আমাদের ৮-১০ কোটি ভ্যাকসিন প্রয়োজন হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে ৪০ ঊর্ধ্ব বয়সীদের সবাইকে করোনার ভ্যাকসিন দিকতে হলে ৮-১০ কোটি ভ্যাকসিন প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

কোভিড ভ্যাকসিন উৎপাদনেও বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চায় বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে দেশের ওষুধ উৎপাদন কোম্পানিগুলোর মধ্যে ইনসেপ্টাসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করেছে। তারা বিভিন্ন ভ্যাকসিন উৎপাদন করে নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করছে। এর ধারাবাহিকতায় আমরা কোভিড ভ্যাকসিনেও স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চাই।

জাহিদ মালেক দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে গেলেও সরকার নতুন করে এ মুহূর্তে লকডাউনের চিন্তা করছে না বলে জানান।

মন্ত্রী বলেন, আমরা এখন করোনা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি জানলেও তা মানি না। তাই বর্তমানে করোনা সংক্রমের হার বৃদ্ধি ঠেকাতে সবাইকে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে দেশের প্রথম জীবন রক্ষাকারী আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা ভ্যাকসিন লিমিটেড এর উৎপাদন প্ল্যান্ট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব বলেন।

এ সময় তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে কোভিড ভ্যাকসিন উৎপাদনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাই আমরা দেশীয় কোম্পানিগুলোকে কোভিড ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি। আমরা ইতিমধ্যে ভারত থেকে সেরাম ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে তিন কোটি করোনার ভ্যাকসিন অর্ডার করলেও এখন পর্যন্ত ৭০ লাখ ডোজ হাতে পেয়েছি। যদি আমরা ৪০ বছরের ঊর্ধ্বে যাদের বয়স শুধু তাদের ভ্যাকসিন দিই তাহলেও আমাদের ৪-৫ কোটি জনসংখ্যা হবে এবং এ জন্য আমাদের ৮-১০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন প্রয়োজন হবে।

এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে সব বয়সের লোকজনকে করোনার ভ্যাকসিন প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

এর আগে তিনি সাভারের জিরাবোতে অবস্থিত ইনসেপ্টা ভ্যাকসিন এর বাল্ক ফ্যাসিলিটি, আর অ্যান্ড ডি ফ্যাসিলিটি, প্রোডাকশন ফ্যাসিলিটি এবং অ্যানিমেল  হাউস পরিদর্শন করেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-২০ আসনের সাংসদ বেনজীর আহমেদ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল মান্নান, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল বাশার মো. খুরশীদ আলম, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মুক্তাদির।

জাহিদ মালেক আরো বলেন ‘অবকাঠামো এবং জিএমপি (গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস) মান অনুযায়ী ভ্যাকসিন উৎপাদনের মাধ্যমে ইনসেপ্টা ভ্যাকসিন লিমিটেড বিশ্বমানের প্ল্যান্ট হিসেবে সক্ষমতা অর্জন করেছে। কোভিডের এ সময়ে ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য অন্য কোনো দেশও এই প্ল্যান্ট ব্যবহার করতে পারবে, এতে বিশ্বের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হওয়ার ক্ষেত্রে ইনসেপ্টার ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা বড় ধরনের ভূমিকা পালন করবে।

২০১১ সালের জুন মাসে ঢাকার সাভারে ইনসেপ্টা ভ্যাকসিন লি. আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। যেখানে ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা পরিসরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জিএমপি নীতিমালা অনুযায়ী স্থাপিত প্ল্যান্ট ও ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য উন্নত মানসম্পন্ন সব যন্ত্রপাতি রয়েছে। এ ছাড়া বৃহৎ অ্যানিমেল হাউস এবং ভ্যাকসিন উৎপাদনের সব কাজ পরিচালনার জন্য বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ ফার্মাসিস্ট রয়েছে।

ইনসেপ্টা ভ্যাকসিন এখন পর্যন্ত র‌্যাবিস, র‌্যাবিস-আইজি, হেপাটাইটিস- বি, হেপাটাইটিস-এ, টাইফয়েড, টিটেনাস, টিটেনাস-আইজি, মিজেলস-রুবেলা, এন্টিভেনাম, ফ্লু ও মেনিনজাইটিসসহ বেশ কয়েক ধরনের ভ্যাকসিন অত্যন্ত সফলভাবে উৎপাদন ও বাজারজাত করেছে। কোম্পানিটি সারা দেশে নিজস্ব সুগঠিত এবং নিয়ন্ত্রিত কোল্ড চেইন সিস্টেমের মাধ্যমে ফ্যাক্টরি থেকে ডেলিভারি পর্যন্ত ভ্যাকসিন গুণগত মান নিশ্চিত করে।