মানব পাচার রুখে দেওয়ার জন্য ড. ক্যাটারিনা রোজেনব্লাট বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। মাত্র তেরো বছর বয়সে বন্ধুর প্ররোচনায় পাচারকারী দলের শিকার হন ছোট্ট ক্যাটারিনা। মুক্তি পেয়ে বিশ্বজুড়ে পাচাররোধে কাজ শুরু করেন তিনি। তাকে নিয়ে লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা
ক্যাটারিনা রোজেনব্লাট
ক্যাটারিনা রোজেনব্লাটের জন্ম দক্ষিণ ফ্লোরিডায়। ক্যাটারিনার মা ছিলেন ফিনল্যান্ডের নাগরিক, বাবা আমেরিকান। তেরো বছর বয়সে ক্যাটারিনার পারিবারিক জীবন তেমন সুখকর ছিল না। বাবা-মায়ের দাম্পত্য কলহে বাসায় থাকা ভার। বাবার অত্যাচারের থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মা ক্রমাগত যুদ্ধ করে চলেছেন। চেষ্টা করছেন সব যেন বাবার মনমতো হয়। তাতেও শেষরক্ষা হয় না। বাসায় সারা দিন চিৎকার-চেঁচামেচি লেগেই আছে। ক্যাটারিনা ছিলেন বাবার বিশেষ অনুরক্ত। কিন্তু তার অত্যাচারী বাবা রোজ তার ওপরেও ভীষণ অত্যাচার করেন। এরই মধ্যে ক্যাটারিনার পরিচয় হয় বন্ধু ম্যারির সঙ্গে। ভীষণ অমায়িক ম্যারির সঙ্গে কথা বললে ক্যাটারিনার ভালো লাগে। প্রায় সারা দিনই দুই বন্ধু একসঙ্গে লেগে থাকেন। বন্ধুর কথামতো তার সঙ্গে একদিন তিনি চলে যান ফ্লোরিডার মায়ামি বিচের পাশে এক হোটেলে। তখনো তিনি বুঝতে পারেননি তার সঙ্গে কী ঘটতে চলেছে। এই ঘটনার পরের তিনটি বছর ক্যাটারিনার জীবন একেবারে পাল্টে দিল।
ক্যাটারিনার সেই বন্ধুটি মানব পাচারের কাজে জড়িত ছিল। বিশ্বের যেকোনো দেশেই মানব পাচারের চক্র বিভিন্নভাবে সক্রিয়। আঠারো বছরের কমবয়সী শিশুকিশোরদের টার্গেট করে তারা বিভিন্নভাবে ওঁৎ পাতে। স্কুল কলেজের বাচ্চাদের তারা তাদের এই নেটওয়ার্কে যুক্ত করে। অপ্রাপ্ত বয়স্করা বুঝতে পারে না সামান্য সুবিধার বিনিময়ে তারা কোন জটিল জালে জড়িয়ে যাচ্ছে। নেটওয়ার্কের শিশুকিশোরদের দিয়েই নতুন মুখের নিয়োগ দেওয়া হয়।
ক্যাটারিনাকে টার্গেট করার আগে তাকে বেশ কয়েক মাস ধরে পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়। এই চক্র ক্যাটারিনার পারিবারিক অশান্তির পুরোটাই জানত। ক্যাটারিনার সঙ্গে ঐ বন্ধুর ঘনিষ্ঠতাও পরিকল্পনা অনুসারে গড়ে ওঠে। এরই মধ্যে ক্যাটারিনার বাবার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তার মা-বাবার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। ফলে পারিবারিক ও অর্থনৈতিকভাবে ভীষণ নাজুক হয়ে পড়েন ক্যাটারিনা ও তার মা। ফলে পাচারচক্র আরও নড়েচড়ে বসে। শুধু ক্যাটারিনাই নন, ক্যাটারিনার মতো অসংখ্য শিশুকিশোর এই পাচার চক্রের নজরে থাকে। ভাগ্যচক্রে কেউ বেরিয়ে আসতে পারে, বেশিরভাগ তলিয়ে যায় ঐ অন্ধকার গহ্বরে।
পাচার
মানব পাচার মানুষের মানবিক অধিকারকে সম্পূর্ণরূপে ক্ষুণ্ন করে। পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মানব পাচারকারী বিভিন্ন চক্র বিভিন্ন উপায়ে তাদের নেটওয়ার্কে নতুন নতুন মানুষ যুক্ত করার বিষয়টি চালু রাখে। প্রাথমিকভাবে মানব পাচারকে দুইভাগে ভাগ করা যায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক। দেশের ভেতরে যে ধরনের পাচার কাজে মানুষদের যুক্ত করা হয় তাদের ডমেস্টিক ট্রাফিকিং বা জাতীয় পাচার হিসেবে ধরা হয়। আবার এক দেশ থেকে অন্য দেশে যখন মানুষদের নিয়ে যাওয়া হয় তাদের ক্ষেত্রে ধরা হয় আন্তর্জাতিক পাচার।
ক্যাটারিনার ঘটনার মতো পাচারকারী চক্রের প্রধান শিকার থাকে নারী ও শিশু। আরও বিস্তৃত করে বললে অর্থনৈতিক ও পারিবারিকভাবে বিপর্যস্ত নারী-পুরুষ। অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুকিশোর জীবনকে খুব জটিলভাবে ভাবতে পারে না বলে তাদের টার্গেট করাটাই সবচেয়ে সহজ। অপ্রাপ্তবয়স্ক এইসব শিশুকিশোরকে বন্ধু, আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের দ্বারা প্রলুব্ধ করা হয়। প্রথমে তাদের টার্গেট করে দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণের পরে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়। পাচারকারী চক্রে শিশুকিশোরদের প্রলুব্ধ করার ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেবল টার্গেট করা শিশুকিশোর নয়, তাদের পরিবারের লোকজনের সঙ্গেও সুসম্পর্ক ধরে রাখা হয়।
একদিন ম্যারি ক্যাটারিনাকে একজন বয়স্ক লোকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ক্যাটারিনার বাবার বিষয়টি জেনে সেই বয়স্ক লোক ক্যাটারিনাকে অনুরোধ জানান তাকে ‘বাবা’ বলে ডাকার জন্য। ক্যাটারিনা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে লোকটির আচরণে। প্রায় একমাস ম্যারি ও লোকটি মিলে ক্যাটারিনার সঙ্গে গড়ে তোলেন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এরপরেই তাকে মাত্র ৫০০ ডলারের বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ঘটনা যেন কেউ জানতে না পারে তাই কিডন্যাপ করা হয় তাকে। ভাগ্যচক্রে পালিয়ে গিয়ে পাবলিক বুথ থেকে মাকে ফোন করলে সে যাত্রায় বেঁচে যান তিনি। ঠিক এর পরের বছর আরেক চক্রের মাধ্যমে বন্ধুর বাবার খপ্পরে পড়েন তিনি। ১৪ বছরের সেই কিশোরী ক্যাটারিনা বুঝে উঠতে পারছিলেন না আশপাশের এত লোক এই সমস্ত চক্রের সঙ্গে কীভাবে জড়িত। অনেক পরে তিনি জানতে পেরেছিলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এক একজন ভিক্টিমকে টার্গেট করা হয়। ক্রমাগত ভয় আর অভিজ্ঞতা তাকে দীর্ঘমেয়াদি ট্রমার ভেতরে ফেলে দেয়। বন্ধুদের প্রতি অবিশ্বাস ও ভীতি তাকে ভীষণ নিঃসঙ্গ করে তোলে। সে সময় মায়ের আদেশ অগ্রাহ্য করে মাদকের অন্ধকার রাজ্যে ডুবে যেতে থাকেন তিনি।
ছোট্ট ক্যাটারিনা ততদিনে বিশ্বাস করে ফেলেছেন তার সব বন্ধুই পাচার কাজের সঙ্গে জড়িত। যে বিল্ডিংয়ে তারা বসবাস করতেন সেই বিল্ডিংয়েও ছিল চক্রের সদস্য। বন্ধুবেশী ম্যারির দলের লোকজন ক্যাটারিনাকে আবারও অপহরণের চেষ্টা করেন। যৌনকর্ম, মাদক বিক্রিসহ তিন ধরনের সুসংগঠিত চক্রে কাজের অভিজ্ঞতা তার বয়ঃসন্ধির উচ্ছল সময়টা মøান করে দেয়। এত এত সমস্যাসংকুল পথ পাড়ি দেওয়া একজন কিশোরীর জন্য নিঃসন্দেহে কষ্টকর অভিজ্ঞতা। ঘটে চলা ঘটনার কিছুই এতদিন জানতে দেননি তিনি মাকে। কিন্তু এই ঘটনা তার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দেয়। বিল্ডিংয়ে চক্রের সদস্যদের দেখে ভয় পেয়ে মাকে সমস্ত ঘটনা জানিয়ে দিয়ে এরপরই শুরু হয় ক্যাটারিনার আলোর পথে ফিরে আসার পালা।
ফিরে আসা
সুতোকাটা ঘুড়ির মতো ক্যাটারিনা ভেসে যেতে পারতেন অন্য কোথাও। সম্ভবত মায়ের কারণেই কোথাও ভেসে যেতে পারেননি তিনি। হাইস্কুল শেষে ক্যাটারিনা ফ্লোরিডার সেইন্ট থমাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্টে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেন। সেই সময়ে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনও যথেষ্ট ছিল না। ছোট্ট ক্যাটারিনা ততদিনে বেশ বড় হয়ে গিয়েছেন, কিন্তু মুছে যায়নি তার ছোটবেলার ক্ষত। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই মানব পাচাররোধে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। সেই সময়ে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ইচ্ছে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে তার। সেইন্ট থমাস বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেন তিনি। ফ্লোরিডার তৎকালীন আইনের পর্যালোচনায় তিনি ২০০৫ সালে মানব পাচার ও ২০০৬ সালে শিশুদের পাচার কাজে ব্যবহারের বিপক্ষে মতামত গড়ে তোলেন।
তার পিএইচডির বিষয় ছিল ‘আমেরিকায় মানব পাচার আমাদের সময়ে মানবাধিকারে সর্বোচ্চ লংঘন’। ল্যাম্বার্ট অ্যাকাডেমিক পাবলিশিং থেকে এই গবেষণা কাজটি ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয়। সেই বছরই মানব পাচার নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে লিখে ফেলেন তার স্মৃতিগ্রন্থ ‘স্টোলেন’। এছাড়াও পারিবারিক সহিংসতা নিয়েও তার প্রচুর গবেষণাকাজ রয়েছে।
উদ্ধারকারীর ভূমিকায়
দেশীয় পাচার চক্রকে রুখে দেওয়ার জন্য ফ্লোরিডার স্থানীয়ভাবে তৈরি করা হয় পাচারনিরোধী কমিটি। নির্যাতিত হিসেবে জোর ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে ক্যাটারিনাকে সেই কমিটির সদস্য করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে মানব পাচার রোধে তৈরি হয় সেইফ হার্বার অ্যাক্ট। ট্রিনিটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মানব পাচার ও পারিবারিক সহিংসতার বিষয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
২০১৬ সালে ফেডারেল স্পিকারস ব্যুরোর একজন সদস্য হিসেবে ন্যাশনাল সার্ভাইবার লিডার ফোরামের পক্ষ থেকে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয় ওয়াশিংটন ডিসিতে। খুবই নগণ্য সংখ্যক সার্ভাইবার সেখানে কথা বলার সুযোগ পান। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৯ সালে এফবিআই তার সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। ক্যাটারিনা সানন্দে সেই ডাকে সাড়া দেন।
ফ্লোরিডার ১১তম বিচারিক চক্রে তাকে চাক্ষুষ সাক্ষী এবং বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিশেষ ট্রেনিং দেওয়া হয়। কেবল নারী ও শিশুই নয়, ফ্লোরিডার পাচার হয়ে যাওয়া পুরুষদের ব্যাপারেও তিনি ত্রাণকর্তা হয়ে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। জাতীয় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার ট্রেনিং ও উপস্থিত বক্তব্য রাখার মধ্য দিয়ে তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
দেয়ার ইজ আ হোপ ফর মি
প্রচলিত দাতব্য সংস্থার মতো কেবল অনুদানের টাকাতেই নয়, সঙ্গে নিজের বই বিক্রির টাকা দিয়ে ক্যাটারিনা গড়ে তোলেন তার নিজস্ব সংস্থা ‘দেয়ার ইজ আ হোপ ফর মি’। এই প্রতিষ্ঠান পারিবারিক সহিংসতা ও মানব পাচারের শিকার মানুষদের অবস্থা উন্নয়নে কাজ করে থাকে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য ভিক্টিমদের শারীরিক ও মানসিক সাহায্যে কাজ করে যাওয়া। ক্যাটারিনাসহ সংশ্লিষ্ট সবাই মানব পাচারকে নির্মূল করতে চায় বলে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে সংস্থাটি।
একজন নির্যাতিত মানুষ সবসময়ই নির্যাতনের যাতনা গভীরভাবে বুঝতে পারেন। ক্যাটারিনা তার ছোটবেলার পারিবারিক সহিংসতা ও পাচারের ফলে যে নারকীয় ক্ষত তা তিনি কোনোদিন ভুলতে পারেননি। নিজের সেই ক্ষত নির্মূল করতেই যেন মানুষের ক্ষতে মলম লাগাতে শুরু করলেন ক্যাটারিনা। তার হাত দিয়ে গড়ে তোলা সংস্থা স্থানীয় মানুষদের মাঝে পাচাররোধে সচেতনতা গড়ে তোলার ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছে। ড. এইচ সি টার্গম্যানের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বারবার উল্লেখ করেন, ‘সেই সময়ে আমি পাচার নিয়ে কিছু জানতাম না। তখন ফ্লোরিডার আইনও যথেষ্ট ছিল না। আমাকে রক্ষার করার জন্য আমার পরিবারে তাও আমার মা ছিলেন, এমন অনেকেই আছেন যাদের মা-বাবা বেঁচে নেই। তাদের অবস্থা আরও করুণ। আর মানুষের এই করুণ অবস্থার সুযোগই নিয়ে থাকে পাচারকারী দলের সদস্যরা। বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলার সময় ভিকটিম বাচ্চাদের প্রত্যেকেই প্রায় একই কথা বলেছে আমাকে। আন্তর্জাতিকভাবে পাচাররোধী বক্তা হিসেবে পরিচিত হওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার ছিল না, আমি সেই উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করাও শুরু করিনি। আমি কেবল আমার ভেতরে ইচ্ছাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে গিয়েছি।’
নিজের কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ভিকটিমদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে খুব আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনেক দিন ধরে চলে এক একটি বাচ্চার কেইস, অনেকগুলো দলের সাথে যুদ্ধ করতে হয় আমাদের। এক একটি পরিস্থিতি আমাকে খুব ভারাক্রান্ত করে তোলে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি এই কাজটিই করার জন্যই সৃষ্টিকর্তা আমাকে পাঠিয়েছেন। তাই কাজটি আমাকে করতেই হবে।’
পাচারের শিকার মানুষদের সম্ভাব্য তালিকা তৈরি করা, তাদের প্রত্যেককে পৃথকভাবে পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা, ভিকটিমের পরিবারকে মানসিক সাহায্য দেওয়াসহ সব মানবিক সুবিধা নিশ্চিত করা এই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য। পাচারের শিকার হওয়া মানুষদের জন্য নিরাপদ আবাস দেওয়ার কাজও করে যাচ্ছে ক্যাটারিনার দল।
সহিংসতার শিকার মানুষদের সুস্থ করে তোলার পরে ক্যাটারিনার প্রতিষ্ঠানেই তাদের কাজ করার অনুরোধ জানানো হয়। আস্তে আস্তে তাদের মধ্যে সহিংসতারোধী নেতৃত্ব গড়ে তোলার কাজটি করে যাচ্ছে ‘দেয়ার ইজ আ হোপ ফর মি’। কেবল তাই-ই নয় সেরে ওঠা মানুষদের শিক্ষার ব্যাপারে বিশেষ লক্ষ্য রেখেছে সংস্থাটি। সারভাইবারদের ডিপ্লোমা ও স্থানীয় কলেজগুলোতে ভর্তির বিষয়েও তদারকি করে থাকেন তারা। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সঙ্গে সমাজ উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। সুস্থ হয়ে বেঁচে ফেরা মানুষের জীবন অফুরন্ত ভালোবাসায় ভরিয়ে দেওয়ার জন্য অক্লান্তভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সংস্থার সব সদস্য। নামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সহিংসতার শিকার মানুষগুলোর মনে আশার আলো জ্বালিয়ে দেওয়ার কাজটি বেশ ভালোভাবেই করে যাচ্ছেন ড. ক্যাটারিনা রোজেনব্লাট।