পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) দায়িত্ব নিয়েছেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান ও ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম। গতকাল রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। গতকালই তিনি এসবির প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।
এদিকে, গতকাল এসবির বিদায়ী অতিরিক্ত আইজিপি মীর শহীদুল ইসলামকে বিদায় জানিয়েছেন সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী। এ সময় অনেকে অশ্রুসজল হয়ে পড়েন।
সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মনিরুল ইসলাম ডিএমপির সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সব কটি ডিভিশনের উপপুুলিশ কমিশনাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। ডিএমপিতে তার কর্মজীবনে সবাই সহযোগিতা করায় বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। পরে বিকেলে তিনি এসবি অফিসে গিয়ে দায়িত্ব নেন। আজ সোমবার এসবির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে তার।
চাকরিজীবন শেষ করে গতকাল থেকে এসবির প্রধানের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মীর শহীদুল ইসলাম অবসরে যান। তারই স্থলাভিষিক্ত হন মনিরুল ইসলাম। ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে ১৯৯৫ সালে এএসপি হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন মনিরুল ইসলাম। ২০০৯ সালে উপকমিশনার (গোয়েদা) হিসেবে ডিএমপিতে যোগ দেন। গোয়েন্দা শাখায় দীর্ঘ ৯ বছর দায়িত্ব পালন করেন। মনিরুল ইসলামের হাত ধরেই ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যাত্রা শুরু হয় সিটিটিসির।
এসবি প্রধানের দায়িত্ব পাওয়ার অনুভূতিতে সাংবাদিকদের মনিরুল ইসলাম বলেন, আমি আমার সহকর্মীদের নিয়েই পাঁচ বছর এক জায়গায় কাজ করেছি। সে ক্ষেত্রে দুঃখ হচ্ছে, ভারাক্রান্ত হচ্ছি। আবার সরকার যেভাবে মনে করেছে ওখানে আমি আরও ভালো কাজ করব, সেটি ভেবে আনন্দ হচ্ছে। আর আমি তো বাংলাদেশ পুলিশেই আছি, কাছাকাছিই আছি। এসবির কাজও একটু ডিটেইল, সিটিটিসির সঙ্গে কাজের ধরনেও অনেকটা মিল আছে।
প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিটিটিসিতে যোগদান করি। পাঁচ বছর আমি সেখানে কাজ করেছি। এখন সরকার মনে করছে যে অন্য জায়গায় গেলে আমি হয়তো আরও ভালো করব, সে কারণে আমাকে স্পেশাল ব্রাঞ্চে (এসবি) বদলি করেছে। হলি আর্টিসান ঘটনার পর সিটিটিসি অনেকগুলো অপারেশনের মাধ্যমে জঙ্গি দমন ও জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে। তবে এগুলোর কোনোটিই আমার একক কৃতিত্ব নয়, আমার টিমে যারা কাজ করেছে, সফলতাগুলো সবার, সফলতা বাংলাদেশ পুলিশের। এ ছাড়া আমরা অনেক ক্ষেত্রে সফল হয়েছি, কিছু কিছু ক্ষেত্রে যে ব্যর্থ হইনি সেটি নয়। সফলতা যেগুলো হয়েছে, সেগুলো আমার টিমের, ব্যর্থতা যেগুলো হয়েছে, সেগুলোর দায় ব্যক্তিগতভাবে আমি নিচ্ছি।’