পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী জনসভা

মমতার অত্যাচারের খেলা এবার বন্ধ হবে : মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, মমতার ১০ বছরের রাজ্যশাসনের খেলা এবার বন্ধ হবে। তার অত্যাচারের খেলা বন্ধ হবে। এ বাংলায় ২ মের পর ক্ষমতায় আসছে বিজেপি। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এ বাংলায় তৃণমূল হয়েছিল হাফ, এবার বিধানসভায় হবে সাফ।

গতকাল বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহলের পুরুলিয়া শহরের ভাঙরা নবকুঞ্জ ময়দানে বিজেপির নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে এবার মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জির ‘খেলা হবে’ সেøাগান জনপ্রিয়তা পেয়েছে। গতকাল তার এ সেøাগানের পাল্টা হিসেবে জনসভায় মোদি বলেন, ‘দিদি, ও দিদি আপনি ১০ বছর খেলেছেন। এখন আপনার সময় শেষ, খেলাও শেষ হবে। বিজেপির উন্নয়ন শুরু হবে।’

এনডিটিভি বলছে, পশ্চিমবঙ্গে আগামী ২৭ মার্চ থেকে আট ধাপে বিধানসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হবে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে দুবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে হটাতে বিজেপি শুরু থেকেই ‘আক্রমণাত্মক’ প্রচার চালাচ্ছে।

মমতাকে লক্ষ্য করে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যের দুর্নীতি ও উন্নয়নের ঘাটতি তুলে ধরে বলেন, ‘এ বাংলায় আর নয় অন্যায়, এবার হবে আসল পরিবর্তন। বাংলায় সিপিএম ও তৃণমূল কিছুই করেনি। এবার করবে বিজেপি। বিজেপি বাংলাকে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের মাধ্যমে সোনার বাংলা গড়ে তুলবে। বাংলায় তৃণমূলের অপশাসন বন্ধ করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দিদি বলেন, খেলা হবে; বিজেপি বলে চাকরি হবে, বাংলার উন্নয়ন হবে, স্কুল-কলেজ হবে, হাসপাতাল হবে, নারীরা স্বাবলম্বী হবে এবং ঘরে ঘরে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে।’

নরেন্দ্র মোদির অভিযোগ, ‘তৃণমূল সরকার নিজেদের স্বার্থে বাংলায় প্রশ্রয় দিয়েছে মাওবাদী ও অনুপ্রবেশকারীদের। বিজেপি সরকার এলে এসব সমস্যার সমাধান হবে। মানুষ নির্ভয়ে এ রাজ্যে শান্তিতে থাকবে। কর্মসংস্থানের জন্য তাদের ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হবে না।’

গত কয়েক দিন জঙ্গলমহলে বিজেপি নেতা অমিত শাহ থেকে জেপি নড্ডার সভায় সন্তোষজনক জমায়েত হয়নি। তবে গতকাল পুরুলিয়ায় লাখো মানুষ জড়ো হয়। সেখানে প্রত্যয়ী গলায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘দিদির সরকারের ক্ষণ গণনা শুরু হয়ে গেছে। এবার ভয় নয়, শুধু হবে জয়।’

এদিকে গতকাল দুপুরে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি গড়বেতায় প্রথম নির্বাচনী সভায় হুইলচেয়ারে বসে দেওয়া ভাষণে বলেন, ‘বিজেপি মিথ্যা বলার গ্যাস বেলুন। দুর্যোগের সময় বিজেপি নেতাদের দেখা মেলে না। কিন্তু ভোটের সময় তারা টাকার বাক্স নিয়ে হাজির হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওরা আসলে লুটেরা, সর্বনাশা দল। ওরা নির্বাচনী প্রচারে বাইরের লোক এনে ভয় দেখাবে, ভোট লুট করবে। সাবধান থাকতে হবে। একটি ভোটও এবার বিজেপিকে নয়, ভোট দেবেন তৃণমূলকে।’