যুক্তরাজ্যের টিকা দেওয়া শুরু করার পর করোনা পরিস্থিতির ক্রমেই উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। প্রধানমন্ত্রীর এমন দাবিকে পূর্ণতা দিতেই সম্প্রতি ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড থেকে দুটি পৃথক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। ওই গবেষণায় বলা হচ্ছে, করোনার ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেওয়ার পর থেকেই আক্রান্তদের শারীরিক অসুস্থতা অনেকটাই কমতে শুরু করেছে।
পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের (পিএইচই) গত সোমবারের প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়, ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার পরেই আক্রান্তরা ৭০ শতাংশ সেরে উঠছেন। আর দ্বিতীয় ডোজ নিলে ৮৫ শতাংশ ঝুঁকি কমে যায় বলেও দাবি করা হয়েছে ওই গবেষণায়। পিএইচইর এক কর্মকর্তা সুসান হপকিন্স সাংবাদিকদের বলেন, ‘সার্বিকভাবে সংক্রমিত, উপসর্গযুক্ত ও উপসর্গহীনদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেখাতে সক্ষম হয়েছে ভ্যাকসিন।’ যুক্তরাজ্যের হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল কেয়ারের সচিব ম্যাট হ্যানকক এক বিবৃতিতে গবেষণাপত্র দুটির বক্তব্যকে ‘সুখবর’ বলে দাবি করে বলেন, ‘এর মানে ভ্যাকসিন কাজ করছে এবং এটা মানুষের জীবন বাঁচাতে সক্ষম।’
বিশ্বে যেসব দেশে ইতিমধ্যে টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে, সেখান থেকে প্রাপ্ত তথ্যও ইতিবাচক সংবাদ দিচ্ছে। আগে যে সংক্রমণ নিয়ে রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি বা মৃত্যু পর্যন্ত হতো, এখন টিকা দেওয়ার ফলে তারা বাড়িতে থেকেই সুস্থ হয়ে উঠছেন। ফাইজার-বায়োএনটেকের ভ্যাকসিন যারা নিচ্ছে, তাদের মধ্যে ইতিমধ্যেই মৃত্যুর হার ৭৫ শতাংশ কমে গেছে বলে দাবি গবেষকদের।
যুক্তরাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যে ১ লাখ ২১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিই প্রথম গণহারে টিকা দেওয়া শুরু করে। দেশটির প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশকে ইতিমধ্যেই টিকা দেওয়া হয়েছে। পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের বিভাগীয় প্রধান ড. ম্যারি রামসে বলেন, ‘আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে প্রাপ্ত তথ্য আমরা আরও যাচাই করে দেখব। প্রাথমিক ফলাফলে আমরা আশান্বিত হতেই পারি, কিন্তু আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’ ইউনিভার্সিটি অব এডিনবার্গের তথ্যমতে, ফাইজারের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার চার সপ্তাহ পার হওয়ার পর রোগীদের ৮৫ শতাংশ সেরে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যায়। ইউনিভার্সিটি আরও জানায়, রোগীদের অসুস্থতার কমার ক্ষেত্রে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনের হার ৯৪ শতাংশ।