শিশুরা খেলতে খেলতে মুখে হাত দেয়, এমনকি খেলনাও মুখে পুরে ফেলে। খালি পায়ে বাইরে হাঁটাচলার কারণে কৃমি শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এ ছাড়া শিশুরা হামাগুড়ি দিতে শুরু করলে বা নতুন হাঁটতে শেখার সময় থেকেই কৃমির সংক্রমণ শুরু হয়। তাই শিশুকে হাঁটার সময় খালি পায়ে হাঁটতে দেবেন না।
কৃমি আছে যেভাবে বুঝবেন
ঘন ঘন পেটে ব্যথা ও খিদে কম পাওয়া।
খাবার খেলে যদি পেটে ব্যথা করে তখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
অনেক শিশু আবার অকারণেই থুতু ফেলতে থাকে বা থুতু ছিটায়।
খামচে দেয়, কামড়ে দেয়। কৃমির উপদ্রব বাড়লে এটা করতে পারে।
অনেক সময় মলের মাধ্যমেও কৃমি বেরিয়ে আসে। তাই স্টুলের দিকেও নজর রাখতে হবে।
কখনো বমি হতে পারে এমনকি কৃমি ক্ষুদ্রান্ত্রকে বন্ধ করে দিয়ে প্রচণ্ড পেটব্যথার সৃষ্টি করতে পারে। এ ছাড়া অন্ত্রনালিকে ছিদ্র করে দিতে পারে। কোন কোন সময় কৃমি পিত্তনালিতে ঢুকে পিত্তনালির পথ বন্ধ করে দিয়ে জন্ডিসের সৃষ্টি করার মতো মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে।
প্রতিকার
কৃমির চিকিৎসা দেওয়ার আগে কৃমি হয়েছে কি না, সেই বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। যেকোনো কৃমির ক্ষেত্রে যে ওষুধ সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, সেটি হচ্ছে মেবেনডাজল। শিশুদের বেলায় আরমক্স/মেবেন সিরাপ চা চামচের এক চামচ করে দিনে দুবার মোট তিন দিন খেতে দেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া কৃমির জন্য অন্য একটি ওষুধ এলবেনডাজল। বাজারে এটি আলবেনসহ অনেক নামে পাওয়া যায়। বয়স্ক ও শিশু উভয়ের বেলায় দুটি আলবেন রাতে ঘুমানোর সময় খাইয়ে দেওয়া যেতে পারে। দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের বেলায় ২০০ মিলিগ্রামের একটি আলবেন ট্যাবলেট খাওয়ালেই চলবে। তবে যেকোনো ওষুধ সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কৃমি প্রতিকারে করণীয়
খাবার, পানি, এমনকি ন্যাপি বদলানোর আগেও হাত ভালো করে সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রয়োজনে হ্যান্ড স্যানিটাইজারও ব্যবহার করতে পারেন।
শিশুটি বাইরে থেকে খেলে বা ঘুরে এলে অবশ্যই ভালো করে সাবান দিয়ে তার হাত-পা ধুয়ে দিন।
শিশুর নখ পরিষ্কার ও নিয়মিত নখ কাটতে হবে। খেয়াল রাখুন, সে যেন নখ না খায়। নখের কোণে যে ময়লা জমে, তার থেকেও কিন্তু কৃমি প্রবেশ করতে পারে শরীরে।
ফল সবজি ও বাজার থেকে এনে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।