সংকটাপন্ন পাখিরা ভুলে গেছে নিজেদের গান

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এক সময় মুখরিত ছিল দ্য রিজেন্ট হানিইটার নামক এক প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষ সৃষ্ট কারণে রিজেন্ট হানিইটাররা এখন শুধুই বিলুপ্তির ঝুঁকিতেই নেই, এসেছে তাদের প্রাণবৈচিত্র্যে পরিবর্তন। গোটা বিশ্বে এখন মাত্র ৩০০ রিজেন্ট হানিইটার বেঁচে আছে। এই পাখির অন্য পাখিদের তুলনায় আলাদা হয়ে ওঠার অন্যতম কারণ ছিল এর গান গাইতে পারার ক্ষমতা। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিলুপ্তির হুমকি ও নিজেদের টিকে থাকার লড়াইয়ে ওই পাখিরা এখন আর গাইতে পারে না।

ক্যানবেরার অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিফিকাল্ট বার্ড রিসার্চ গ্রুপের সদস্য ড. ক্রেটস বিবিসিকে বলেন, ‘তারা (নিজ প্রজাতির) অন্য হানিইটারদের সঙ্গে মেলামেশা এবং যে ধরনের শব্দ করে গান গাওয়ার কথা তা শেখার সুযোগ পাচ্ছে না।’ সম্প্রতি ক্রেটসের হানিইটারদের নিয়ে গবেষণাপত্রটি যুক্তরাজ্যের রয়্যাল সোসাইটি জার্নাল প্রসিডিংস-এ প্রকাশিত হয়েছে। ওই গবেষণায় ক্রেটস উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে গায়ক ওই পাখিদের সংরক্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। ক্রেটস রিজেন্ট হানিইটারদের বনে থাকা তাদেরই স্বজনদের গান শেখানোর চেষ্টা করছেন। এক্ষেত্রে তিনি বন্য হানিইটারদের রেকর্ড করা গান ব্যবহার করছেন। এই গবেষকরা অবশ্য হানিইটারদের গান নিয়ে গবেষণায় নামেননি, তাদের লক্ষ্য ছিল পাখিগুলোর খোঁজ বের করা। ক্রেটসের ভাষায়, ‘তারা এতটাই বিরল এবং এত বিশাল এলাকাজুড়ে থাকতে পারে, সম্ভবত যুক্তরাজ্যের আয়তনের চেয়েও ১০ গুণ বড় জায়গাজুড়ে, যে কারণে আমাদের আসলে খড়ের গাদায় সুই খুঁজতে হয়েছে।’ কষ্টসাধ্য এই অনুসন্ধানেই ড. ক্রেটস বিপন্ন এই পাখিগুলো যে ‘অদ্ভুতভাবে গাইছে’ তা খেয়াল করেন।

ক্রেটসের দলের অপর এক গবেষক বলেন, ‘তারা রিজেন্ট হানিইটারের মতো শব্দ করছিল না, করছিল অন্য প্রজাতির পাখিগুলোর মতো। মানুষ যেভাবে কথা বলা শেখে, গায়ক পাখিরাও সেভাবেই গান শেখে। ছোট পাখিরা যখন নীড় ছেড়ে বিপুলা পৃথিবীতে বেরিয়ে আসে, তখন তাদের সঙ্গ দরকার হয়, বয়সী পুরুষ পাখিদের সঙ্গ, তারা বয়সী পাখিদের গান বারবার শুনে গান শেখে।’

রিজেন্ট হানিইটাররা এখন তাদের আবাসস্থলের প্রায় ৯০ শতাংশই হারিয়ে ফেলেছে। এখন তারা এমনভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে যে তরুণ পুরুষ পাখিরা অন্য পুরুষদের সঙ্গ পাচ্ছে না, তাদের কাছ থেকে গান শুনতে পারছে না।