‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর সফলতার পর পরিচালক দীপংকর দীপন নির্মাণ করলেন ‘অপারেশন সুন্দরবন’। ছবিটি আগামী কোরবানির ঈদে মুক্তি পাবে। দীপন এবার আইসিটি বিভাগের জন্য সিনেমা নির্মাণ করতে যাচ্ছেন। ছবিটির নাম ঠিক না হলেও এর বিষয়বস্তু তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে।
দেশ রূপান্তরকে দীপন বলেন, ‘চ্যানেল আইতে ডিজিটাল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে গিয়ে আইসিটি মন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ঘোষণা দেন যে আইসিটি বিভাগ নিয়ে একটি সিনেমা নির্মাণের। সেটি পরিচালনা করব আমি। তো তরুণ প্রজন্ম যারা আইসিটি নিয়ে কাজ করছে তাদের নিয়েই সিনেমাটা নির্মাণ করতে যাচ্ছি।’
গল্প ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে দীপন বলেন, ‘গল্পটা খুবই ইন্টারেস্টিং। রাজশাহীর একটি ছেলে ঢাকায় আসে। এসে বুয়েটের একটা মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয়, যশোরের একটা ছেলের সঙ্গে পরিচয় হয়, তারা একটা টিম গঠন করে একটা কিছু নির্মাণ করে যেটা পুরো পৃথিবীকে বদলে ফেলে। এ ছাড়া এর মাধ্যমে বাংলাদেশ যদি কোনো সাইবারযুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত হয় তাহলে বাংলাদেশের সক্ষমতা কতটুকু আছে, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম যারা দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছে এই তরুণ প্রজন্ম দেশকে সাইবার ওয়ার থেকে বাঁচায়। সাইবার যুদ্ধের বিষয়টা থাকছে। এখানে প্রোগ্রামিংয়ের বিষয়গুলোও তুলে ধরা হবে।’
শুটিং কবে নাগাদ শুরু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বছরের ১৬ ডিসেম্বর সিনেমাটি যেহেতু মুক্তি দিতে হবে সেক্ষেত্রে শিগগিরই সিনেমাটির শুটিং শুরু করতে হবে।’
এখনো শিল্পী চূড়ান্ত করেননি জানিয়ে দীপন বলেন, ‘সব আর্টিস্ট এখনো চূড়ান্ত করিনি। সব আর্টিস্ট চূড়ান্ত হলে আমাদের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মোশন পিপলস স্টুডিও থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। তখন সবাই জানতে পারবেন কে বা কারা থাকছেন আমাদের এই সিনেমায়।’
দীপন ছবিটিকে বিশেষ দাবী করে বলেন, ‘এই ছবিটা আমাদের জন্য বেশ স্পেশাল ছবি। আমরা এই ছবির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছি গত বছর। পুরো এক বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছি। আমার ধারণা ছিল না যে আমাদের তরুণ প্রজন্মের ছেলেরা এতটা বিপ্লব করে ফেলেছে। রাজশাহী মহেশখালিসহ দেশের নানা প্রান্তের তরুণরা কি ধরনের বড় বড় কাজ করছে। আমি সারা দেশ থেকে এরকম তরুণদের খুঁজে বের করেছি যারা প্রোগ্রামিং নিয়ে কাজ করছে, তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এদের ক্যারেক্টারগুলোকে ধরেই আমার গল্পের চরিত্রগুলো তৈরি করছি। এদের প্রত্যেকের বয়স ২০ থেকে ২৪-এর ভেতরে। এরা অসাধারণ মেধাবী। আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি আমরা আমাদের তরুণদের নিয়ে অহংকার করতে পারি। ২০১৬-১৭ সালে আইসিটি বিভাগ অনেকগুলো ওয়ার্কশপ করিয়েছে। অনেকগুলো হাইটেক পার্ক গড়ে তুলেছে। আইসিটি বিভাগ ঘোষণা দিয়েছে প্রতিটি হাইটেক পার্কে একটি করে সিনেমা হল হবে। আমাদের সিনেমা দিয়েই প্রথম সিনেমা হলটি যাত্রা শুরু করবে। এটা আমাদের জন্য খুবই স্পেশাল।’
নতুন এই সিনেমা বানানোটা দীপনের টিমের জন্য অনেকটা চ্যালেঞ্জেরও। তার টিম এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য কতটুকু প্রস্তুত? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অপারেশন সুন্দরবনের মতো অনেক বড় টিম পাইনি এটা ঠিক, কিন্তু আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সহায়তা পাচ্ছি। একটা কাঠামোর ভেতর দিয়ে প্রপারলি কাজটা শুরু হচ্ছে। ফলে আমি বলতে চাই, আমার টিম এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুরোদমে প্রস্তুত।’