২০০৩ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে ডারবানে কোয়াজুলু নাটাল দলের বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। সেই দলেই ২০১২ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট খেলেছেন রুহান প্রিটোরিয়াস।
স্বপ্ন ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলবেন। নাটালের হয়ে ভালোই খেলছিলেন। ৬২ ম্যাচে ২৬১০ রান এবং ২৩.৬৬ গড়ে ১৫৭ উইকেট নিয়েছেন। বিয়ে সূত্রে আয়ারল্যান্ডে যাতায়াত। পালা করে দু’দেশেই থাকতে হতো। ওদিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় নাটাল আর আয়ারল্যান্ডে নর্থ ডাউন দুই ক্লাবের হয়েই খেলেছেন। বয়স হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা দলে সুযোগ পাচ্ছেন না। ওদিকে ২০১৯-এ আয়ারল্যান্ড টেস্ট পর্যাদা পাওয়ার পর নতুন করে টেস্ট ভাগ্য দেখার চেষ্টা করেন রুহান। পাড়ি জামান আয়ারল্যান্ডে। ২০২২ সালে অধিবাসী হওয়ার প্রক্রিয়াটা শেষ হবে। এর মধ্যে ‘এ’ দলের হয়ে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে আইরিশ ক্রিকেট বোর্ড। আর উলভস দলটির হয়ে বাংলাদেশে এসেছেন খেলতে।
কিন্তু ক্যারিয়ারের প্রথম বিদেশ সফরেই বিচিত্র অভিজ্ঞতায় পড়তে হলো প্রিটোরিয়াসকে। ২ মার্চ ৩০ বছরে পা রাখা এই অলরাউন্ডার অপেক্ষায় ছিলেন ভালো করার। সেই পারফরম দিয়ে দ্রুত আইরিশ জাতীয় দলে পা রাখার পথ তৈরি করার। বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে উইকেট নিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরই বিপত্তি। করোনা পজিটিভের খবর এলো, যেতে হলো আইসোলেশনে। আবার একদিন পরই করোনা নেগেটিভের খবর এবং পরদিন মাঠেও নামলেন দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে। ওই দিনগুলোর অভিজ্ঞতা জানিয়ে প্রিটোরিয়াস বলেন, ‘ওই কটা দিন সত্যি বিচিত্র ও অদ্ভুত ছিল আমার জন্য। আমরা সবাই প্রথম ম্যাচ নেগেটিভ হয়েই শুরু করি। কিন্তু প্রথম ইনিংসের মাঝপথে আমাকে মাঠ থেকে তুলে পিপিই পরিয়ে আইসোলেশনে রাখা হয়। এরপর জানলাম আমি করোনা পজিটিভ যা আমার জন্য একরকম শক ছিল। আমাকে একটা কমলা রঙের পিপিই পরানো হয়। এটাকে ঘামের পিপিইও বলা যায়, কারণ ওটা পরেই অসম্ভব ঘামছিলাম। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে আমাকে টিম হোটেলে নেওয়া হয় এবং আইসোলেশন রুমে আমাকে সেই রাত থাকতে হয়েছিল। সত্যি বলতে আমি ভাবিনি যে দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে পারব। সবচেয়ে খারাপ কিছুর জন্য প্রস্তুত ছিলাম, মানে ধরেই নিয়েছিলাম আমাকে ১৪ দিন আইসোলেশনের কঠিন সময় পার করতে হবে। কিন্তু পরের টেস্টে জানলাম আমি নেগেটিভ এসেছি এবং পুরো দলও। দলের চিকিৎসক জানালেন যে আগেরটা ভুল ফল ছিল। এরপর নিজেকে আশ্বস্ত করি এবং আবার স্বাভাবিক চিন্তা শুরু করি, মানে সিরিজ বা খেলা নিয়ে। এর আগে খুব চিন্তায় ছিলাম। ওই সময়টা সত্যি আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে টিম ম্যানেজমেন্টের সবাই দারুণ খেয়াল রেখেছে। আমাকে সাহস জুগিয়েছে। ওদের কারণেই নিজেকে ধরে রাখতে পেরেছিলাম। এখন সত্যি ভালো লাগছে যে আবার স্বাভাবিক জীবনে আছি। খেলতে পারছি। আশা করি সিরিজের বাকি সময় আমার ও দলের জন্য ভালো যাবে।’
করোনা নেগেটিভ হয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নেমে ব্যাট হাতে ৯০ রান ও ৪০ রানে ১ উইকেট নিয়েছিলেন প্রিটোরিয়াস। গতকাল ওপেন করতে নেমে রান আউটের আগে করেন ৮। আর ৮ ওভার বোলিংয়ে নিয়েছেন ১৭ রান করা তানজীদ হাসান জয়ের উইকেট।