নিউজিল্যান্ডে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে চায় বাংলাদেশ

প্রায় দেড় বছর হয়ে গেল বাংলাদেশ দলের হেড কোচের দায়িত্বে দক্ষিণ আফ্রিকার রাসেল ডমিঙ্গো। তার অধীনে টেস্টে সাফল্য বলতে গত বছরের শুরুতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়। এ ছাড়া আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত ও অতি সম্প্রতি উইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট হেরেছে বাংলাদেশ, যা তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এই অবস্থায় গতকাল দল নিয়ে ৬ সপ্তাহের নিউজিল্যান্ড সফরে বের হলেন সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ। দলের বর্তমান অবস্থা, উন্নতির জায়গাগুলো নিয়ে কথা বলেছেন তিনি ক্রিকেট পোর্টাল ক্রিকইনফোর সঙ্গে

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাদের বিপক্ষে কোনো ম্যাচ জেতেনি বাংলাদেশ...

রাসেল ডমিঙ্গো : আমরা জানি এটা একটা কঠিন সফর হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ড এখন অসাধারণ ক্রিকেট খেলছে। আমি বছরখানেক বাংলাদেশ দলের সঙ্গে আছি। ৫০ ওভারের ম্যাচ আমাদের ছেলেরা উপভোগ করে। সেখানে তারা সমীহ করার মতো খেলে। আমরা একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ আশা করছি।

সফরে ফাস্ট বোলাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। সাদা বলের ক্রিকেটের জন্য তারা কীভাবে প্রস্তুত হচ্ছে...

ডমিঙ্গো : আমরা সাকিব আল হাসানকে ছাড়া খুব বেশি ওয়ানডে ম্যাচ খেলিনি। তাকে ছাড়া দলে ভারসাম্য ফেরানোটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। মেহেদী হাসান মিরাজ দেখিয়েছে টেস্টে সে কিছু করার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু আমাদের কিছু অলরাউন্ডার খুঁজে বের করা উচিত যারা দলের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করবে। দ্বিতীয় জায়গাটা হলো আমাদের লোয়ার মিডল অর্ডারকে ম্যাচ শেষ করা শিখতে হবে। একদিকে পাওয়ার হিট করবে একজন। অন্যপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থেকে একজন ম্যাচ শেষ করবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই জায়গাটাই আমাদের উন্নতি করতে হবে।

অলরাউন্ডারের কথায় সবার আগে সাইফউদ্দিনের কথা প্রথম মাথায় আসে। চার বছর ধরে সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছে। তার উন্নতি সম্পর্কে কী বলবেন?

ডমিঙ্গো : তাকে এখনো অনেক খাটতে হবে। বিশেষ করে ব্যাটিং নিয়ে। সে যেভাবে খেলে তাতে ধারাবাহিকতার অভাব যথেষ্ট। তাছাড়া ইনজুরিতে পড়ার প্রবণতাও আছে। আমরা তার বলে ৫/৬ কিমি পেস বাড়ানোর চেষ্টা করছি। আমরা চাই ধারাবাহিকভাবে সে ১৩২-১৩৪ কিমি বেগে বোলিং করুক। সাদা বলের ক্রিকেটে সে দারুণ প্যাকেজ। কিন্তু আমার মনে হয় এখনো সে পরিপূর্ণ প্যাকেজ হয়ে উঠতে পারেনি।অধিনায়ক হিসেবে তামিম ইকবালের জন্য এই সফর কতটা চ্যালেঞ্জের। বাংলাদেশ কি সিরিজ জয়ের আশা করে?

ডমিঙ্গো : অবশ্যই। আমরা ভালো একটা পেস আক্রমণ সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি। দলে আছে তাসকিন, হাসান মাহমুদ,

মোস্তাফিজুর রহমান এবং সাইফউদ্দিনের মতো পেসার। তাছাড়া শরিফুল ইসলামের বলেও ভালো গতি আছে। আমরা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে চাই। আগের বাংলাদেশ দলগুলো বিদেশ সফরে স্পিনারদের ওপর নির্ভর করত। আমরা এটাতে পরিবর্তন আনতে চাই। আমরা চেষ্টা করব নতুন বলে পেস আক্রমণ দিয়ে উইকেট তুলতে। মাঝেও পেসারদের দিয়েই আক্রমণ করব। শুধু স্পিনের ওপর নির্ভর করব না। তামিমের জন্য পেস ও স্পিনারদের উইকেট তোলার জন্য ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করাটা চ্যালেঞ্জিং হবে।

আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পর সার্বিকভাবে দল সব ফরম্যাটে কতটা উন্নতি করেছে বলে মনে করেন?

ডমিঙ্গো : ওয়ানডে ও  টি-টোয়েন্টিতে দলের উন্নতি নিয়ে আমি দারুণ খুশি। ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি জেতার পর শেষ ম্যাচটা আমরা শেষ মুহূর্তে হেরে যাই। সেই ম্যাচটা আমাদের জেতা উচিত ছিল। তাছাড়া আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর টানা ৬টি ওয়ানডে জিতেছি। শেষ ৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচও আমরা জিতেছি। যদি সাদা বলের ক্রিকেটের পারফরম্যান্স ধরি তাহলে বলব দল ঠিক পথেই আছে। তবে টেস্ট ক্রিকেটে আমাদের যেখানে যাওয়া উচিত ছিল সেখান থেকে অনেক পিছিয়ে আছি। টেস্ট দল হতে আপনাকে ক্রিকেট সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। একদল ক্রিকেটার তৈরি করতে হবে যারা টেস্ট খেলার জন্য ক্ষুধার্ত, দক্ষ এবং পাঁচ দিন লড়ার মতো শক্তপোক্ত। আমাদের জন্য এই বড় পরিবর্তন আনা দরকার।

উইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ হারাটা খুব হতাশাজনক। এটা আমাদের জন্য একটা বার্তা। সবাইকে বোঝা উচিত আমরা টেস্টে কতটা পিছিয়ে আছি। ছেলেরা আগে দুই-একটা টেস্ট জিতেছে। কিন্তু এখনো বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজ জিততে পারেনি। টেস্টে উন্নতি করতে হলে আমাদের অনেক খাটতে হবে। কোচ এবং ম্যানেজমেন্টের জন্য টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতি একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমার কাছে টেস্ট গুরুত্ব বিবেচনায় এক নম্বর। প্লেয়ারদেরও বোঝা উচিত টেস্ট ক্রিকেট আসল। ওদের মাথায় ঢোকাতে হবে টেস্ট ক্রিকেটই আসল চ্যালেঞ্জ।

উইন্ডিজের কাছে টেস্ট সিরিজ হারের পর দলে কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?

ডমিঙ্গো : পারফরম্যান্স নিয়ে সবাই খুব হতাশ ছিল। যেভাবে টেস্ট সিরিজ শেষ হয়েছে তাতে কোচ হিসেবে খুব আহত হয়েছি। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এমনই। নিউজিল্যান্ডে এবার সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। এমন কিছু করতে হবে যা আগে কোনো বাংলাদেশ দল করতে পারেনি। সোজা কথা সিরিজ জিততে হবে। এর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। যদিও কাজটা মোটেই সহজ নয়। সবাই পেশাদার ক্রিকেটার। তারা নিজেদের মেলে ধরতে জানে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আবার যখন লাল-সবুজ জার্সি পরে তারা মাঠে নামবে তখন নিকট অতীতের পরাজয়ের গ্লানি মন থেকে মুছে ফেলবে। তার মন জুড়ে থাকবে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা।