৩ ঘণ্টা পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি শুরু

৩ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বন্দর কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ভারতীয় ট্রাক চালকেরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মাঝে পণ্য আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দরের সকল কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে পণ্য খালাস না হওয়া ও বন্দরের বাইরে যেতে না দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে হিলি স্থলবন্দরে পণ্য নিয়ে অবস্থানরত ভারতীয় ট্রাক চালকরা বন্দরের প্রবেশ মুখে ট্রাক ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ করে।

এতে করে বন্দরের অভ্যন্তরে নতুন করে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক ও পণ্য নিতে আসা বাংলা ট্রাক প্রবেশ বন্ধ ছিল। এর পরে সড়কে ট্রাকগুলো দাঁড়িয়ে থাকার কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েন মানুষজন।

পরে অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলে দুপুর ১২টা থেকে বন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানিসহ সকল কার্যক্রম শুরু হয়।

ভারতীয় ট্রাক চালক অনিল কুমার ও ফারুক হোসেন বলেন, আমরা যেসব ট্রাক ভারত থেকে পণ্য নিয়ে হিলি স্থলবন্দরে আসি পূর্বে বন্দরে প্রবেশের ২/৩ দিনের মধ্যেই পণ্য খালাস হয়ে যেতো, আর সে হিসেব মোতাবেক টাকা ও খাবার নিয়ে আসতাম। কিন্তু বর্তমানে আমাদের অনেকের পণ্য নিয়ে আসা ১০/১৫ দিন হয়ে গেছে এখন পর্যন্ত ট্রাক খালি হচ্ছে না।

এতে করে সঙ্গে নিয়ে আসা ট্রাক ও খাবার শেষ হয়ে যাওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। আমরা যে একটু বন্দরের বাইরে চা খেতে বা বাজার করতে যাবো তার কোনো সুযোগ নেই, এমনকি তাদেরকে বাজার করতে দিলেও বাড়তি টাকা লাগছে।

এ ছাড়া দুদিন আগে আমাদের এক ট্রাক চালককে কুকুর কামড় দিয়েছে তাকে চিকিৎসার জন্যও ভারতে যেতে পারছি না। সব মিলিয়ে আমরা চালক ও হেলপাররা খুব সমস্যার মধ্যে পড়ে রয়েছি যার কারণে বাধ্য হয়ে আমরা আজকে অবরোধ করেছিলাম।

পরে বন্দর কর্তৃপক্ষ দাবি দাওয়া মেনে নেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন যার কারণে প্রত্যাহার করে নিয়েছি। আগামীকালের মধ্যে এসব মানা না হলেও আবারও আমরা আন্দোলনে যাবো বলে হুমকি দেন তারা।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন জানান, করোনার কারণে ভারতীয় ট্রাক চালকদের বন্দরের বাইরে যাওয়া বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে তারা যে ভারত থেকে আসবে তাদের সঙ্গে খাবারসহ অন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আসবে যা ভারতীয় রপ্তানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের পত্র দিয়ে অবহিত করা আছে।

সেই মোতাবেক বন্দরের আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম চলে আসছে তবে আজ শনিবার সকাল থেকে ভারতীয় ট্রাক চালকরা এর বিরোধ করে অবরোধ শুরু করে।

পরে তাদের সাথে বসে বন্দরের বাইরের যাওয়া বন্ধের বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।

এ ছাড়া তাদের অন্য দাবির বিষয়গুলি নিয়ে আমরা বন্দরের আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা হবে বলে তাদেরকে আশ্বস্ত করেছি এতে তারা সম্মত হলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন যার কারণে আবারও বন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানিসহ সবকিছু শুরু হয়েছে।