অশ্বিনের সেঞ্চুরিতে হারের মুখে ইংল্যান্ড

চেন্নাই টেস্টের দ্বিতীয় দিনে উইকেট পড়েছিল ১৫টি। গতকালও উইকেট পতনের সেই ধারা অব্যাহত ছিল। তবে ১২ উইকেট পতনের দিনে হোমগ্রাউন্ডে করোনা-বিরতি শেষে দর্শক ফেরা চিপকে সেঞ্চুরি করেছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ব্যাটসম্যানদের জন্য কবর ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন তিনি। তার কারণেই দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৬ রান তুলে ইংল্যান্ডের সামনে ৪৮২ রানের টার্গেট দিতে পেরেছে ভারত। জবাব দিতে নেমে দিনশেষে ৩ উইকেটে ৫৩ রান করেছে অতিথিরা। এখনো ৪২৯ রানে পিছিয়ে হারের প্রহর গুনছে। খেলার দুদিন বাকি এখনো।

তৃতীয় দিনের শুরুতে কয়েক ওভারের ব্যবধানে ভারতের টপ এবং মিডল অর্ডারে ধস নামে। ইংলিশ স্পিনারদের সামলাতে ব্যর্থ হওয়া চেতেশ্বর পূজারা, রোহিত শর্মা, ঋষভ পান্থ, অজিঙ্কা রাহানে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। উল্টোদিকে একা দাঁড়িয়ে হতাশ চোখে রাহানেদের প্যাভিলিয়নে ফেরা দেখছিলেন বিরাট কোহলি। তখনো তিনি জানেন না কার সঙ্গে খুব প্রয়োজনীয় একটা জুটি গড়বেন। ৩৭তম ওভারে অক্ষর প্যাটেল আউট। কিন্তু অশ্বিন এসেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট চালাতে শুরু করলেন। সেই যে শুরু করলেন থেমেছেন সেঞ্চুরি করার পর। দুবার আউটের সুযোগ দিয়ে পার পাওয়া এই ডানহাতি প্রায় ৪ ঘণ্টা উইকেটে ছিলেন। স্টোনের বলে বোল্ড হওয়ার সময় অশ্বিনের নামের পাশে ছিল ১০৬ রান। প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে দুরন্ত শতরান। নবম উইকেট পড়ে যাওয়ায় একসময় মনে হচ্ছিল তার পঞ্চম শতরান অপূর্ণ থেকে যাবে। কিন্তু মইনকে ছয় এবং চার মেরে সেঞ্চুরি পূরণ করেন অশ্বিন। সপ্তম উইকেটে অধিনায়কের সঙ্গে যোগ করেন ৯৬। স্পিনারকে উইকেট দেননি। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন পেসার স্টোনের বলে। কোহলি করেন ৬২ রান। ইংল্যান্ডের হয়ে ৪টি করে উইকেট নেন দলে ফেরা মঈন আলি ও জ্যাক লিচ।

দিন শেষে অশ্বিন বলেন, ‘১৯ বছর বয়সে একবার সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হয়ে দল থেকে বাদ পড়েছিলাম। এরপর অনেক সুইপ খেলার অনুশীলন করেছি। বলছি না যে তিনচার দিনেই এটা রপ্ত করেছি। তবে উন্নতির জন্য আমাদের ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোরকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। গত কয়েক মাস আমি ব্যাটিংয়ে যে উন্নতি করেছি এর সবটুকু কৃতিত্ব তারই। আমি জানি না এই মাঠে আর খেলতে পারব কি না। এখানে পরের টেস্ট কবে হবে তাও জানি না। তবে আজ যেভাবে ব্যাটিং করেছি তাতে আমি খুব কৃতজ্ঞ।’

অশ্বিনের মতো রুটদের কেউ দাঁড়িয়ে কি আজ উইকেটে স্বেচ্ছাচারিতাকে ভুল প্রমাণ করতে পারবেন? তাতেও যে ইংল্যান্ড রানের পাহাড় টপকাতে পারবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।