চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা পদ্মা ফেরিঘাটে কৃষকদের জিম্মি করে টোল আদায়ের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ করা হয়েছে। মূল নদীঘাট থেকে ৪-৫ কিলোমিটার দূরে প্রধান সড়কের মুখে টোলঘর বসিয়ে আদায় করা হচ্ছে টাকা। পদ্মা নদীর এপারের মানুষকেও নদী পার না হলেও টোলঘর পার হলেই দিতে হচ্ছে টাকা। গতকাল বুধবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবে পাঁকা ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়।
পাঁকা এলাকাবাসীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মামুন অর রশিদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওই এলাকার শরিফুল ইসলাম লিটন, রবিউল ইসলাম, ওবাইদুর রহমান, রুহুল আমীন, রাকিবুল, এসএম আল-আমীন জুয়েল ও নদীতীরের বরইচাষি মেসবাহুল আলম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, শিবগঞ্জের পদ্মা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের পাঁকা ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের উপজেলা সদর ও জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের পথ হচ্ছে পাঁকা পদ্মা ফেরিঘাট। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, চর নিশিপাড়া, চর সেতারাপাড়া, চর কদমতলা, শিয়ালপাড়া, চর লক্ষ্মীপুর, চর কটাপাড়া এসব এলাকার মানুষ পদ্মা নদীর এপারের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও শিবগঞ্জ-রানীহাটি-ছত্রাজিতপুর এলাকায় আসতে গেলে তাদের কাছ থেকে টোল আদায় করা হয়। এছাড়া নদীঘাট থেকে ৪-৫ কিলোমিটার দূরে প্রধান সড়কের মুখে টোল আদায়ের ঘর বসিয়ে কৃষকদের কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হচ্ছে। নদীতীরের কৃষিজমিতে যেতে গেলেও তাদের কাছ থেকেও অবৈধভাবে টাকা নেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নদীঘাটে টোল আদায়ের চার্ট টানানো না থাকায় সরকার নির্ধারিত টোলের চেয়ে অনেক বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, পদ্মা নদীর মোট ছয়টি ঘাটের মধ্যে মাত্র দুটি ঘাট ইজারা দিয়ে বাকি চারটি ঘাটে অবৈধভাবে টাকা আদায় করছেন সাংসদ ডা. সামিল উদ্দীন আহম্মেদ শিমুল ও তার ভাই জাকির আহম্মেদ মিতুর লোকজন। জামাল উদ্দীন ওরফে জামাল মেম্বার, আনুসহ একটি সিন্ডিকেট এই টাকা আদায় করছে। চারটি ঘাট থেকে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খাস কালেকশন হলেও কোষাগারে জমা দেওয়া হয় মাত্র ১ হাজার টাকা।
অবৈধ টাকা উত্তোলন বন্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক, শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অন্যদের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগের ব্যাপারে জামাল উদ্দীন জামাল মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ঘাটের ইজারাদার জাব্বার হোসেন। আমি তার ব্যবসায়িক পার্টনার। আমরা অনেক টাকা দিয়ে ভরা নদীর ঘাট কিনেছি।’
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব আল রাব্বী বলেন, ‘সব ঘাটেরই ইজারা হয়েছে। সমস্যাটি নিয়ে গত ১ মার্চ ইজারাদার ও এলাকাবাসী আমার অফিসে বসে একটা সমঝোতা করেছে।’
অভিযোগের ব্যাপারে সাংসদ ডা. সামিল উদ্দীন আহম্মেদ শিমুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ইজারার সঙ্গে আমার সম্পর্ক নেই। ইজারা দিয়েছে উপজেলা পরিষদ। আমার কোনো আত্মীয়স্বজনকেও ইজারা দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য আমার নাম ব্যবহার করা হচ্ছে।’