সেনাবাহিনীর হাতে নিহত ৬৪০০

কম্বোডিয়ার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূতভাবে অন্তত ৬ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যার অভিযোগ উত্থাপন করেছে দেশটির একটি বিশেষ আদালত। ২০০২ থেকে ’০৮ সালের মধ্যে কম্বোডিয়ার সেনাবাহিনী যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়ে ওই হত্যাকাণ্ড চালায় বলে আদালতের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে আলজাজিরা।

কম্বোডিয়ার দ্য স্পেশাল জুরিডিকশন ফর পিস (জেইপি) শীর্ষক আদালত সেনাবাহিনীর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্ত করছে। সরকারি বাহিনী ও রেভলিউশনারি আর্মড ফোর্সেস অব কম্বোডিয়ার (এফএআরসি) মধ্যকার ৫০ বছরের লড়াইয়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৬ সালে উভয়পক্ষের মধ্যে শান্তিচুক্তি হলে ক্রমেই হত্যাকাণ্ডের বিষয়গুলো সামনে আসতে শুরু করেছে। সরকার-এফএআরসির মধ্যকার এ শান্তিচুক্তির মেয়ার ১০ বছর।

গত বৃহস্পতিবার শান্তিচুক্তির অধীনে থাকা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল সামরিক বাহিনীর হাতে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আনে। আদালত জানায়, সেনাবাহিনী বিভিন্ন সময়ে বিচারবহির্ভূতভাবে চালানো হত্যাকাণ্ডকে ‘যুদ্ধের সহিংসতা’ হিসেবে চালিয়ে দিয়েছে যা ‘ফলস পজিটিভ’ নামে পরিচিত। গত বছর কম্বোডিয়ার পাবলিক প্রসিকিউটরের দপ্তর ১৯৮৮ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ২ হাজার ২৪৯ জন বেসামরিক হত্যার বিষয়টি সামনে আনে। এ হত্যাকাণ্ডগুলোর অধিকাংশই ২০০৬ থেকে ’০৮ সালের মধ্যে করা হয়। তখন দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন আলভারো উরিবি। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইভান দুকের রাজনৈতিক শিক্ষক উরিবি।

আদালতের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। বহু বামপন্থি নেতাকর্মীকে হত্যা করে ‘ফলস পজিটিভ’ রিপোর্ট করার অভিযোগও সেনাবাহিনী অস্বীকার করে। সেনাসদস্য ও কর্মকর্তারা আদালতে বয়ানে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার চাপে এবং সামরিক বাহিনীর অভিযান সফল করতেই তারা নির্দেশ পালন করেছিলেন। তৎকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন জেনারেল মারিও মন্তেয়া। এবারই প্রথম মন্তেয়ার মতো কোনো সামরিক কর্মকর্তাকে আদালতের সামনে হাজির করা হয়েছে। যদিও মন্তেয়া দাবি করেন, বেসামরিকদের হত্যার কোনো আদেশ তিনি দেননি। তার আইনজীবী আন্দ্রেস গার্জন এর আগে জানিয়েছিলেন যে, সেনাবাহিনীর ২ হাজার ১৪০ জনের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্ত চলছে।

জেইপি এফএআরসি ও সেনাবাহিনী উভয়ের হাতে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে। ইতিমধ্যেই অনেকে নিজেদের কৃতকর্মের বিবৃতি দিয়েছে জেইপির কাছে। আদালতটি এখনো তদন্ত সাপেক্ষে কাউকে বিচারের আওতায় আনেনি। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার পর দণ্ড দেওয়া শুরু করবে আদালতটি।