শেরপুরের ভারত সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার গারো পাহাড়ের ২০ হাজার একর বনভূমির প্রায় ২০ শতাংশই এখন দখলদারদের হাতে। বন বিভাগ উচ্ছেদ করতে গেলে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসের দোহাই দিয়ে জমি ছাড়ছেন না স্থানীয়রা।
বন কর্মকর্তারা বলছেন, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে গেলে বাধা পাওয়া যায়। অপরদিকে সম্প্রতি নতুনভাবে পাহাড় কেটে তৈরি করা হচ্ছে চাষবাসের জমি, তৈরি হচ্ছে বাড়ি। এতে সৌন্দর্য হারাচ্ছে বন। দখলদারদের কারণে এখন অস্তিত্ব সংকটে গারো পাহাড়।
বন বিভাগের তথ্যমতে, শেরপুর বন বিভাগের আওতায় রাংটিয়া রেঞ্জে ৮৮৮০ একর, মধুটিলা রেঞ্জে ৪২৩৫ একর এবং বালিজুড়ি রেঞ্জে ৭৫৮৫ একর বনভূমি রয়েছে। তিনটি রেঞ্জের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাংটিয়া রেঞ্জে ১৪৬৬ একর বনভূমি এখন বেদখলে। বালিজুড়ি রেঞ্জে দখলদারদের কবলে ৪৭৭ দশমিক ৩৪ একর এবং মধুটিলা রেঞ্জে ৬০২ একর।
বন বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি, দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কিংবা উচ্ছেদ করতে গেলে উল্টো বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা এমনকি হামলা করে বসে তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, শেরপুর সীমান্তে অবৈধ দখলে থাকা বেশিরভাগ জমিই এখন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও নেতাদের ছত্রছায়ায়। যার কারণে উচ্ছেদ করতে গেলে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, সীমান্তের বনভূমি দেখভাল ও রক্ষায় যে পরিমাণে লোকবল থাকা প্রয়োজন তা নেই। তাই নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালানো কঠিন।
অন্যদিকে দীর্ঘ সময় দখলে রাখা স্থানীয়রা বলছেন, অন্যত্র আবাসনের ব্যবস্থা না করে দিলে তাদের পক্ষে কোথাও যাওয়া অসম্ভব।
বন বিভাগের তথ্যমতে, উচ্ছেদ কার্যক্রমে বাধা দিয়ে গত ছয় মাসে কয়েকবার সংবাদ সম্মেলন, মিছিল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি ও মানববন্ধন করেছেন দখলদাররা। তাদের দাবি, রাজনৈতিক নেতাদের ইন্ধনে এই কর্মকান্ডে অংশ নেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ বলেন, দখলদার যেই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ঝিনাইগাতী উপজেলা চেয়ারম্যান এসএমএ ওয়ারেজ নাঈম বলেন, উচ্ছেদের আগে তাদের পুনর্বাসনের বিষয়ে আমাদের ভাবা উচিত।
ময়মনসিংহ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, নিয়মিত দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। এরপরও তাদের দমানো সম্ভব হচ্ছে না। ইতিমধ্যে দখলদারদের তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।