সকাল পৌনে ৯টা। দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেল জংশন স্টেশন থেকে ঠাকুরগাঁও অভিমুখে কাঞ্চন মেইল ট্রেন নিয়ে যাত্রা করেন লোকোমাস্টার (চালক) আবদুল্লাহ হেল কাফী। কিন্তু সুইচ কেবিন মাস্টার লাইন বদল না করায় ট্রেন চলে যায় রংপুরের দিকে। বিষয়টি বুঝতে পেরে ট্রেন থামান লোকোমাস্টার। পরে ট্রেনটি স্টেশনে ফিরিয়ে আনার সময় লোকোমাস্টারের অজ্ঞাতে আবার লাইন পরিবর্তন করে দেন সুইচ কেবিন মাস্টার। এতে কাঞ্চনের ইঞ্জিনের ছয়টি চাকা লাইনচ্যুত হয় এবং ট্রেনটি থেমে যায়।
ঠিক একই সময়ে লাইনের সংযোগ দিয়ে অতিক্রম করছিল চিলাহাটি থেকে থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী রকেট মেইল ও লালমনিরহাট থেকে কুড়িগ্রামের বিরলগামী কমিউটার ট্রেন। এ সময় কাঞ্চনের ইঞ্জিনের লাইনচ্যুতির কারণে ট্রেনটি থেমে না গেলে তিন ট্রেনে হতো ভয়াবহ সংঘর্ষ। একই সময়ে স্টেশনে দাঁড়ানো ছিল কুড়িগ্রাম-ঢাকা রুটের কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস।
গতকাল রবিবার সকালে পার্বতীপুর রেলস্টেশন থেকে আড়াইশ মিটার উত্তরে লেভেল ক্রসিংয়ের কাছে ঘটে এ ঘটনা। এতে সাড়ে চার ঘণ্টা বন্ধ ছিল ট্রেন চলাচল। পরে উদ্ধারকারী ট্রেন এসে ইঞ্জিনটি লাইনে তুলে দিলে দুপুর দেড়টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
দুর্ঘটনা তদন্তে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনিছুর রহমানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের লোকোমাস্টার আবদুল্লাহ হেল কাফী জানান, ঠাকুরগাঁও যাওয়ার সিগন্যাল পেয়ে তিনি ট্রেন ছাড়েন পার্বতীপুর স্টেশন থেকে। কিন্তু ট্রেনটি কিছুদূর গিয়েই রংপুর লাইনে উঠে যায়। তিনি ট্রেন থামিয়ে পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে ট্রেনটি স্টেশনে ফিরিয়ে আনছিলেন। কিন্তু কেবিন মাস্টারের ভুল সিগন্যালের কারণে ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হয়।
তিনি আরও বলেন, ট্রেনটি যদি রংপুর লাইনে না এসে ঠাকুরগাঁও লাইনে যেত তাহলে চিলাহাটি থেকে থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী রকেট মেইল ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ হতে পারত। তবে সুইচ কেবিন মাস্টার আবদুর রাজ্জাক দাবি করেন, কাঞ্চন ট্রেন ছেড়ে যেতে কোনো সিগন্যাল দেওয়া হয়নি। লোকোমাস্টার রেড সিগন্যাল অমান্য করে ট্রেন চালানোয় দুর্ঘটনা ঘটতে যাচ্ছিল।
পার্বতীপুর স্টেশন মাস্টার জিয়াউল আহসান বলেন, কাঞ্চন ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করে যাত্রীদের টিকিটের মূল্য ফেরত দেওয়া হয়েছে।