মেট্রোরেল

জাপান থেকে আসছে এক সেট ট্রেন

মেট্রোরেল প্রকল্পের জন্য ২৪ সেট ট্রেন তৈরি করছে জাপান। এর মধ্যে রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের জন্য একটি ট্রেন সেট জাপানের কোবে বন্দর থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় জাহাজে করে রওনা দিয়েছে। একে একে প্রথম ধাপে পাঁচটি ট্রেন আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকায় এসে পৌঁছাবে। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক বলেন, জাপান থেকে প্রথম ট্রেন সেটটি রওনা দিয়েছে। এটি প্রথমে মোংলা বন্দরে আসবে। পরে ঢাকায় প্রকল্পের উত্তরা ডিপোয় আনা হবে। এখন আমাদের ব্যস্ততায় সময় কাটছে। নির্ধারিত সময়ে দেশের প্রথম মেট্রোরেলে ট্রেন চলাচল শুরু করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

দেশে মেট্রোরেলের সেটগুলো আনার আগে সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ডিএমটিসিএলের একটি বিশেষজ্ঞ দলের জাপান যাওয়ার কথা ছিল। করোনা পরিস্থিতির ফলে জাপান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ কারণে ট্রেনগুলো জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়েছে ডিএমটিসিএল। 

প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, মেট্রোরেল প্রকল্পের জন্য ২৪ সেট ট্রেন তৈরি করছে জাপান। প্রতি সেট ট্রেনের দুপাশে দুটো ইঞ্জিন থাকছে। আর মধ্যে থাকবে চারটি করে কোচ।

দ্বিতীয় সেট ট্রেনটি জাপান থেকে ১৫ এপ্রিল রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। এটি ঢাকায় পৌঁছাতে পারে ১৬ জুন। তৃতীয় ট্রেনটি ১৩ জুন রওনা দিয়ে ১৩ আগস্ট ঢাকায় পৌঁছানোর কথা। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হবে দ্রুত। এরই মধ্যে প্রকল্প এলাকায় পাঁচটি রেলস্টেশন প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।

মেট্রোরেলের ট্রেন সেট জাপানের কোবে বন্দর থেকে বৃহস্পতিবার জাহাজে করে রওনা দেয়।

জাপানের কাওয়াসাকি-মিৎসুবিশি ট্রেনগুলো তৈরি করেছে। একেকটি ট্রেনের দাম পড়ছে ৩ হাজার ২০৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা করে। শুল্ক ও ভ্যাট মিলিয়ে এসব ট্রেন বাংলাদেশে আসার পর মোট খরচ পড়বে ৪ হাজার ২৫৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা করে।

ট্রেনগুলোয় ডিসি ১৫০০ ভোল্ট বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা থাকবে। স্টেইনলেস স্টিল বডির ট্রেনগুলোয় থাকবে লম্বালম্বি সিট। প্রতিটি ট্রেনে থাকবে দুটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রতিটি বগির দুপাশে থাকবে চারটি করে দরজা। জাপানি স্ট্যান্ডার্ডের নিরাপত্তাব্যবস্থা সংবলিত প্রতিটি ট্রেনের যাত্রী ধারণক্ষমতা হবে এক হাজার ৭৩৮ জন। মেট্রো রেলপথটি হবে উড়াল রেলপথ। প্রায় ২০ কিলোমিটার রেলপথটি পরে কমলাপুর পর্যন্ত বর্ধিত হবে।

ডিএমটিসিএল সূত্র আরও জানায়, মেট্রোরেলের দ্বিতীয় সেট জাপান থেকে রওনা দেবে আগামী ১৫ এপ্রিল, উত্তরায় তা পৌঁছানোর কথা ১৬ জুন। তৃতীয় সেটটি রওনা করবে ১৩ জুন, ঢাকায় আসার সম্ভাব্য তারিখ ১৩ আগস্ট। বাকি দুই সেট ট্রেনও চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মেট্রোরেল উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত একবারেই চালু হবে, নাকি দুই ভাগে যাত্রী পরিবহন শুরু হবেÑএটা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মতদ্বৈততা আছে। কারও কারও মত হচ্ছে, উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত আগে চালু হোক। এ ক্ষেত্রে চালুর সম্ভাব্য তারিখ ধরা হয়েছে আগামী ১৬ ডিসেম্বর। তবে এর মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আগারগাঁও পর্যন্ত আগে চালু হলে যাত্রীদের অন্যত্র যাওয়ার জন্য যে বাস বা অন্য ব্যবস্থা দরকার, তা এখন নেই। এ ছাড়া কারিগরি কিছু জটিলতাও হতে পারে। এ বিবেচনায় উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পুরোটা একবারে চালু করার সম্ভাব্য সময়সীমা ২০২২ সালের ডিসেম্বর। তবে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত।