নতুন সংযোগ বেশি টেলিটকে

দেশে মোবাইল ফোন সংযোগ কিছুটা বেড়ে জানুয়ারি শেষে ১৭ কোটি ২ লাখে উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে বেড়েছে ইন্টারনেট সংযোগও। তবে সব ধরনের সংযোগ বাড়লেও ভয়েস কল ও ইন্টারনেট গতির পরিষেবার মান এখনো নিম্নমানের রয়ে গেছে।

গত জানুয়ারিতে শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ছাড়া অন্য অপারেটরগুলোর গ্রাহক সংযোগ বেড়েছে। এ সময়ে গ্রামীণফোন ৯ লাখ ১৬ হাজারেরও বেশি গ্রাহক হারিয়েছে। বিপরীতে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি টেলিটক এ সময়ে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক টানতে পেরেছে। জানুয়ারি শেষে টেলিটকের নতুন গ্রাহক বেড়েছে প্রায় পাঁচ লাখ। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংযোগ ছিল ১৭ কোটি ১ লাখ, যা চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৮০ হাজার বেড়ে ১৭ কোটি ২ লাখে উন্নীত হয়। একই সময়ে মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ ডিসেম্বরের চেয়ে ৬ লাখ ৭৯ হাজার বেড়ে ১০ কোটি ৩০ লাখে দাঁড়িয়েছে। তবে ব্রডব্যান্ড সংযোগ গত কয়েক মাস ধরে ৯৫ লাখ ২২ হাজারে স্থিতিশীল রয়েছে। গত জানুয়ারি শেষে মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড মিলিয়ে দেশে ইন্টারনেট সংযোগ ১১ কোটি ২৫ লাখ ৫৪ হাজারে উন্নীত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে মোবাইল সংযোগ ও ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়লেও সেবার মান এখনো তলানিতেই রয়ে গেছে। মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর গ্রাহকরা নেটওয়ার্ক কাভারেজ ইস্যুসহ নিম্নমানের ভয়েস কল ও কল ড্রপের সমস্যায় রয়েছেন বলে গ্রাহকদের অভিযোগ রয়েছে। তারা বলছেন, মোবাইল ফোনে কল করতে গেলে অনেক সময়ই কথা শোনা যায় না। কল সংযোগেও সময় বেশি লাগছে। ইন্টারনেটের ধীরগতির সমস্যা তো রয়েছেই। বড় শহরগুলোর বাইরে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ।

সম্প্রতি বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যামসুন্দর শিকদারও দেশের মোবাইল ফোন অপারেটদের পরিষেবার মান খারাপ বলে স্বীকার করেছেন।

মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবার মানের দিক দিয়ে দেশের পরিস্থিতি নিম্নমানের রয়ে গেছে। যেসব দেশের মোবাইল ইন্টারনেট সেবার মান সবচেয়ে নিম্নমানের, সেসব দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। প্রতি মাসে বিভিন্ন দেশের ইন্টারনেটের গতি পরীক্ষা করে তুলনামূলক চিত্র প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওকলা। এ প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ডিসেম্বরে গতির দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল বিশ্বের ১৩৯টি দেশের মধ্যে ১৩৫তম।

ওকলার পরীক্ষা বলছে, গত বছর জানুয়ারি মাসে দেশে মুঠোফোন ইন্টারনেটের ডাউনলোড গতি ছিল ১১ এমবিপিএসের (মেগাবিট পার সেকেন্ড) বেশি। সেটা করোনার শুরুর দিকে মার্চ-এপ্রিল দুই মাসে বেশ কমে যায়। এখনো গতি গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় কম। ইন্টারনেটের গতির দিক দিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও মিয়ানমার।

বিটিআরসির তথ্য বলছে, গত জানুয়ারিতে শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংযোগ ৭ কোটি ৯০ লাখ ৩৭ হাজার থেকে ৭ কোটি ৮১ লাখ ২১ হাজারে নেমে এসেছে। গত বছর দেশে করোনা সংক্রমণকালীন চার মাসে এ অপারেটরটি ২২ লাখ ৯ হাজার সংযোগ হারায়। এর মধ্যে গত বছর ফেব্রুয়ারিতে ৬ লাখ ৯ হাজার, মার্চে ৫ লাখ ২৭ হাজার, এপ্রিলে ৯ লাখ ৭২ হাজার ও মে মাসে ১ লাখ ১ হাজার গ্রাহক হারায়। তবে বছরের পরবর্তী সময়ে গ্রামীণফোনের অপারেটর বাড়তে দেখা যায়। গত বছর জুন-ডিসেম্বর সময়ে ৪৭ লাখ ৭৭ হাজার নতুন সংযোগ যোগ হয় গ্রামীণফোনে।

বিপরীতে অন্য তিন টেলিকম অপারেটর চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৯ লাখ ৯৬ হাজার নতুন গ্রাহক পেয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম অপারেটর সবচেয়ে বেশি গ্রাহক পেয়েছে। জানুয়ারিতে এ প্রতিষ্ঠানটি নতুন সংযোগ পেয়েছে ৪ লাখ ৯২ হাজার। ফলে টেলিটকের মোট সংযোগ দাঁড়িয়েছে ৫৪ লাখ ১৯ হাজার। যদিও রাষ্ট্রায়ত্ত এ কোম্পানিটির নেটওয়ার্ক কাভারেজ ও অন্যান্য পরিষেবার মান অপরিবর্তিত রয়েছে। তারপরও সাম্প্রতিক সময়ে স্বল্পমূল্যের কিছু ইন্টারনেট প্যাকেজ চালু করায় টেলিটকের গ্রাহক বেড়েছে।

গ্রাহক সংখ্যার দিক দিয়ে দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ টেলিকম অপারেটর রবি আজিয়াটার গ্রাহক সংযোগ গত জানুয়ারিতে ২ লাখ ২১ হাজার বেড়ে ৫ কোটি ১১ লাখে উন্নীত হয়েছে। এ সময় বাংলালিংকের গ্রাহক সংযোগ আগের মাসের তুলনায় ২ লাখ ৮৩ হাজার বেড়ে ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৫৫ হাজারে উন্নীত হয়েছে।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি ৯০ দিনের মধ্যে কোনো সিমে কথা বলা, এসএমএস পাঠানো বা ইন্টারনেট ব্যবহার করলেই তাকে সক্রিয় গ্রাহক হিসেবে গণ্য করে। অবশ্য একজন গ্রাহক একাধিক সিম ব্যবহার করতে পারেন।