মাদারীপুরের রাজৈরে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়া ও ফটোসেশনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গতকাল রবিবার সকালে উপজেলার বেপারীপাড়া মোড় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাজৈর উপজেলার বেপারীপাড়া মোড়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালন উপলক্ষে রবিবার সকাল ৮টার দিকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের পর আয়োজিত র্যালির ব্যানারের সামনে দাঁড়িয়ে ফটোসেশনের সময় মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লার সমর্থক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জামাল মাতুব্বর ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহজাহান খান এমপির সমর্থক উপজেলা বঙ্গবন্ধুর মানবকল্যাণ পরিষদের সভাপতি নাসির খালাসীর মধ্যে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় শাজাহান খান এমপি সমর্থিত পৌর যুবলীগের সভাপতি শহীদ মোল্যা মারাত্মক আহত হন। শহিদ মোল্যাকে প্রথমে রাজৈর ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ১০টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লার সমর্থক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিকল্প খালাসী বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লার সমর্থক উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক আমগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান জমিরউদ্দিন খান জানান, শান্তিপূর্ণভাবে আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার চেষ্টা করলেও তারা (এমপি সমর্থিত গ্রুপ) প্রতিটি অনুষ্ঠান পালনে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করে আসছে।
মাদারীপুর-২ আসনের সাংসদ শাজাহান খানের রাজৈর উপজেলার স্থানীয় প্রতিনিধি আ ফ ম ফুয়াদ জানান, সকালে ফুল দেওয়া ও ফটোসেশন নিয়ে জুনিয়ররা একটু হট্টগোল করেছিল। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে মিটিয়ে দিয়েছি। আমরা নিজেদের মধ্যে সংঘাত চাই না।
ইতিপূর্বে ৪ মার্চ আওয়ামী লীগ অফিসে উভয় গ্রুপের যৌথ অংশগ্রহণে ৭ মার্চ পালনে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও উভয় গ্রুপের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়েছিল। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভা কক্ষে ২৬ মার্চ উদযাপনে ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হয়। এভাবে যেকোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে সংঘাত লেগেই থাকে।
রাজৈর থানার ওসি শেখ সাদিক জানান, ছবি তোলা নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হয়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।