বাংলা সাহিত্যে যুগসন্ধিক্ষণের কবি এবং অন্যতম পথিকৃৎ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮১২ খ্রিস্টাব্দের ৬ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা হরিনারায়ণ গুপ্ত প্রথমদিকে কবিরাজি চিকিৎসা করতেন; পরে শেয়ালডাঙ্গার কুঠিবাড়িতে চাকরি করেন। দশ বছর বয়সে মাতৃবিয়োগের পর ঈশ্বরচন্দ্র জোড়াসাঁকোয় মাতুলালয়ে আশ্রয় নেন। তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বেশিদূর এগোয়নি। তবে অসাধারণ মেধা ও স্মৃতিশক্তির অধিকারী ঈশ্বরচন্দ্র নিজ চেষ্টায় বাংলা, সংস্কৃত ও ইংরেজি ভাষা শেখেন এবং বেদান্ত দর্শনে পারদর্শিতা লাভ করেন। ১৮৩১ সালে তিনি সাপ্তাহিক ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। মাঝে চার বছর বন্ধ থাকার পর ১৮৩৬ সালে পত্রিকাটি সপ্তাহে ‘তিন সংখ্যা’ করে প্রকাশিত হতে থাকে। তার সুযোগ্য সম্পাদনায় ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন থেকে ‘সংবাদ প্রভাকর’ দৈনিক পত্রিকায় রূপান্তরিত হয়। আধুনিক বাংলার সমাজ গঠনে ‘সংবাদ প্রভাকরের’ ভূূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রতœাবলী, পাষ-পীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন। ঈশ্বরচন্দ্র প্রথমে কিছুটা রক্ষণশীল থাকলেও পরে তিনি প্রগতিশীল ভাবধারার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেন। ঈশ্বরচন্দ্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো ভারতচন্দ্র রায়, রামপ্রসাদ সেন, নিধুগুপ্ত, হরু ঠাকুর ও কয়েকজন কবিয়ালের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছোটবেলা থেকেই মুখে মুখে কবিতা রচনা করতেন এবং কবিয়ালদের গান বেঁধে দিতেন। সমসাময়িক ঘটনাকে ব্যঙ্গ করে তিনি অসংখ্য খ-কবিতা সংবাদ প্রভাকরে প্রকাশ করেন। উনিশ শতকের প্রথম ভাগের এ কবি স্বদেশমূলক যেসব কবিতা রচনা করেছেন তার জন্যও তিনি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছেন। ১৮৫৯ সালের ২৩ জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।