বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যার মামলায় পাঁচ জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। হত্যায় প্ররোচনা দেওয়ায় একজনকে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ।
ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান মঙ্গলবার চাঞ্চল্যকর অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যার মামলার রায় ঘোষণা করেন।
সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াউল হক ওরফে জিয়াসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরও চার আসামি হলেন মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম ওরফে সাজ্জাদ ওরফে শামস, আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহ। হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় ও সরাসরি অংশ না নিলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে আসামি ফারাবীকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়েছে। অভিজিৎ হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জিয়া ও আকরাম এখনো পলাতক।
রায়ের আগে ১১টা ৫২ মিনিটে কড়া নিরাপত্তায় চার আসামিকে আদালতের হাজতখানা থেকে এজলাসের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। হাতকড়া পড়া আসামিদের মাথায় ছিল হেলমেট। পড়নে ছিল বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট। রায়ের আগে আসামিরা ছিলেন নির্বিকার ও হাস্যোজ্জ্বল। একটু পর পর একে অন্যের সঙ্গে করছিলেন খুনসুটি ও হাসাহাসি। রায় ঘোষণার সময় মনোযোগ দিয়ে তা শুনলেও রায়ের পর তাদের মধ্যে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
বিচারক রায় শেষে এজলাস ত্যাগ করার পরও মৃত্যুদণ্ড-প্রাপ্ত একাধিক আসামির মুখ ছিল হাস্যোজ্জ্বল। এজলাস থেকে কড়া নিরাপত্তায় প্রিজন ভ্যানে ওঠানোর সময় একাধিক আসামি ‘ভি’ চিহ্ন দেখান। এর আগে আলোচিত এ মামলার রায়কে ঘিরে আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এজলাসে আইনজীবী ও সাংবাদিক ব্যতীত কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি গোলাম ছারোয়ার খান জাকির বলেন, ‘আমরা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করছি।’ আসামিপক্ষের আইনজীবী খায়রুল ইসলাম লিটন ও মো. নজরুল ইসলাম জানান, তারা বিচারিক আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
বাংলাদেশকে কাঁপিয়ে দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন তোলা এ হত্যাকাণ্ডের প্রায় ছয় বছর ও বিচার শুরুর দেড় বছরের বেশি সময় পর এ মামলার রায় হলো। তবে, রায়ের সময় অভিজিতের পরিবারের কেউ আদালতে ছিলেন না।