প্রত্যেক মানুষের আঙুলের ছাপ আলাদা। এই ছাপ পর্যবেক্ষণ করে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধী শনাক্ত করার কাজ চলছে। কীভাবে শুরু হলো এই চর্চা আর কেনই বা মানুষের আঙুলের ছাপ আলাদা? লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা
পেছনের গল্প
১৯১০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাতের ঘটনা। মেরি হিলার মাঝরাতে একটা শব্দ শুনে জেগে উঠলেন। খেয়াল করে দেখলেন শব্দ আসছে তার মেয়ের ঘর থেকে। উঠেই তিনি তার স্বামী ক্লারান্সকে ডাক দিলেন। তারা মেয়ের ঘরে সব ঠিক আছে কি না দেখতে গিয়ে টের পেলেন ঘরে আরও একজন আছে। সিঁড়িতে তাকে দেখতে পেয়েই ধাওয়া করতে শুরু করেন। তাড়া করতে গিয়ে সেই অচেনা মানুষটি ধস্তাধস্তির পরে ক্লারান্সকে পরপর দুটো গুলি করে। সেই গুলিতেই মারা যান ক্লারান্স। খুনি পালিয়ে যাওয়ার সময় তাড়াহুড়োয় একটি কাজ করে রেখে যায়। বাড়ির বাইরে উঠোনের রেলিং নতুন করে রং করা হচ্ছিল। সেই কাঁচা রঙে খুনি তার চার আঙুলের ছাপ রেখে যায়। পুলিশ কিছুদিনের মধ্যেই থমাস জেনিংস নামের সেই খুনিকে গ্রেপ্তার করে। রঙের ওপরে পাওয়া সেই চার আঙুলের ছাপের সঙ্গে তার আঙুলের ছাপের মিলও পাওয়া যায়। তাকে খুনের আসামি প্রমাণ করার জন্য সেই আঙুলের ছাপ ব্যবহার করা হয়।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আমেরিকায় প্রথমবারের মতো পুলিশি তদন্তের কাজে আঙুলের ছাপ ব্যবহার করা হয়। এখন সন্দেহভাজন কাউকে শনাক্ত করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোতে আঙুলের ছাপকে ভাবা হয় প্রধান উপকরণ হিসেবে। আঙুলের ছাপের উৎপত্তি থেকে শুরু করে কীভাবে তা তৈরি এবং শনাক্ত করা হয় পুরোই নির্ভর করে রসায়নের ওপরে। আরও স্পষ্ট করে বললে জৈব রসায়নের ওপরে। মূলত ফরেনসিক সায়েন্স দাঁড়িয়েই আছে রসায়নের ওপরে।
কেন আঙুলের ছাপ মৌলিক
সাড়ে সাতশ কোটি মানুষের পৃথিবীতে কোনো দুজন মানুষের আঙুলের ছাপ এক হয় না। এমনকি অভিন্ন যমজ ((Identical twins)) যাদের আচরণ থেকে শুরু করে হাসি-কান্না সবকিছু মিলে যায় তাদেরও আঙুলের ছাপ এক হয় না। কারণ আঙুলের এই মৌলিক ছাপ তৈরি হয় মাতৃগর্ভ থেকে। মাতৃগর্ভে ভ্রƒণের ১০ সপ্তাহ বয়সে এই আঙুলের ছাপ তৈরি হয়। মাতৃগর্ভে ভ্রুণের আঙুলের ছাপ স্থায়ী হয় ছয় মাস বয়সে।
১৯৩০ সালে ইউরোপিয়ান ব্যাংক ডাকাত জন ডিলিঙ্গার এসিড দিয়ে আঙুলের ছাপ মুছে ফেলার চেষ্টা করেন। সম্প্রতি আরেক সন্দেহভাজনকে পাওয়া গেছে যে কিনা কামড় দিয়ে তার চামড়া তুলে ফেলেছে যাতে তার আঙুলের ছাপ বোঝা না যায়। কিন্তু এতসব সত্ত্বেও আঙুলের ছাপকে পুরোপুরি মুছে ফেলা যায় না। আঙুলের ছাপ জীবন ভর মানুষের সঙ্গে থাকে শনাক্তকরণ চিহ্ন হিসেবে। ফরেনসিক সায়েন্সের শুরুর দিকে পথিকৃৎ হিসেবে ধরা হয় ফ্রান্সের এমোন্ড লোকার্ডকে। ফরেনসিক সায়েন্সে মূল সূত্র বলা হয় লোকার্ডের বিনিময় নীতিকে (Locard’s exchange principle)। লোকার্ডের বিনিময়নীতিতে উল্লেখ আছে মানুষ সবসময় চলমান পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতি রেখে আচরণ করে এবং সবসময়ই হয় সে কিছু ফেলে যায় অথবা সঙ্গে নিয়ে যায়।
অপরাধ সংঘটনের জন্য যখনই কেউ কোথাও যায় তখন নিশ্চিতভাবে বলা যায় সে কিছু ফেলে আসছে। সেটি হতে পারে একগোছা চুল, জামার কোনো সূক্ষ্ম অংশ বা সুতা, গায়ের চামড়া বা মরা কোষ। অপরাধ সংঘটনের স্থানে যদি কারও সঙ্গে ধাক্কা লাগে বা ধস্তাধস্তি হয় তাহলে তো কথাই নেই। ধস্তাধস্তির ফলে আঁচড় ও কামড়ে, গায়ের চামড়ার অংশবিশেষ, রক্ত অনেক কিছুই সে ফেলে যেতে পারে প্রমাণ হিসেবে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুতর জিনিস হিসেবে যা ফেলে আসবে তা হচ্ছে আঙুলের ছাপ।
ফিরে দেখা
ইতিহাস ঘাঁটলে পাওয়া যায়, প্রায় এক হাজার খ্রিস্টপূর্বে আঙুলের ছাপ দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার করা হতো। প্রাচীন ব্যাবিলন, চীন, নোভা স্কশিয়া এবং পার্সিয়ায় আঙুলের ছাপ স্বাক্ষরের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ১৬৮৬ সালে ইতালির বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাসেলো মালপিগি খেয়াল করেন আঙুলের ছাপের সাধারণ কিছু প্যাটার্ন, প্যাঁচ, বাঁক এবং জালিকা রয়েছে যেগুলো সবার হাতেই কমবেশি দেখা যায়। ১৮২৩ সালে প্রাগের চার্লস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জোহানেস ইভানগেলিস্টা পুরকিঞ্জি আঙুলের ছাপের নয়টি প্যাটার্ন আবিষ্কার করেন। সেখানে আঙুলের ছাপের নয়টি প্রধান রূপরেখা বিস্তারিত বলা হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও আঙুলের ছাপের প্রায়োগিক ব্যবহার কোথাও শুরু হয়নি। ১৮৫৮ সালে ইন্ডিয়ার একজন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় ব্যারোনেট স্যার উইলিয়াম হার্শেল অনুধাবন করেন আঙুলের ছাপ মৌলিক এবং তা দিয়ে মানুষকে চিহ্নিত করা যায়। তাই ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথমবারের মতো তিনি আঙুলের ছাপকে দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার শুরু করেন। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় টিপসইয়ের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেন তিনি। টোকিওর ডাক্তার হেনরি ফোল্ডস আঙুলের ছাপের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ১৮৮০ সালে তিনি ফেলে যাওয়া বোতলের ওপরে আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে একজন অপরাধীকে শনাক্ত করে তিনি প্রথমবারের মতোন অপরাধবিজ্ঞানে আঙুলের ছাপের প্রয়োগ দেখান। এরপরেই ফরেনসিক সায়েন্সে আঙুলের ছাপকে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখা শুরু করা হয়। এবং আদালত সাক্ষ্য হিসেবে আঙুলের ছাপকে মেনে নেয়। ১৮৯২ সালে স্যার ফ্রান্সিস গ্যাল্টন আট হাজার মানুষের আঙুলের ছাপ নিয়ে পরীক্ষার ফলাফল একটি বইয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করেন। বইটির নাম ফিঙ্গারপ্রিন্টস যেখানে আঙুলের ছাপকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিন্যস্ত আকারে দেখানো হয়েছে। একই বছর আর্জেন্টিনার পুলিশ একটি খুনের কেস সমাধান করার জন্য আঙুলের ছাপ ব্যবহার করেছিল। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পুলিশি সমস্যা সমাধানে আঙুলের ছাপ ব্যবহার করা হয়। একই বছরে আর্জেন্টিনার পুলিশের সেই দলটি আঙুলের ছাপের একটি ফাইল তৈরি করেন যাতে দ্রুততম সময়ে অপরাধীকে চিহ্নিত করে ফেলা যায়। ১৮৯৬ সালে আস্তে আস্তে আঙুলের ছাপের বহুবিধ ব্যবহার পৃথিবী জুড়ে বিস্তার লাভ করে। আর্জেন্টিনার দেখাদেখি ব্রিটিশ ইন্ডিয়া অপরাধী শনাক্তকরণে তা ব্যবহার শুরু করে। আর্জেন্টিনা এবং ভারতের পরে ১৯০১ সালে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশের কেন্দ্রীয় দপ্তর স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড লন্ডনেও আঙুলের ছাপের নানাবিধ ব্যবহার তুলে ধরেন। নিজেরাও এর ব্যবহার শুরু করতে পারেন কি না তাও আলোচনা করেন। ধারাবাহিকতায় স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যুরো স্থাপিত হয়। ১৯০২ সালে প্যারিসে এবং ১৯০৩ সালে আমেরিকার নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টসহ অন্যরা আঙুলের ছাপের মাধ্যমে মানুষকে চিহ্নিত করা শুরু করে। এরপরের দুই বছরের মধ্যে পশ্চিমা বিশ্বের সবগুলো দেশই অপরাধী চিহ্নিত করতে আঙুলের ছাপকে প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। ১৯০৫ সালে আমেরিকার সেনাবাহিনী তাদের কাজে আঙুলের ছাপের ব্যবহার শুরু করে। ১৯১১ সালে হেনরি ফোল্ডসের কাজের ধারাবাহিকতায় জাপানিজ পুলিশ অফিশিয়ালি আঙুলের ছাপকে অন্তর্ভুক্ত করে। ১৯২৪ সালে এফবিআই আঙুলের ছাপের ক্যাটালগ তৈরি করে। ১৯৭১ সালের ভেতরে তাদের কাছে ২০০ মিলিয়ন লোকের আঙুলের ছাপ জমা হয়ে যায়। ১৯৯০ সালে প্রথমবারের মতো কম্পিউটারের মাধ্যমে আঙুলের ছাপকে নেওয়া শুরু হয়। এএফআইএস অটোমেটেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেমটিতে স্ক্যানের মাধ্যমে সমস্ত আঙুলের ছাপ জমা করে রাখে। ১৯৯৬ সালে বাচ্চাদের হারিয়ে যাওয়া বা অপহরণকে এড়াতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তাদের আঙুলের ছাপ গুরুত্ব দিয়ে দেখা শুরু করে। ক্রিস্ট মিগলিয়ারো ফিঙ্গারপ্রিন্ট আমেরিকা নামক একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন যারা বাচ্চাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট থেকে শুরু করে ডিএনএর সমস্ত ডকুমেন্ট জমা করে রাখে। ১৯৯৯ সালে এফবিআই তাদের জমা থাকা ফিঙ্গারপ্রিন্টকে ইলেকট্রনিক ফিঙ্গারপ্রিন্টে রূপান্তরিত করেন। যার মাধ্যমে লাখ লাখ অপরাধীর আঙুলের ছাপ এখন বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে চিহ্নিত করা যাচ্ছে।
কী দিয়ে তৈরি
আমাদের আঙুলের অগ্রভাগে আঁকাবাঁকা দাগের সঙ্গে সঙ্গে রয়েছে অসংখ্য ছিদ্র। প্রতিটি ছিদ্রই ঘাম গ্রন্থির সঙ্গে যুক্ত। ঘাম গ্রন্থিগুলোর মধ্যে সর্বাধিক পরিচিত গ্রন্থিটি হচ্ছে এক্রাইন গ্রন্থি। এটি হাতে এবং পায়ে সর্বাধিক ঘনত্ব নিয়ে অবস্থান করে। মাঝেমধ্যে যখন কারও হাত এবং পা ঘামে ভেজাভেজা লাগে তখন প্রায় কয়েক মিলিয়ন এক্রাইন গ্রন্থি সক্রিয় হয়ে যায়। কয়েকশ জৈব পদার্থ ঘামের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে যায়। ঘামের মূল উপকরণ হিসেবে উপস্থিত থাকে পানি, এমিনো এসিড, লবণ, লিপিড। সেবেশাস গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় তৈলাক্ত সেবাম। সেবাম নিশ্চিত করে আমাদের ত্বক দিয়ে যেন খুব বেশি পানি বেরিয়ে যেতে না পারে। যখন কেউ গালে বা মাথার ত্বকে হাত দেয় তখন ঘামের সঙ্গে এই তৈলাক্ত তেলও আঙুলের অগ্রভাগে লেগে যায়। এই অবস্থায় যখন কেউ কোনো কিছু স্পর্শ করে তখন ঘাম এবং তৈলাক্ত সেবাম মিলে তৈরি করে আঙুলের ছাপ। তেল মিশে থাকার কারণে এই ছাপ পানিতে মুছে যায় না। যদি কারও ত্বক রুক্ষ হয় তাহলে তেলে পরিমাণ হবে কম। এবং তার ফলে উৎপন্ন আঙুলের ছাপটি হবে কম স্পষ্ট। আবার ছাপ কেমন হবে তা নির্ভর করে যেখানে তা পাওয়া যাচ্ছে তার উপরিভাগের ওপরেও। অমসৃণ স্থান যেমন কাগজ, কাঠ আঙুলের ছাপের তেল শুষে নিতে পারে। ফলে ছাপ হয়ে যায় স্থায়ী কিন্তু শুষে নেওয়ার ফলে ছাপ খুবই অস্পষ্ট হয়ে ওঠে। আবার মসৃণ তল যেমন স্টিল, গ্লাস, প্লাস্টিকের ওপরে বসা আঙুলের ছাপ হয় খুবই স্পষ্ট কিন্তু যেহেতু মসৃণ তল তাই এটি সহজেই মুছে ফেলা সম্ভব।
আঙুলের ছাপে লৈঙ্গিক পরিচয়
আঙুলের ছাপ দেখে বলে দেওয়া সম্ভব ব্যক্তির লৈঙ্গিক পরিচয়। আঙুলের ছাপে উপস্থিত কিছু এমিনো এসিড এবং তৈলাক্ত অবশিষ্টের অনুপাত বিশ্লেষণ করে বলে দেওয়া যায় ব্যক্তিটি ছেলে নাকি মেয়ে। ঘামের মধ্য দিয়ে এমিনো এসিডগুলো নিঃসৃত হয়। ছাপে সেগুলোর স্পষ্ট উপস্থিতি থাকে। পুরুষদের তুলনায় নারীদের ঘামে কিছু এমিনো এসিডের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ। হরমোনের পার্থক্যের জন্য এই পরিমাণের হেরফের হয়ে থাকে। এমিনো এসিডের এই পরিমাণ দেখেই বলে দেওয়া সম্ভব সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি নারী নাকি পুরুষ।
ছাপের নানা ধরন
পেটেন্ট ফিঙ্গারপ্রিন্ট : রক্ত, কোনো তরল বা কালি, গ্রিজ, ময়লা কারো আঙুলে লেগে যে আঙুলের ছাপ তৈরি হয় সেটাই পেটেন্ট ফিঙ্গারপ্রিন্ট। সাধারণত খুবই স্পষ্ট হয়ে থাকে এই ছাপ। পেটেন্ট ফিঙ্গারপ্রিন্টকে ছবি তুলে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
প্লাস্টিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট : প্লাস্টিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট সাধারণত ক্লে, মোম বা ভেজা রঙের ওপরে হাত পড়ে যে আঙুলের ছাপ তৈরি হয়। এটি খোলা চোখে দেখতে পাওয়া যায়। পেটেন্ট ফিঙ্গারপ্রিন্টের মতো এটিও ছবি তুলে তদন্তের কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
লেটেন্ট ফিঙ্গারপ্রিন্ট : অপরাধ সংঘটনের স্থানে না দেখতে পাওয়া ফিঙ্গারপ্রিন্ট হলো লেটেন্ট ফিঙ্গারপ্রিন্ট। ডাস্টিং টেকনিকের মাধ্যমে এটিকে দৃশ্যমান করে তোলা হয়। যেমন কোনো রঙের গুঁড়ো ছিটিয়ে দেওয়া হলে আস্তে আস্তে এটি দৃশ্যমান হয়। এরপরে ছবি তুলে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয় অথবা ফিঙ্গারপ্রিন্ট টেপ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
এক্সামপ্লার ফিঙ্গারপ্রিন্ট : বিশেষভাবে তৈরিকৃত ফিঙ্গারপ্রিন্ট হলো এক্সামপ্লার ফিঙ্গারপ্রিন্ট। যেমন পাসপোর্ট তৈরির সময়ে অথবা কোনো নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কাজে জড়িত থাকা লোকেদের আঙুলের ছাপ। এই কাজে ব্যবহারের জন্য আছে বিশেষভাবে তৈরি কালি ফিঙ্গারপ্রিন্ট ইঙ্ক। এখন অবশ্য ডিজিটাল ছবিও ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
নতুন দিগন্ত
সম্প্রতি এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এক বিশেষ পদ্ধতিতে আঙুলের ছাপের তৈলাক্ত অংশ থেকে বের করা সম্ভব আঙুলের ছাপের বয়স। যার মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনের সময়কে খুব নির্দিষ্ট করে বলে দেওয়া সম্ভব। আঙুলের ছাপের তৈলাক্ত অংশে পাওয়া যায় পালমিটিক এসিড যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমে যায়। মূলত এর মাধ্যমেই আঙুলের ছাপের বয়স নির্ধারণ করা সম্ভব।