ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর টাকা ফেরত চাওয়াই কাল হয় কুলসুমের

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার হাষাড়গাঁও গ্রামে পতিত জমি থেকে নারীর কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই।

ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর টাকা ফেরত চাওয়ায় কুলসুম বেগম (৩৫) নামে ওই নারীকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় বিদেশ ফেরত প্রতিবেশী যুবক সুমন হোসেন ওরফে সুমন শেখকে (৩১) আটক করলে হত্যারহস্য উন্মোচিত হয়। ধৃত সুমন শেখ আদালতে হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে জেলা শহরের উপকণ্ঠ নতুনগাঁও এলাকায় জেলা পিবিআই কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ সব তথ্য জানান পিবিআই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক।

প্রসঙ্গত, গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টার দিকে হাষাড়গাঁও গ্রামে স্বামীর পতিত জমি থেকে এক নারীর কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। পরে জামা-কাপড়, স্যান্ডেল ও পায়ের আঙুল দেখে ছেলে কামরুল হাসান অয়ন কঙ্কালটি তার মা কুলসুম বেগমের বলে শনাক্ত করেন। তিনি ১৭ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

কঙ্কাল উদ্ধারের দু’দিন পর ছেলে অয়ন বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। কুলসুম বেগম হাষাড়গাঁও গ্রামের ইকবাল শেখের স্ত্রী।

পিবিআই পুলিশ সুপার আনোয়ারুল জানান, শ্রীনগর থানার লোমহর্ষক ওই মামলার সংবাদপ্রাপ্তির পর জেলা পিবিআই বিশ্বস্ত গুপ্তচর ও আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে হত্যাকারীকে শনাক্ত করে।

এরপর পিবিআই স্ব-উদ্যোগে ওই মামলা গ্রহণ করে গেল ১৮ ফেব্রুয়ারি জেলার সিরাজদিখান উপজেলার রামকৃষ্ণদি বাজার থেকে বিদেশ ফেরত সুমন শেখকে আটক করে। পরে পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে কুলসুম বেগমকে হত্যা করার নানা তথ্য দেয় ধৃত সুমন।

কুলসুম বেগমের প্রতিবেশী আলী হোসেনের ছেলে সুমন জিজ্ঞাসাবাদে পিবিআইকে জানিয়েছেন, কাতার প্রবাসে থাকাকালীন মোবাইল ফোনে কুলসুম বেগমের সঙ্গে তার পরিচয়। পরবর্তীতে দেশে ফিরলে কুলসুম বেগমের ছেলে অয়নকে বিদেশে পাঠানোর নাম করে ছয় লাখ টাকা নেন তিনি।

সুমন বলেন, অয়নকে বিদেশে পাঠাতে না পারলে কুলসুম বেগম টাকা ফেরত চাচ্ছিলেন। তারই জের ধরে গেল ১৭ জানুয়ারি মোবাইল ফোনে হাষাড়গাঁও গ্রামে কুলসুম বেগমের স্বামীর পতিত জমিতে তাকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর সেখানে দা দিয়ে কুলসুম বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করে কচুরিপানার ভেতর লাশ লুকিয়ে রাখেন।

পিবিআই পুলিশ সুপার আরও জানান, মুন্সীগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হলে ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে ধৃত সুমন।

এছাড়া তাকে আটক করার পর ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী একটি পুকুর থেকে কুলসুম বেগমের ব্যবহৃত ভ্যানিটি ব্যাগ ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করে পিবিআই টিম।