দুই নারীসহ সড়কে প্রাণ গেল ৭ জনের

দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় নারীসহ ৭ জন নিহত হয়েছে। এরমধ্যে সীতাকুণ্ডে মাইক্রোবাসের চাপায় মংকরই ত্রিপুরা (৪০) নামে এক ত্রিপুরা নারী নিহত হয়েছেন। গতকাল সকাল ১০টার দিকে সোনাইছড়ি ইউনিয়নের সোনাইছড়ি বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও এক নারী আহত হয়েছেন।  মংকরই ত্রিপুরা বারো আউলিয়ার ফুলতলা এলাকার পদ্ম ত্রিপুরার স্ত্রী। তিনি সীতাকুণ্ডের শিব চতুর্দশী মেলায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন।

বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার এসআই বাবুল মিয়া জানান, কয়েকজনের সাথে ঢাকামুখী একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি  নিহত হন।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় ট্রাকচাপায় খোদেজা বেগম (৪৫) ঘটনাস্থলেই নিহত হযেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে সাভারের আশুলিয়ায় পোশাক কারখানা ছুটি শেষে রাস্তা পার হওয়ার সময় বাসচাপায় কারখানার এক কর্মকর্তা নিহত হযেেেছ। এ ঘটনার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা।

পঞ্চগড়ে স্কেভেটরবাহী ট্রাক্টর উল্টে দুজন নিহত হয়েছেন। যশোরের অভয়নগর উপজেলার ভাঙ্গাগেট এলাকায় বাস ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই কয়লা শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫ জন। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে

সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় নারীর মৃত্যু : সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা ও সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ট্রাকচাপায় খোদেজা বেগম (৪৫) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তিনি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খাগার আরসোনপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী।

গতকাল সকালে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি শাহজাহান আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঢাকা থেকে বগুড়াগামী একটি ট্রাক কয়েকজন যাত্রী নিয়ে হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় পৌঁছলে ট্রাকের চাকায় সমস্যা হয়। চাকা মেরামতের জন্য ট্রাকটি রাস্তার পাশে দাঁড়ানোর সময় ওই নারী রাস্তা পার হতে গেলে তিনি ট্রাকচাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে।

পঞ্চগড়ে ট্রাক্টর উল্টে নিহত ২ : পঞ্চগড়ে স্কেভেটরবাহী ট্রাক্টর উল্টে দুজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও একজন। নিহতরা হলেন ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মুক্তার হোসেন (৩২) ও তালেবুর রহমান (৪৯)। মুক্তার স্কেভেটরের চালক এবং তালেবুর ট্রাক্টরের চালক ছিলেন। এ সময় সুকুমার নামে তাদের এক সহকারী আহত হন। বৃহস্পতিবার রাত ২টায় পঞ্চগড়-আটোয়ারী সড়কে সদর উপজেলার কমলাপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, রাতে স্কেভেটরবাহী ট্রাক্টরটি পঞ্চগড় থেকে আটোয়ারীর দিকে যাচ্ছিল। পঞ্চগড়-আটোয়ারী সড়কের কমলাপুর নামক স্থানে একটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ হচ্ছিল। দ্রুতগতির কারণে তারা ব্রিজ নির্মাণের বিষয়টি বুঝতে না পারায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের নিচে উল্টে পড়ে। এ সময় চাপা পড়েন দুই চালক ও তাদের এক সহকারী। খবর পেয়ে পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক স্কেভেটরের চালক মুক্তার হোসেন ও ট্রাক্টরের চালক তালেবুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন। সহকারী সুকুমারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নিরঞ্জন সরকার বলেন, অতিরিক্ত গতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। চালক বুঝতে পারেননি যে সড়কের ওপর ব্রিজের কাজ হচ্ছে। দ্রুতগতিতে ব্রিজের কাছাকাছি পৌঁছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক্টরটি স্কেভেটরসহ উল্টে যায়। এ সময় চাপা পড়ে দুজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হন আরও একজন।

পঞ্চগড় সদর থানার উপ-পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

যশোরের দুর্ঘটনায় নিহত ২ : যশোরের অভয়নগর উপজেলার ভাঙ্গাগেট এলাকায় বাস ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন কয়লা শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫ জন। আহতদের মধ্যে চারজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ইজিবাইক চালক শহিদুল ইসলাম অভয়নগর উপজেলার মশরহাটি গ্রামের সবর আলীর ছেলে। গতকাল সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অপর নিহতের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

অভয়নগর হাইওয়ে থানার ওসি মাহমুদ আলম জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ভাঙ্গা গেট এলাকায় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা কুষ্টিয়াগামী রূপসা পরিবহনের বাসের সঙ্গে একটি ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ইজিবাইকটি উল্টে গিয়ে যাত্রী কয়লা শ্রমিকরা গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ইজিবাইকের চালকসহ ৭ জনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফারিয়া রহমান জানান, সাতজনের মধ্যে দুজন আনার আগেই মারা যান। বাকি ৫ জনের মধ্যে চারজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অপরজনকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বাসচাপায় কারখানার কর্মকর্তার মৃত্যু : সাভারের আশুলিয়ায় পোশাক কারখানা ছুটি শেষে রাস্তা পার হওয়ার সময় বাসচাপায় এক কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। এ সময় তারা ১০টির ওপরে গাড়ি ভাঙচুর করে এবং বেশ কয়েটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগও করে। গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের নরসিংহপুর এলাকায় এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রাথমিকভাবে নিহত ওই কর্মকর্তার নাম সামসুল আলম এবং তিনি শারমিন গ্রুপের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা শ্রমিকরা জানায়, কারখানা ছুটি শেষে রাস্তা পার হওয়ার সময় কারখানার সিকিউরিটি গার্ড সড়কে গাড়িগুলোকে থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আশুলিয়া ক্লাসিক পরিবহনের একটি বাস তাদের ওপর দিয়ে উঠিয়ে দিলে ঘটনাস্থলেই শারমিন গ্রুপের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সামসুল আলম মারা যান। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে আরও তিন শ্রমিক। তাদের স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ মোবাইল ফোনে ছবি কিংবা ভিডিও করতে গেলে শ্রমিকরা তাদের লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, সড়ক অবরোধ করে বাসে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি।

স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালের ডেপুটি ম্যানেজার হারুন অর রশীদ তৈরি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা শামসুল আলমের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় শারমিন গ্রুপের দুই শ্রমিক নিহত হওয়ার কথা শুনেছি। তবে সেটা নিশ্চিত নয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছি।