দিনাজপুরের পার্বতীপুরে করোনার কারণে শিক্ষার্থীদের ১০ হাজার টাকা সরকারি অনুদান দেওয়ার ‘গুজব’ ছড়িয়ে পড়েছে।
রবিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এটি করোনা প্রণোদনা বা স্টুডেন্ট ভাতা নয়। গত বছরের মতো এ বছরও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ অনুদানের জন্য আবেদন চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংস্কার, আসবাবপত্র, খেলার সামগ্রী এবং পাঠাগার উন্নয়নের জন্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবেদন করতে পারবে। রবিবার আবেদনের শেষ সময়।
অন্যদিকে গুজবের কারণে শনিবার রাত ৯ টা পর্যন্ত শহরে ফটোকপি ও অনলাইন সার্ভিসের দোকানগুলোতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। তবে, ওয়েবসাইটে (সার্ভার) ঢোকা যাচ্ছিল না।
কম্পিউটার ও অনলাইন সার্ভিসের দোকানগুলো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে ফরম পূরণের জন্য ১০০ টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে।
ফরম পূরণের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রত্যয়ন নিতে শহরের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতেও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় দেখা গেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিনা মূল্যে প্রত্যয়ন দিলেও কোনো প্রতিষ্ঠান ১০০-১৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করেছে।
পার্বতীপুর আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক সরদার বলেন, সবাইকে এই অনুদান দেয়া হবে না। সরকারি চিঠিতে বলা হয়েছে- দুস্থ, প্রতিবন্ধী, গরিব ও অনগ্রসর ছাত্র-ছাত্রীরা অগ্রাধিকার পাবেন। দুরারোগ্য ব্যাধি ও দৈব দুর্ঘটনার শিকার শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা এই অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। চিঠিতে সব শিক্ষার্থীর আবেদনের সুযোগ নেই। কিন্তু গুজবের কারণে সবাই প্রত্যয়নের জন্য ভিড় করছে।
শিক্ষার্থী সাথী আরা জানান, করোনায় স্টুডেন্ট ভাতা হিসেবে ১০ হাজার টাকা প্রদান করার বিষয়ে শুনে শহরে এসেছেন। দুপুরে প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে প্রত্যয়ন নিয়ে অনলাইনে আবেদন করার জন্য গিয়েছেন।
অভিভাবক আজাহার আলী জানান, সবার মুখে মুখে ১০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার কথা শুনে মেয়েকে নিয়ে এসেছেন আবেদন করতে আসেন শহরে। তবে সার্ভারে ঢোকা যাচ্ছে না।