‘মা-বাবাকে বাঁচাতে’ হামলাকারীকে দায়ের কোপ, তিনদিন পর মৃত্যু

বোনকে বিয়ে করতে না পেরে এক বছর পর পুরো পরিবারের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। মা-বাবাকে মারধরের দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে হামলাকারীকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন ভাই।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের পূর্ব সৈয়দপুর গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিন দিন চিকিৎসাধীন থেকে রবিবার রাত ৯টায় মারা যান হামলাকারী মুরাদ।

এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বছরখানেক আগে মীর বাড়ির তসলিম উদ্দিন মিঠুর মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এলাকার বখাটে হিসেবে পরিচিত মুরাদ। তখন সে প্রস্তাবে রাজি হয়নি মেয়ের পরিবার। এর কয়দিন পর মেয়েটিকে জোর করে উঠিয়ে নিতে আসেন মুরাদ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা।

তখন স্থানীয় মেম্বার নুর উদ্দিন ও এলাকাবাসীর বাধার মুখে ফিরে যায় মুরাদ বাহিনী। যাওয়ার সময় প্রকাশ্যে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন মুরাদ।

এর এক বছর পর গত শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এলাকায় শান্ত ছেলে হিসেবে পরিচিত মেয়েটির ভাই মিনহাজ উদ্দিন পায়েলকে মারধর করে মুরাদ বাহিনী।

মার খেয়ে নিজের ঘরে পালিয়ে আশ্রয় নেন পায়েল। মুরাদ বাহিনী সেখানে গিয়েও তাকে খুঁজতে থাকে। খুঁজে না পেয়ে পায়েলের মা ও বাবাকে মারধর করতে থাকে তারা।

মা-বাবার উপর হামলা সহ্য করতে না পেরে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে দা দিয়ে মুরাদকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে পায়েল। কোপ খেয়ে মুরাদ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ওর বাহিনীর বাকি সদস্যরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা মুরাদকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর রবিবার রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিজের ও পরিবারের উপর যেকোনো সময় হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে পায়েলের বাবা তসলিম উদ্দিন মিঠু বলেন, তারা আমাদের বাঁচতে দিবে না। কোথায় যাব আমরা?

স্থানীয় ইউপি মেম্বার নুর উদ্দিন বলেন, বছরখানেক আগে মেয়েটিকে জোর করে উঠিয়ে নিতে আসে মুরাদ বাহিনী। তখন আমিসহ এলাকাবাসীর বাধার মুখে তারা ফিরে যায়। এক বছর পর আবার কেন হামলা করল তা বোধগম্য হচ্ছে না।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, মুরাদ নিহতের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনা বিস্তারিত তদন্তে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।