উত্তেজনায় ভরপুর এক লড়াইয়ের সাক্ষী হলো ফুটবলবিশ্ব। প্রথম পর্বে হারের ধাক্কা নিজেদের আঙ্গিনা আলিয়াঞ্জ স্টেডিয়ামে কাটিয়ে উঠবে কী জুভেন্তাস, উল্টো শুরুতেই গোল হজম করল। দ্বিতীয়ার্ধে চিয়েসার করা দুই গোলে প্রি-কোয়ার্টারে ৩-৩ সমতা আনে তারা। একজন কম নিয়েও কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাল পোর্তো। ম্যাচ গড়াল অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও প্রথম গোল পেল অতিথিরা। দুই মিনিটের মধ্যে তা শোধ করে এ পর্ব জিতলেও রোনালদোদের জেতা হলো না পুরো লড়াইটা। অ্যাওয়ে দুই গোলের সুবিধায় কোয়ার্টারে উঠে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ল পর্তুগালের এফসি পোর্তো। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিযোগিতাটির শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিল জুভেন্তাস। গতবার একই পর্যায়ে অলিম্পিক লিওঁর মাঠে হারের পর ঘরের মাঠে ২-১ গোলে জিতেও অ্যাওয়ে গোলে পিছিয়ে বিদায় নিয়েছিল তুরিনের বুড়িরা।
১-২ গোলে পিছিয়ে পড়া জুভেন্তাস মঙ্গলবার এগিয়ে যেতে পারত ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই। তবে ডান দিক থেকে হুয়ান কুয়াদ্রাদোর ক্রসে আলভারো মোরাতার জোরালো হেড ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক আগুস্তিন মারচেসিন। খানিক পর গোল খেতে বসেছিল তারা। প্রতিপক্ষের ভালো একটি প্রচেষ্টা ডি-বক্সে ডিফেন্ডার লিওনার্দো বোনুচ্চি আটকে দিলেও বিপদমুক্ত করতে পারেননি। ছন্দে থাকা ফরোয়ার্ড মেহদি তারেমির হেড পোস্টের ওপরের দিকে লেগে ফিরলে সে যাত্রায় বেঁচে যায় স্বাগতিকরা। তবে বেশিক্ষণ জাল অক্ষত রাখতে পারেনি তারা। ১৯ মিনিটে ডি-বক্সে মেহেদি তারেমিকে পেছন থেকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় পোর্তো। তারেমি নিজেই স্পট কিক নিয়ে এগিয়ে দেন দলকে।
দ্বিতীয়ার্ধের ৪ মিনিটে কাক্সিক্ষত গোলের দেখা পায় জুভেন্তাস। বোনুচ্চির উঁচু করে বাড়ানো বল ডি-বক্সে পা দিয়ে নামিয়ে সামনেই দাঁড়ানো চিয়েসাকে শট নিতে ইশারা করেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। কোনাকুনি শটে ঠিকানা খুঁজে নিতে ভুল করেননি প্রথম লেগে পোর্তোর মাঠে অ্যাওয়ে গোল পাওয়া এই ইতালিয়ান ফরোয়ার্ড। খানিক পরেই বড় ধাক্কাটা খায় পোর্তো; তিন মিনিটে জোড়া হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তারেমি। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরপরই গোল হজম করতে বসেছিল পোর্তো। তবে চিয়েসার প্রচেষ্টা লাগে পোস্টে। অবশ্য ৬৩ মিনিটে ঠিকই দলকে এগিয়ে নেন তিনি। ডান দিক থেকে কুয়াদ্রাদোর দারুণ ক্রস ৬ গজি বক্সে পেয়ে হেডে এই পর্ব ২-১ এবং দুই লেগ মিলে স্কোরলাইন ৩-৩ করেন ২৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
এই স্কোরেই শেষ হয় নির্ধারিত ৯০ মিনিট। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের প্রথম ২৪ মিনিটে দুই দলের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক।
১১৫ মিনিটে ফ্রিকিক থেকে দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত গোলে পোর্তোকে এগিয়ে নেন অলিভিয়েইরা। এ সময় রোনালদোর ভূমিকার জন্য তাকে বিশ্বাসঘাতক বলেছে ইতালির একটি দৈনিক। অলিভিয়েইরার শট নেওয়ার সময় উল্টোদিকে মুখ করে লাফ দিয়েছিলেন রোনালদো। বল তার পায়ের তলা দিয়ে মাটি কামড়ে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে আশ্রয় নেয় জালে। এর দুই মিনিট পরেই অবশ্য ম্যাচের তৃতীয় গোল করে জুভ। কিন্তু ততক্ষণে সর্বনাশ হয়ে গেছে।