নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা গত ডিসেম্বরে নিজ ক্ষমতাবলে পার্লামেন্ট বাতিল করে দিলে দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক সংকট শুরু হয়। প্রায় প্রতিদিনই দেশটিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানারে বিক্ষোভ হচ্ছে। ক্ষমতাসীন পার্টি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এছাড়া অন্য রাজনৈতিক দলগুলো তো আছেই। পার্লামেন্ট বাতিল করে দেওয়ায় দেশটির ধামাচাপা রাজনৈতিক সংকট নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে।
কিন্তু এই সংকটের শাপ বর হয়ে দেখা দিয়েছে উমেশ বাবু শ্রেষ্ঠর মতো অনেক ব্যবসায়ীর জন্য। রাজনৈতিক অস্থিরতায় তাদের অর্ডার বেড়েছে কয়েকগুণ। অথচ এই উমেশ বাবুই করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে গত নয় মাস ধরে বাড়িভাড়া দিতে পারছিলেন না। কারণ করোনার সময় কোনো অর্ডারই পাচ্ছিলেন না তিনি।
নেপালে এখন বহু রাজনৈতিক দল-উপদল। প্রত্যেক দল-উপদলেরই আছে নিজস্ব রাজনৈতিক চিন্তা ও পতাকা। অস্থির এই সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের পতাকা নিয়ে কাঠমান্ডুর রাস্তায় দাঁড়াচ্ছেন। আর এই পতাকাগুলো বানাতে দলগুলো ভিড় করছে উমেশ বাবু শ্রেষ্ঠর মতো পতাকা নির্মাতাদের কাছে। বড় দলগুলো থেকে দলছুট ছোট উপদলগুলো এই সুযোগে নতুন পতাকা তৈরি করছে।
উমেশ বাবু এএফপিকে বলেন, ‘এখন ব্যবসা ভালোই হচ্ছে। এই সুযোগে আমরা আমাদের বকেয়া দিতে পারছি। অন্য কিছু করে আমাদের অর্থ উপার্জনের রাস্তা নেই।’ পতাকা তৈরির দোকানগুলোতে কেবল টাটকা রঙের ঘ্রাণ আর নতুন সব পতাকা শোভা পাচ্ছে। অনেকে পতাকা অগ্রিম বানিয়ে রাখছেন চাহিদা বুঝে।
২০১৮ সালে নেপালে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার অবসানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন ৬৯ বছর বয়সী রাজনীতিক কে পি শর্মা ওলি। এক সময় তিনি ছিলেন রাজবন্দি। ফলে তার ওপর দেশটির অন্য দলগুলোর ভরসার জায়গা ছিল। কিন্তু তিনি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোতে বিভক্তি বাড়তে থাকে। অনেকে এজন্য ওলির ডিভাইড অ্যান্ড রুল পলিসিকে দায়ী করেন। স্থানীয় রাজনীতিক হেম বাহাদুর শ্রেষ্ঠ বলেন, ‘পতাকা হলো আমার পরিচয় ও মতাদর্শের প্রতীক। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থকরা ভিন্ন পতাকা বহন করে। আমরা নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে, আর এটাই আমাদের পতাকা।’
উমেশ বাবুর মতো আরেক পতাকা নির্মাতা কৈলাস শাহ। সারা বছর তার দোকানে কোনো কাজ ছিল না। কিন্তু এখন চারজন নতুন কর্মচারী নিয়োগ দিতে হয়েছে তাকে। সারা দেশ থেকে তার কাছে পতাকার অর্ডার আসছে। উল্লেখযোগ্য দোকানগুলো দিনে গড়ে তিন হাজার পতাকা বিক্রি করছে।