দেশেই চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির কারখানা নির্মাণ করে আশার আলো দেখাচ্ছে প্রমিক্সকো দেখাচ্ছে গ্রুপ। তারা জানায়, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে দেশেই এখন তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের বেড, গ্লাভস, নেবুলাইজার থেকে শুরু করে স্পর্শকাতর নানা ডাক্তারি যন্ত্রাংশ।
তারা জানায়, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ২০ বিঘা জমিতে গড়ে উঠেছে প্রমিক্সকো শিল্প পার্ক। দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে শুরু করে তারকা মানের হাসপাতালগুলো প্রমিক্সকো হেলথ কেয়ারের উৎপাদিত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ফার্নিচার ব্যবহার করছে। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম।
প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘একসময় দেশে পুরো চিকিৎসা সরঞ্জাম ও হাসপাতাল-ক্লিনিকের ফার্নিচার আসত বিদেশ থেকে। তা প্রমিক্সকোর আগমনে কিছুটা কমেছে। আমদানিনির্ভরতা ছেড়ে প্রমিক্সকো উৎপাদকে পরিণত হওয়ার ফলেই এমনটা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশেও চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ফার্নিচার রপ্তানির স্বপ্নও দেখছে প্রতিষ্ঠানটি’।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মৌচাক গিয়ে দেখা গেছে, প্রমিক্সকো শিল্প পার্কের সাতটি ভবনে রয়েছে ১৩ উৎপাদন ইউনিট। পার্কে ঢুকতেই চোখে পড়ে কৃষি খামার। পাশেই কুকুর, বিড়াল, খরগোশ পালন চলছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ৫৩৯ কর্মী কাজ করে’।
প্রমিক্সকো শিল্পপার্কে উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে রয়েছে, অপারেশন থিয়েটার (ওটি) টেবিল, ওটি লাইট, করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) বেড, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) বেড, ইসিজি মেশিন, প্রসূতি টেবিল, ডেন্টাল চেয়ার, রোগী মনিটর ও রোগী পরীক্ষার টেবিল, ডিসপোজিবল সিরিঞ্জ, নেবুলাইজার, এয়ার পাম্প ম্যাট্রেস, ওজন মাপার স্কেল, ট্রাস্ট মি কনডম, সার্জিক্যাল ও এক্সামিনেশন গ্লাভস, অটোক্লেভ, সাকশন মেশিন, বেবি ইনকিউবেটর, ফটোথেরাপি মেশিন, আইসিইউ সরঞ্জাম, ফিজিওথেরাপির যন্ত্রপাতি এবং একবার ব্যবহারোপযোগী চিকিৎসা সরঞ্জাম (যেমন সিরিঞ্জ, নিডল, কেনোলা, গ্লাভস)।
শনিবার কারখানা পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলি নুর। এ সময় তিনি ইউনিট ঘুরে উৎপাদিত পণ্য দেখেন।
পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমদের দেশের অনেক উদ্যোক্তা দেশেই আন্তর্জাতিক মানের পণ্য তৈরি করছে। দেশে উৎপাদন হয় বলে তারা অর্ধেকেরও কম দামে এখান থেকে পণ্য সাপ্লাই দিতে পাড়ছে। প্রমিক্সকো তার মধ্যে অন্যতম। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে আমরা সব সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে চাই।
প্রমিক্সকো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মৌসুমী ইসলাম বলেন, আমি মেডিকেল ইকুইপমেন্ট নিয়ে প্রায় ২০ বছর কাজ করছি। এসব পণ্যের রপ্তানিতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মেডিকেল ইকুইপমেন্টের মান অনেক ভালো। করোনা মহামারিতে আমাদের প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সুরক্ষা সামগ্রী দিয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের বাজারে মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে প্রমিক্সকো গ্রুপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমরা যদি এই মান ধরে রাখতে পারি তাহলে আমরা চীনকে ছাড়িয়ে যাব। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মেডিকেল মান সনদ প্রদানকারী প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের শর্তাবলি পূরণ করে পণ্য উৎপাদন করার আমাদের সক্ষমতা রয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাহান আরা বানু, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আমিরুল মোর্শেদ প্রমুখ।