নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক ঘনিষ্ঠজনকে বলেছেন ‘নোয়াখালী চালাই আমি।’ গতকাল শুক্রবার সকালে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের সুবর্ণচরের চরজব্বর থানায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
ওই কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভাই কাদের মির্জার প্রতি ইঙ্গিত করে সাংসদ একরামুল করিম বলেন, ‘সারা নোয়াখালীতে আমার জনপ্রিয়তা দেখে ওবায়দুল কাদের সাহেবের ভাই মির্জা কাদের সারা দিন-রাত বাঘ, বাঘ, বাঘ করতেছিল। সে প্রথম আমাকে দিয়ে শুরু করেছে। যাইতে যাইতে তার ভাবি এবং ওবায়দুল কাদেরসহ বাংলাদেশের কোনো নেতা বাদ দেয়নি। শেষ পর্যন্ত নেত্রীকে নিয়েও বলেছে। সে পাগলকে সামলাতে গিয়ে কিছু কারণবশত কারও কারও সঙ্গে টেলিফোনে কারও কথা হইতেই পারে।’
একরামুল করিম আরও বলেন, ‘গত ছয় দিন আমি ঢাকাতে ছিলাম। আমি নেত্রীকে কতগুলো মেসেজ পাঠিয়েছি। উনি মেসেজগুলো দেখেছেন। ঢাকায় নেত্রীর সঙ্গে যিনি সব সময় থাকেন, তিনি আমাকে বললেন, ‘নেত্রী আপনাকে এত ভালো জানেন। আপনি কেন ঢাকায় ঘুরতেছেন’, আমি বলি, ‘আমাদের কমিটিটা দরকার।’ তিনি আমার কাছে জানতে চান, ‘নোয়াখালী চালায় কে?’ আমি বলি, ‘নোয়াখালী চালাই আমি।’ তিনি আমাকে বলেন, ‘নেত্রী কি আপনাকে না চালাতে বলছে।’ আমি বলি, ‘না।’ তিনি আবার বলেন, ‘নেত্রী জানেন যে আপনিই চালাবেন নোয়াখালী। আপনি যাই (গিয়ে) নোয়াখালী চালাতে থাকেন।’
সভায় উপস্থিত ছিলেন সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইনজীবী ওমর ফারুক, চরআমান উল্যাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন, চরক্লার্ক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল বাসার আজাদ, সুবর্ণচর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম রাজীব, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন জাবেদ প্রমুখ।
আলোচিত কাদের মির্জা শুরু থেকেই নোয়াখালীর সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরীর পাশাপাশি ফেনীর স্থানীয় সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী, দাগনভূঞা উপজেলা চেয়ারম্যান দিদারুল কবির, সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ ও ফেনী পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজীর বিরুদ্ধে বিষোদগার করে আসছেন।