বেড়েছে সুতার দাম, প্রণোদনা পরিশোধে আরো সময় দাবি পোশাক মালিকদের

করোনার সময়ে সরকারের দেওয়ায় প্রণোদনা ঋণ পরিশোধে আপাতত শুধু সুদ দিতে চান পোশাক মালিকরা। মঙ্গলবার রাতে সংগঠনটির বিশেষ সাধারণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন নিটওয়্যার তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি সেলিম ওসমান।

তিনি বলেন, ‘সামনে রোজা আসছে। এরপর রোজার ঈদ। এর কিছুদিন পরে কোরবানির ঈদ। দুই ঈদেই বেতন-বোনাস আছে। সামনের অবস্থাটা কল্পনা করতে পারছি না। এর মধ্যেই ব্যাংক আমাদের কাছে আসল ও সুদ দুইটাই দাবি করছে। আমরা আপাতত সুদটা দিতে পারব। কিন্তু আসল পরিশোধে কমপক্ষে দুই বছর সময় দিতে হবে। আমরা আটকে গেলে (ব্যাংক এলসি লিমিট) দেশের প্রত্যেকটা আইটেমে (প্রত্যেকটি সেক্টরে) এর প্রভাব পড়বে। যদি সম্ভব হয় তাহলে সরকার শ্রমিকের বেতন পরিশোধের জন্য আরো একটা প্রণোদনা দিক। এটা সবার জন্য ভালো হবে। তবে এমনভাবে কিছু চাইতে হবে যাতে চাওয়াটা সরকারের কাছে সহনীয় হয়। আমাদের দেশে আরও ব্যবসা আছে’।

এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে পোশাক মালিকদের দেওয়া ঋণ পরিশোধে ছয় মাস সময় বাড়ানো হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে এ ঘোষণা দেয়। 

সেলিম ওসমান বলেন, মাফিয়া চক্র তুলা ও সুতার বাজারে ভর করেছে। এ কারণে প্রতিদিন সুতার দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। সব পক্ষকে বসে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।

স্পিনিং মালিকরা এমন করলে অন্য দেশ থেকে বাড়তি দামে সুতা আনার হুঁশিয়ার দেন তিনি।

এ সময় সংগঠনটির পরিচালক ফজলে শামীম এহসান, বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি ও জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হাসানসহ পর্ষদ সদস্য ও সাধারণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে পোশাক মালিকরা বলেন, করোনায় কনটেইনার ভাড়া দ্বিগুণ হয়েছে। কনটেইনার জটের কারণে পোর্টে ড্যামারেজ গুণতে হচ্ছে। এসবের মধ্যেই প্রতিদিন ১০-১৫ সেন্ট করে সুতার দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন স্পিনিং মিল মালিকরা। অথচ তাদের কাছে ২-৩ মাস পর্যন্ত সুতা মজুদ থাকে। বর্তমানে ক্রয়াদেশ ও দর দুটোই ভালো। কিন্তু হুটহাট করে সুতার দাম বেড়ে যাওয়ায় হিসেব মিলানো সম্ভব হচ্ছে না। একই পণ্যের জন্য ক্রেতাদের কাছে বারবার যাওয়া যায় না। তাই বর্তমানে সুতার দামই বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সুতার দাম নিয়ে একটা নীতি থাকা প্রয়োজন। আজকে সুতার অর্ডার দিয়ে ৭ দিন পরে বলবে দাম বাড়াতে হবে। এটা ব্যবসার নীতি না।

বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘নিটখাতে সুতার দাম বেড়েছে, কটনের প্রাইস বেড়েছে। এখন আমাদের দুইভাবে ভাবতে হচ্ছে। ব্যবসা কীভাবে চালাব, শ্রমিকদের কীভাবে টাকা দেব। সামনের অবস্থাটা কল্পনা করতে পারছি না।আমাদের দেশে আরো ব্যবসা আছে। এমনভাবে কিছু চাইতে হবে, যাতে চাওয়াটা সরকারের কাছে সহনীয় হয়।’

তুহিন নামে প্রবীণ এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘প্রণোদনার কিস্তি ১৮ কিস্তির পরিবর্তে ৬০ কিস্তি করার দাবি জানাই। সুতার বিষয়ে একটা নিয়মনীতি হোক। এখন অর্ডার দিচ্ছি ৭ দিন পরে বলবে দাম বাড়াতে হবে। এটা ব্যবসার নীতি না। ১০০ টাকা প্রণোদনা নিচ্ছি, ১০ টাকা ট্যাক্স কেটে নিচ্ছে। ছোট কারখানা বন্ড লাইসেন্স পায় না, নানান সমস্যায় পড়তে হয়। কন্টেইনার ভাড়া সাড়ে ৫ হাজার ডলার। প্রতিদিন ১০-১৫ সেন্ট করে সুতার দাম বাড়ায়। ২-৩ মাস পর্যন্ত সুতা মজুদ থাকে। অনেক স্পেয়ার্স পার্টসে ১০০ ভাগ শুল্ক দিতে হয়।’

সেলিম ওসমান ও তার সংগঠনের সদস্যদের অভিযোগের বিষয়ে টেক্সটাইল মিল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, ‘এবার সারা পৃথিবীতে নিটওয়্যার ব্যবহার বেড়েছে। ৫ শতাংশ উৎপাদন চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য হয়নি। ৮ লাখ টন সুতা বাড়তি ছিল কোভিড-১৯ সময়ে। আপনারা নেননি। আমরা একে অপরের সহায়ক। ৯০০ মিলিয়ন ডলারের তুলা বাইব্যাক করছে। এ কারণে সুতার দাম কিছুটা বেড়েছে তবে অন্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে সহনীয়। তাই সুতার দাম বাড়া নিয়ে আপনারা আমাদের অভিযোগ করবেন না। টেক্সটাইল মিলের মালিকরা প্রণোদনার টাকা পায়নি। ব্যাক টু ব্যাক এলসি হবে ইনসেন্টিভ এর মূল উপাদান।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘সরকার প্রধান শেখ হাসিনা ব্যবসাবান্ধব। আমরা আমাদের সমস্যার কথা তার কাছে পৌঁছে দিতে পারলেই সমাধান আসবে। তিনি ব্যাংক ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে এনেছেন। আমাদের সমস্যা তৈরি করছে কাস্টমস, সেখানে দুর্নীতি আছে অতিমাত্রার। আমরা এটা চাই না, এ সমস্যার সমাধানে আমরা আবারও কথা বলব।’