হ্যারি-মেগানের সাক্ষাৎকার নিয়ে বিতর্ক কেন

ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্স এক বছর আগেই ব্রিটিশ রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রিন্স হ্যারি ও মেগান এখন যুক্তরাষ্ট্রে বাস করছেন। সেখান থেকেই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ রাজপরিবার ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তারা অপরাহ উইনফ্রের অনুষ্ঠানে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। এই সাক্ষাৎকারটি ইতিমধ্যেই ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি এমন প্রশ্নেরও সৃষ্টি হয়েছে যে, হ্যারি ও মেগান এখনো রাজপরিবারের সদস্য আছেন কিনা।

অপরাহ উইনফ্রে ২০১৮ সালে হ্যারি ও মেগানের বিয়েতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেই তিনিই সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হ্যারি ও মেগানের। সাক্ষাৎকারটি আজ রবিবার প্রকাশিত হবে। বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসার আগে রাজপরিবারে থাকাকালীন নিজেদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা থাকবে সাক্ষাৎকারে।

এখন উইনফ্রের এই সাক্ষাৎকারটি ব্রিটিশ রাজপরিবারের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।

রানীর স্বামী প্রিন্স ফিলিপ এখন হাসপাতালে আছেন স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে। ফলে তার তরফ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া আসার সম্ভাবনা আপাতত নেই। সম্প্রতি টাইমস পত্রিকার এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, রাজপরিবারের হয়ে কাজ করার সময় মেগান রীতিমতো বাজে ব্যবহারের শিকার হয়েছিলেন। এক অভিযোগকারী জানান, মেগান রাজপরিবারে থাকাকালীন তার দুই ব্যক্তিগত কর্মচারীকে বহিষ্কার করেছিলেন তৃতীয় এক কর্মচারীর আস্থাভাজন হয়ে। যদিও মেগানের মুখপাত্র জানান, ‘মেগান তার বিরুদ্ধে আনীত সর্বশেষ অভিযোগ নিয়ে দুঃখিত।’ আর এ বিষয়ে রাজপ্রাসাদ বলছে, তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

হ্যারি ও মেগান এখনো রাজপরিবারের অংশ হলেও তারা রাজকীয় কোনো দায়িত্ব পালন করছেন না। পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের বেশ কিছু দায়িত্ব পালন করতে হয়, যেমন রানীর হয়ে বিভিন্ন দেশে সফর, জাতীয় দিবসগুলোতে অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন দাতব্য সংস্থাকে সমর্থন দেওয়া। ২০২০ সালের শুরুতে হ্যারি ও মেগান এক ঘোষণার মাধ্যমে সব রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে আসেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারা জানান যে, রাজকীয় সব দায়িত্ব থেকে তারা স্থায়ীভাবে সরে দাঁড়াচ্ছেন। তারপর রানী এক বিবৃতির মাধ্যমে ওই দম্পতিকে সব দায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি দেন।