চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের কাজে স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা বাধা দেওয়ায় আর কাজ করছে না সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। জনবহুল সড়কটি অসমাপ্ত অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
হাজীগঞ্জ উপজেলার হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, কংগাইশ-হাড়িয়াইন এক কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি সম্পূর্ণ মাটি তুলে বালু ফেলে রাখা হয়েছে। তিন মাস ধরে সড়ক নির্মাণ করা বন্ধ থাকায় সড়কটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে করে কংগাইশ, হাড়িয়াইন ও বেলঘর গ্রামের পাঁচ হাজার বাসিন্দা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। এছাড়া ওই অঞ্চলের জমির ফসল পরিবহন করা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছে স্থানীয়রা।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, কংগাইশ-হাড়িয়াইন এক কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি নির্মাণে প্রায় ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় (এলজিইডি)। ২০২০ সালে শুরুর দিকে সড়কের নির্মাণকাজ শুরুর কথা থাকলেও ঠিকাদার কাজ শুরু করেন ওই বছরের শেষ দিকে।
স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ও মো. আলী বলেন, সড়কটির নির্মাণকাজের ঠিকাদারি পান হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের আবদুল কাদের। তিনি ২০২০ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ইট, খোয়া দিয়ে কাজ করতে গেলে বাধা দেন স্থানীয়রা। পরবর্তীকালে এলজিইডি অফিস থেকেও তার মানহীন নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নিয়ে যথাযথভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু নিম্নমানের কাজ করতে না দেওয়ার পর থেকে তিনি আর সড়কের কাজ করেননি। পুরো সড়কের মাটি সরিয়ে তাতে বালু ফেলে রাখায় আমরা তিন গ্রামের অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছি।
শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন বলেন, সড়কটি দিয়ে যানবাহন তো দূরের কথা, হেঁটে যাওয়ারই অবস্থা নেই। আমরা এই দুর্ভোগের হাত থেকে বাঁচতে চাই। গৃহবধূ আলেহা বেগম ও ফারজানা আক্তার বলেন, কেউ অসুস্থ হলে তাকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার উপায় রাখেনি ঠিকাদার। সন্তানসম্ভবা নারীদের এখন হয়েছে বিপদ। তবে কাজে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার আবদুল কাদের বলেন, টাকার অভাবে কাজ আপাতত বন্ধ। কোনো প্রকার নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি। যে ইট এনেছি তা ভালোমানের।
হাজীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল হক বলেন, ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করায় এলাকাবাসী বাধা দেয়। এর পরপরই তিনি কাজ বন্ধ করে দেন।
চাঁদপুর জেলা এলজিইডি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউনুছ হোসেন বিশ^াস বলেন, রাস্তা যথাযথভাবে নির্মাণে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে সতর্ক করা হয়েছে। আমরা সঠিকভাবে কাজ বুঝে নেব। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করা না হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।