যুক্তরাষ্ট্রে জো বাইডেন ক্ষমতায় এসেই একাধিক বিষয়ে মুখ খুললেও উত্তর কোরিয়া প্রসঙ্গে কোনো বক্তব্য দেননি। তখন মনে করা হয়েছিল, উত্তর কোরিয়া নিয়ে হয়তো বাইডেন প্রশাসন ধীরেসুস্থে কোনো কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকে যাবে। বিশ্লেষকদের অপেক্ষাও ছিল বিষয়টি নিয়ে। কিন্তু সম্প্রতি সিএনএনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বাইডেন ক্ষমতায় বসার পরেই দৃশ্যের অন্তরালে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। একাধিক সূত্র ধরে বাইডেন প্রশাসন উত্তর কোরিয়ার চেয়ারম্যান কিম জং উনের সঙ্গে আলাপের চেষ্টা করলেও পিয়ংইয়ং এতে কোনো সাড়া দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অবস্থার আরও অবনতি হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে আমরা বেশ কয়েকটি চ্যানেলের (সূত্রের বা লবি) মাধ্যমে গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে উত্তর কোরিয়ার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু পিয়ংইয়ং থেকে আমরা এখনো কোনো উত্তর পাইনি। এক বছরের বেশি সময় হচ্ছে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আমাদের কোনো গঠনমূলক আলোচনা হচ্ছে না।’
উত্তর কোরিয়া প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা যাচাই করতেই গোপনে এই আলাপের চেষ্টা চালানো হয়েছে এমনটা মনে করা হচ্ছে। কারণ ট্রাম্পের আমলে উভয় দেশের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হলেও কোনো লাভ হয়নি। উত্তর কোরিয়া বারবার যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণের আহ্বান জানালেও, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া দেওয়া হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে শুরু থেকেই কৌশলী আচরণ করছে উত্তর কোরিয়া। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কিম জং উন ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো গোপন আলাপের ঝুঁকি নেবেন না। কারণ এর আগে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার পর ওয়াশিংটন পিয়ংইয়ংকে যেসব বিষয় মেনে চলতে বলেছিল, তার অনেকগুলো কিম পূরণ করলেও ট্রাম্প পিছিয়ে যান।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসন ক্ষমতায় এসে ভেতরে ভেতরে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিগত আলোচনার বিষয়গুলো পুনর্মূল্যায়ন করতে শুরু করে। এজন্য উত্তর কোরিয়ার নীতিমালা প্রশ্নে দক্ষ কর্মকর্তা দরকার বাইডেন প্রশাসনের। ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তাকে এক্ষেত্রে যুক্ত করতে হতে পারে। শুধু তাই নয়, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে সঙ্গে নিয়ে এবার বাইডেন উত্তর কোরিয়ার ইস্যুটি সুরাহা করতে চাইবেন, এমনটাও দেখা যেতে পারে।