নতুন সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দিলেন পরিচালক ফাখরুল আরেফিন খান। সিনেমা নিয়ে তিনি কথা বললেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মানিক খান
জেকে ১৯৭১...
১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর প্যারিসের আর্লি বিমানবন্দরে বাংলাদেশের জন্য পাকিস্তানের পিআইএ-৭১১ বিমানটি যাত্রীসহ ছিনতাই করেছিলেন জ্যাঁ ক্যুয়ে। সেদিন এই ক্যুয়ে কেমন করে কোন ভাবনা থেকে বিমানটি ছিনতাই করলেন। কী ঘটেছিল বিমানের ভেতরে। পুরো বিষয়টি আমরা পর্দায় তুলে ধরতে চাই। এটা আমাদের গড়াই ফিল্মসের প্রথম আন্তর্জাতিক কাজ। মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের বিপদে পড়া মানুষদের সাহায্য করার জন্যই জ্যাঁ ক্যুয়ে বিমান ছিনতাই করেছিলেন। যদিও অফিসারদের চালাকির কারণে তিনি আটকা পড়েছিলেন সেদিন। কিন্তু ঠিকই তার শর্ত ধরে ২০ টন ওষুধ বাংলাদেশিদের জন্য এসেছিল। এপ্রিল মাসের মাঝামাঝিতে ছবিটির শ্যুটিং শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট...
মুক্তিযুদ্ধের ওপর প্রচুর সিনেমা হয়েছে। বেশি সিনেমা হয়েছে গ্রামের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। কিছু ছবি আছে শহরের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। কিন্তু দেশের বাইরে ভিনদেশিরাও যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সেটা নিয়ে আমরা খুব বেশি কাজ করিনি। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধের মানবিক অবদান নিয়ে কাজ কম হয়েছে। এখনই সঠিক সময় আমাদের আন্তর্জাতিক বন্ধুদের সম্মান জানানোর এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার।
ছবির ভাষা...
এই ছবির ভাষা হবে ইংরেজি, বাংলা নয়। ঘটনা যেহেতু প্যারিসে ঘটেছে তাই ভাষাটা ইংরেজিই রাখছি।
শ্যুটিং পরিকল্পনা...
কলকাতার দুর্গাপুর নামের একটা এলাকায় বিমানবন্দর রয়েছে। সেখানেই ছবিটির দৃশ্যধারণ শুরু করব। বাকিটা এখনো ভাবিনি। আর চলতি বছরের ৩ ডিসেম্বর ছবিটি মুক্তি দেওয়া হবে। কারণ ১৯৭১ সালের এই দিনেই বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল। পাইলট হিসেবে থাকবেন সব্যসাচী চক্রবর্তী ও জ্যাঁ ক্যুয়ে’র চরিত্রে অভিনয় করবেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা শুভ্র সৌরভ দাস।
গত বছরের মাঝামঝিতে ছবিটি নির্মাণের কথা ভাবলেও ঘোষণা দিতে দিতে দেরি হয়ে যাওয়ার কারণ হচ্ছে এই ছবিটির জন্য আমাদের প্রচুর গবেষণা করতে হয়েছে। প্রাক-প্রস্তুতি নেওয়ার জন্যই এতটা সময় আমরা ব্যয় করেছি। আর এটা অনেক বড় প্রজেক্ট। এত বড় কাজ এর আগে আমি করিনি।
ব্যতিক্রমী গল্প...
আমি কনটেন্টের ব্যাপারে একটু চুজি। আমি যেকোনো ধরনের কনটেন্ট নিয়ে কাজ করতে পারি না। আর আমার কাছে সিনেমা বানানো জীবিকার মাধ্যম নয়, সিনেমা আমার কাছে প্যাশন। আমার কোনো সিনেমার ব্যবসায়িক অংশীদার নেই, প্রত্যেকটা সিনেমার প্রযোজক আমিই। আমি সেই ধরনের সিনেমাই বানানোর চেষ্টা করি যে সিনেমাগুলো মানুষের মনে দীর্ঘদিন ধরে থেকে যাবে।