নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে প্রবাসে চাকরি দেওয়ার নাম করে একটি প্রতারকচক্র ১৫টি পরিবারের কাছ থেকে অন্তত ৪২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তা-ই নয়, প্রতারণার মামলায় ওই চক্রের হোতা পুলিশের কাছে ধরা পড়ার পর তার সহযোগীরা নিঃস্ব কৃষক পরিবারগুলোকে দিচ্ছে হুমকি।
পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, শুধু রূপগঞ্জেই নয়, ঢাকা-কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ওই প্রতারকচক্রটি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। তাদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডজনখানেক মামলা রয়েছে। রয়েছে তিন বছরের সাজাও।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আদাবর থানার পুলিশ প্রতারকচক্রের মূল হোতা মোজাম্মেল হক হৃদয়কে (৪৬) ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করলেও তার সহযোগীরা উন্মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নিঃস্ব হওয়া পরিবারগুলো মামলা করায় প্রতারক হৃদয়ের সহযোগীরা তাদের হুমকি দিতে থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা। গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হক হৃদয় কুমিল্লার বরুড়া থানার দেওয়াতলী গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে। তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরের আদাবর থানার ঢাকা হাউজিং এলাকায় বসবাস করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, মোজাম্মেল ট্যুরিস্ট ভিসায় দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করে সেখানে চাকরিরত বাংলাদেশের সহজ-সরল মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেন। মাদক কারবারের সঙ্গেও তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
প্রতারণার শিকার রফিজ উদ্দিন জানান, তার ছেলে নাসির উদ্দিন পড়াশোনা করতেন চীনের গোয়াংজু সিটিতে। দুই বছর আগে সেখানে প্রতারক মোজাম্মেলের সঙ্গে পরিচয় হয় নাসিরের। এরপর বছর দেড়েক আগে হৃদয় নাসিরকে বনানী ও গুলশানের অফিসে ডেকে নিয়ে তার ছোট ভাইদের কুয়েতে পাঠানোর নামে ৯ লাখ টাকা নেন। এ খবর আশপাশের আত্মীয়স্বজনদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে তারাও কুয়েত পাঠানোর জন্য টাকা দেন।
টাকা জমাদানকারীদের মধ্যে আছেন কাঞ্চন এলাকার সোহেল মিয়া, আল আমিন মিয়া, আরমান, মিলন, সমির বর্মণ, সজীব চন্দ্র বর্মণ, দয়াল বর্মণ, সবুজ, ইসমাইল, সোহানুর ভূঁইয়া, মুহাইমিন, জামান, ইসরাফিল, সোনারগাঁয়ের টুটুল চন্দ্র বর্মণ, বেলাব এলাকার মানিক মিয়া প্রমুখ। তারা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ৪২ লাখ টাকা দেন মোজাম্মেল হক হৃদয়কে। কিন্তু টাকা নেয়ার পর হৃদয় গা ঢাকা দেন।
ঘরবাড়ি, জমিজমা বিক্রি ও ধারদেনা করে টাকা দিয়ে বিদেশে না যেতে পেরে এসব পরিবার এখন খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। প্রতারণার অভিযোগ এনে সোহেল মিয়া বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় ও নাসির উদ্দিন মিয়া বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলা করেন।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে ৭০ জনের কাছ থেকে এমন করেই বিদেশ নেওয়ার নামে নিরীহদের কাছ থেকে লাখ লাখ আত্মসাৎ করেছেন বলে প্রতারণার মামলা রয়েছে। কুমিল্লার আদালতে প্রতারণার মামলায় তিন বছরের সাজাও হয়েছে মোজাম্মেল হক হৃদয়ের।
এসব ঘটনার বিষয়ে পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জেলা পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন প্রতারণার শিকার লোকজন।
রূপগঞ্জ থানার ওসি মহসিনুল কাদির বলেন, যেহেতু আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন, এখন অন্যান্য থানার মামলাগুলোও আদালতে উত্থাপন করা হবে।