নোবেলজয়ী রুশ চিকিৎসক ও শরীরতাত্ত্বিক ইভান পেত্রোভিচ পাভলভ ১৯৩৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সোভিয়েত ইউনিয়নের লেনিনগ্রাদে মৃত্যুবরণ করেন। শরীরের বস্তুবাদী গবেষণার জন্য তিনি প্রসিদ্ধ। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের আধুনিক রূপান্তরে তার ব্যাপক অবদান রয়েছে। ১৮৪৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার রয়াজানে জন্মগ্রহণ করেন পাভলভ। তার বাবা ছিলেন পাদ্রি। প্রথমে ধর্মীয় বিদ্যায় শিক্ষা শুরু করলেও ২০ বছর বয়সের আগেই চার্লস ডারউইনের লেখা পড়ে বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন তরুণ পাভলভ। পাভলভের সবচেয়ে বড় অবদান ‘সাপেক্ষ প্রতিবর্ত’ ব্যাখ্যাকারী গবেষণা। গুরু মস্তিষ্কের অনেকগুলো প্রতিবর্ত ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন এবং গবেষণার মাধ্যমে কুকুরের দেহে কীভাবে এসব প্রতিবর্ত তৈরি হয় ও কাজ করে তা প্রমাণ করেন তিনি। এভাবে মানুষ এবং পশুর মস্তিষ্কের সঙ্গে বাইরের উত্তেজকের সম্পর্কের বিধান আবিষ্কার ও ব্যাখ্যা করেন তিনি। তার সাপেক্ষ প্রতিবর্ত ক্রিয়ার তত্ত্বের ভিত্তিতে আধুনিক মনোবিজ্ঞানে বস্তুবাদী ও আচরণবাদী গবেষণা এবং ব্যাখ্যা বিশেষভাবে বৃদ্ধি পায়। ১৯২২ সালে তার গবেষণা ফলাফলগুলো ভাষণ আকারে প্রকাশিত হয়। পাভলভ চিকিৎসায় নোবেল জিতেন ১৯০৪ সালে। ১৯১৫ সালে তিনি ‘কপলে মেডাল’ জিতেন। তার উল্লেখযোগ্য দুটি বই হলো লেকচার্স অন দ্য ওয়ার্ক অব দ্য ডাইজেস্টিভ গ্ল্যান্ডস (১৮৯৭) এবং কন্ডিশনার্ড রিফ্লেক্সেস : অ্যান ইনভেস্টিগেশন অব দ্য ফিজিওলজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি অব দ্য সেরেভাল কর্টেক্স (১৯২২)।