গাজীপুরে যুবলীগ নেতা হত্যা

যুবদল-ছাত্রদলের ৫ জনের মৃত্যুদন্ড বহাল

২০০৩ সালের আগস্টে গাজীপুরে যুবলীগ নেতা জালাল উদ্দিন সরকার হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত যুবদল-ছাত্রদলের ১১ আসামির মধ্যে ৫ জনের মৃত্যুদন্ড হাইকোর্টে বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে অন্য পাঁচ আসামির মৃত্যুদন্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও একজনকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদন্ড অনুমোদনের নথি) ও আপিলের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার এ রায় দেয় বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

হাইকোর্টের রায়ে যাদের মৃত্যুদন্ড বহাল রয়েছে তারা হলেন কাপাসিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আবদুল আলীম, যুবদলকর্মী জজ মিয়া, আল-আমিন, ছাত্রদলের কর্মী বেলায়েত হোসেন ও ফারুক হোসেন। এছাড়া মৃত্যুদন্ডের সাজা কমে হাইকোর্টের রায়ে যাদের যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়েছে তারা হলেন কাপাসিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হালিম ফকির, যুবদলের কর্মী মাহবুবুর রহমান ও আতাউর রহমান, ছাত্রদলের কর্মী ফরহাদ হোসেন ও কাপাসিয়া কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক জুয়েল। হাইকোর্টের রায়ে যুবদলকর্মী জয়নাল আবেদীন খালাস পেয়েছেন। আসামিদের মধ্যে জজ মিয়া, আল-আমিন, হালিম ফকির ও মাহবুবুর রহমান পলাতক। বাকিরা কারাগারে।

আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এসএম শাহজাহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। পলাতকদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী হাফিজুর রহমান।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৩ সালের ১৭ আগস্ট রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে কাপাসিয়া উপজেলার বলখেলা বাজার এলাকায় যুবলীগের সাবেক সভাপতি জালাল সরকারকে (৩৫) প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেন আসামিরা। এ ঘটনার পর নিহতের বড় ভাই মিলন উদ্দিন সরকার বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০৪ সালে ২৩ জানুয়ারি ১১ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। বিচারকালে ২২ জন জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. ফজলে এলাহী ভূঁইয়া এক রায়ে ১১ আসামির সবাইকে মৃত্যুদন্ড দেন। এরপর দন্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে।