গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দিয়ে অপরাধ দমন করা যায় না। এই আইনকে কবর দেওয়া সময় এখনই। এ আইন দিয়ে গলা বন্ধ করা যাবে না।
শুক্রবার রাজধানীর ঢাকার তোপখানা রোডের শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সভা ও জাতীয় কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মুশতাক আহমেদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘এই সভা থেকে দাবি করছি তার (মুশতাক আহমেদ) পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। প্রধানমন্ত্রী জনসম্মুখে এসে তার পরিবারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুক যে এটা ভুল হয়েছে, অন্যায় হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘একটা জাতি কতটা সভ্য, কতটা ন্যায়ভিত্তিক তা নির্ভর করে কৃষক ও শ্রমিকের সাথে তাদের ব্যবহারের ওপর। কয়েক বছর আগে খুলনা গিয়েছিলাম, তখন জুটমিল শ্রমিকরা আন্দোলন করছিল, শীতের মধ্যে কষ্টের জীবন যাপন করছিল। তাদের জন্য বেশি কিছু করতে পারি নি, কিন্তু সেই স্মৃতি এখনো ব্যথা দেয়।’
শ্রমিকদের উদ্দেশে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আপনারা শ্রমিকরাই হলেন দেশ গড়ার কারিগর, আপনাদের সৃষ্টির ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ। আজকে যত বৈভব, যত বড় বড় স্বপ্ন তার প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে অবদান রয়েছে আপনাদের।’
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী তার বক্তব্য আরও বলেন, আপনাদেরকে একটা কথা বলতে চাই, আপনারা আমাদের চিফ ইলেকশন কমিশনারকে যিনি গণতন্ত্রের সিরিয়াল কিলার একটা দাওয়াত দিতে পারতেন। তিনি অন্তত দেখতে পারতেন কি করে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাজ করতে হয়। গণতন্ত্রের প্রতি আপনাদের অগাধ শ্রদ্ধা। কোন সভ্য দেশে শ্রমিকদের সাথে এরূপ আচরণ করা হয় না। আজকে আপনারা না থাকলে বাংলাদেশ নেই। এই ৯৫ ভাগ মানুষ কেউ নেই। আপনাদের দশ দফা দাবি শুনছিলাম। কোন সভ্য দেশে পাওনা না দিয়ে বিদায় করা হয় না। বরং ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় এবং এই কাজগুলো করা খুব সহজ। যেমন আপনাদের কাছে থেকে মাত্র মাসিক ১০০ টাকা নিয়ে আপনাদের পুরো পরিবারের চিকিৎসার ব্যবস্থা আমরা করেছি। কোন শ্রমিকের যদি মৃত্যু হয় তাকে ৫০ লাখ টাকার বীমা দেওয়া কোন কঠিন কাজ না। দেশের বাইরে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করছে তাদের দেখভাল করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। গত কয়েক বছরে শুধুমাত্র কাতারেই হাজারের উপর শ্রমিক মারা গিয়েছে। তাদের প্রত্যককে ৫০ লাখ টাকা করে দেওয়া রাষ্ট্রের কর্তব্য।
সংগঠনের নির্বাহী সভাপতি মোখলেসুর রহমান মাষ্টারের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এএএম ফয়েজ হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপ পরিচালক হাফিজ আহমেদ মজুমদার, শ্রমিক নেতা জাকির হোসেন, আব্দুল হাকিম, আম্বিয়া খাতুন, ইঞ্জিনিয়ার ওসমান গনি, গোলাম কাদের, নারী কমিটির সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস, যুব কমিটির সভাপতি এম এম আই সবুজ খান প্রমুখ।